infoamaderdin@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

ঢাকা জেলা পরিষদ টাওয়ার: ১৪ বছরের অচলাবস্থা কাটছে, তমার চুক্তি বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬ ২১:০৭ পিএম

রাজধানীর জনসন রোডে ঢাকা জেলা পরিষদের ২০ তলা বাণিজ্যিক ভবন (ঢাকা জেলা পরিষদ টাওয়ার) নির্মাণের দীর্ঘ ১৪ বছরের অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে। বারবার সময় নিয়েও কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোং লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে জেলা পরিষদ। একই সঙ্গে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি ক্রয়বিধি ও চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে গত ৫ জুলাই তমা কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়। ২০১২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ তিন বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১১ বছরে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশ। ২০১৭ সাল থেকে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে ছিল।

তিন বছরের কাজ ১১ বছরেও শেষ হয়নি
২০১২ সালে ১৬০ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে টাওয়ারটি নির্মাণের জন্য তমা কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়। জেলা পরিষদের নথিপত্র অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ে মাত্র ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ করে কাজ বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ফলে রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরকারি এই বিশাল স্থাপনাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে, যা থেকে কয়েকশ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সুযোগ ছিল।

নতুন করে শুরুর উদ্যোগ
বর্তমান প্রশাসক  ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ঝুলে থাকা এই প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে নড়াচড়া শুরু করেন। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা এবং ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই পুরোনো চুক্তি বাতিল করে নতুন করে কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক  ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ বলেন, “এই টাওয়ারটি শুধু একটি ভবন নয়, এটি জেলা পরিষদের আয়ের একটি বড় উৎস। কিন্তু দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এটি অবহেলায় পড়ে ছিল। আমরা সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং জনস্বার্থে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না।”

আগামীর পরিকল্পনা
জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে। আধুনিক প্রকৌশল পদ্ধতি অনুসরণ করে ভবনের অবশিষ্ট কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন নকশায় ভবনে আন্তর্জাতিক মানের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আধুনিক বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে।

ভবনটি সম্পন্ন হলে এটি রাজধানীর অন্যতম একটি সরকারি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে। এতে শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব আয় বহুগুণ বাড়বে।

প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ  আরও বলেন, “আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কাজটি শেষ করতে চাই। এটি সম্পন্ন হলে ঢাকা জেলা পরিষদ আর্থিক স্বনির্ভরতার নতুন ধাপে পৌঁছাবে।”

উল্লেখ্য, রাজধানীর পুরান ঢাকার জনসন রোডে অবস্থিত ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশেই এই টাওয়ারটির অবস্থান। দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যেও এটি নিয়ে ক্ষোভ ছিল। এখন নতুন করে কাজ শুরুর ঘোষণায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


ঢাকা জেলা পরিষদ টাওয়ার: ১৪ বছরের অচলাবস্থা কাটছে, তমার চুক্তি বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬ ২১:০৭ পিএম

রাজধানীর জনসন রোডে ঢাকা জেলা পরিষদের ২০ তলা বাণিজ্যিক ভবন (ঢাকা জেলা পরিষদ টাওয়ার) নির্মাণের দীর্ঘ ১৪ বছরের অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে। বারবার সময় নিয়েও কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোং লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে জেলা পরিষদ। একই সঙ্গে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি ক্রয়বিধি ও চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে গত ৫ জুলাই তমা কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়। ২০১২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ তিন বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১১ বছরে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশ। ২০১৭ সাল থেকে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে ছিল।

তিন বছরের কাজ ১১ বছরেও শেষ হয়নি
২০১২ সালে ১৬০ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে টাওয়ারটি নির্মাণের জন্য তমা কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়। জেলা পরিষদের নথিপত্র অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ে মাত্র ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ করে কাজ বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ফলে রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরকারি এই বিশাল স্থাপনাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে, যা থেকে কয়েকশ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সুযোগ ছিল।

নতুন করে শুরুর উদ্যোগ
বর্তমান প্রশাসক  ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ঝুলে থাকা এই প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে নড়াচড়া শুরু করেন। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা এবং ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই পুরোনো চুক্তি বাতিল করে নতুন করে কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক  ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ বলেন, “এই টাওয়ারটি শুধু একটি ভবন নয়, এটি জেলা পরিষদের আয়ের একটি বড় উৎস। কিন্তু দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এটি অবহেলায় পড়ে ছিল। আমরা সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং জনস্বার্থে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না।”

আগামীর পরিকল্পনা
জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে। আধুনিক প্রকৌশল পদ্ধতি অনুসরণ করে ভবনের অবশিষ্ট কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন নকশায় ভবনে আন্তর্জাতিক মানের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আধুনিক বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে।

ভবনটি সম্পন্ন হলে এটি রাজধানীর অন্যতম একটি সরকারি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে। এতে শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব আয় বহুগুণ বাড়বে।

প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ  আরও বলেন, “আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কাজটি শেষ করতে চাই। এটি সম্পন্ন হলে ঢাকা জেলা পরিষদ আর্থিক স্বনির্ভরতার নতুন ধাপে পৌঁছাবে।”

উল্লেখ্য, রাজধানীর পুরান ঢাকার জনসন রোডে অবস্থিত ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশেই এই টাওয়ারটির অবস্থান। দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যেও এটি নিয়ে ক্ষোভ ছিল। এখন নতুন করে কাজ শুরুর ঘোষণায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর