অস্থির ডিম ও মাছের বাজার: ইলিশ ছোঁয়া দায়
রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি মিলছে না সাধারণ ক্রেতাদের। মাংস ও ব্রয়লার মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও সপ্তাহের ব্যবধানে হঠাৎ বেড়েছে ডিমের দাম। একইসঙ্গে মাছের বাজারও বেশ চড়া। বিশেষ করে ইলিশের আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ ক্রেতারা মাছের বাজারের দিকে তাকাতেই হিমশিম খাচ্ছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর রায়েরবাজার, ধানমন্ডি ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। গত সপ্তাহে যে ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকা ডজনে বিক্রি হয়েছিল, আজ তা ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রাউন কালারের (লাল) ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা মাসুম বলেন, "আড়ত থেকেই আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।"
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে অধিকাংশ মাছই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি ইলিশ নিয়ে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে।
অন্যান্য মাছের মধ্যে চিংড়ি ও ট্যাংরা মাছ মানভেদে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নদী ও বিলের মাছ যেমন বাইম বা বড় বোয়াল কিনতে গেলে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে এক হাজার টাকারও বেশি। তবে চাষের তেলাপিয়া (২২০-২৩০ টাকা), পাঙাশ (২০০-২২০ টাকা) এবং মাঝারি আকারের রুই (৩০০-৩৫০ টাকা) কিছুটা স্বাভাবিক দামে পাওয়া যাচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা মনতাজ উদ্দিন জানান, "বাজারে মাছের সরবরাহের তুলনায় ক্রেতা বেশি হওয়ায় এবং ইলিশের দাম কয়েক বছর ধরে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় সাধারণ মাছের দামও কিছুটা চড়া থাকছে।"
মাছ ও ডিমের দামে অস্থিরতা থাকলেও মাংসের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি গরুর মাংস আগের মতোই ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
মুরগির বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের জন্য এটিই এখন প্রোটিনের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজারে আসা ধানমন্ডির বাসিন্দা আনিসুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, "মাছের বাজারে হাত দেওয়ার উপায় নেই। শোল মাছ ৭০০ টাকা দিয়ে কিনলাম। ছোট-বড় সব মাছেরই দাম বাড়তি। বৃষ্টির কারণে দাম বেশি কি না জানি না, তবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।"
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষা মৌসুম এবং পরিবহণ খরচের অজুহাতে সিন্ডিকেট করে অনেক সময় দাম বাড়ানো হয়। বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: