এসএসসি-সমমানে ফেল পৌনে ৭ লাখ
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। বিপরীতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে বেশি পাসের হার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এরপর যশোর বোর্ডে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং রাজশাহী বোর্ডে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
অন্যদিকে বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী। দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়।
সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮ জন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ জন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী।
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।
এবারের ফলাফলে পাসের হার কমার পাশাপাশি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: