প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগে পাবনায় মানববন্ধন
পাবনা জেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎ এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পাবনায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আব্দুল হামিদ সড়কে ‘পাবনার সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বরাবর একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেন।
জুলাই ঐক্য পরিষদ পাবনার সদস্য আবদুল্লাহ আল-নোমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ইমামুর রহমান, জাতীয় নাগরিক কমিটি পাবনার যুগ্ম-আহ্বায়ক নুর হোসেন শিমুল, পাবনা সদর উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদস্য সচিব মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, জুলাই রাজবন্দী অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ কবির তন্ময় এবং সাংবাদিক মোবারক হোসেন বিশ্বাস প্রমুখ।
পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ইমামুর রহমান স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, খালেদ হোসেন পরাগ তাঁর পদমর্যাদা ও প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাবনার ব্যবসায়ী সমাজকে জিম্মি করে অনৈতিক চাপ প্রয়োগ, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেল করে আসছেন।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, তিনি নিয়মিত মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী এবং হত্যা মামলার আসামিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, খালেদ হোসেন পরাগ ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার করে গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকদের নিয়মিত হুমকি দিতেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন বেকার যুবককে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দিলালপুর এলাকার মো. আবদুল নাহিদ মিয়া মিথুন নামের এক সহযোগীর মাধ্যমে পরাগ চাঁদাবাজির অর্থ আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র হিসাব নম্বর ০৫৪১০২০০১০১৫৪-এ পাঠাতে ব্যবসায়ীদের বাধ্য ও চাপ প্রয়োগ করতেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন আলোকচিত্রীর এসব অপকর্ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি ও সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে খালেদ হোসেন পরাগ ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদ হোসেন পরাগ বলেন, ‘যেসব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে, সেগুলোর কোনো ধরনের সত্যতা নাই। পুরোটাই ভুয়া আর মিথ্যা। কোথায় কার কাছে কবে কত টাকা চাঁদাবাজি করছি, কোথায় কার জমি দখল করেছি, তাঁরা দেখাক। তাঁরা আমার বিরুদ্ধে একটা অভিযোগেরও প্রমাণ দিতে পারবে না। মূলত বালিশ কাণ্ডের দুর্নীতির বিষয়টি আমি সামনে তুলে আনছি। তাঁরা বিভিন্ন সময়ে আমাকে প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করছে, আমি পাত্তা দিই নাই। কোনোভাবে আমাকে বাগে আনতে না পেরে তাঁরা আমার পেছনে ষড়যন্ত্রে নেমেছে।’

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: