infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে উত্তাল ভারত, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ-জলকামান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ১০ আগষ্ট ২০২৬ ১৮:০৮ পিএম

ভারতের ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আবারও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য। নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কার ও অনিয়মের তদন্তের দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজ্য বিধানসভা অভিমুখে মিছিল করলে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভের মধ্যে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান এল খিয়াংতেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য সিআইডি। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গত ২২ জুলাই জেপিএসসির চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের দাবিতে সকাল থেকেই ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা ট্রেন, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে রাজধানী রাঁচিতে জড়ো হন। পরে তারা বিধানসভা অভিমুখে মিছিল শুরু করেন। এ মিছিলে অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহতোও অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করলে আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে প্রবল পানির ধারা উপেক্ষা করে উল্লাস করতে দেখা যায়। এ দৃশ্য ভারতের অতীতের নিট আন্দোলনের কথাও মনে করিয়ে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিক্ষোভ ঘিরে রাঁচিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগস্থলে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর বেশিরভাগ স্কুল সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে।

রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ঠেকাতে জেলার সীমান্ত, প্রধান সড়ক ও মহাসড়কগুলোতেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রশাসন। বিভিন্ন স্থানে বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে।

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকার-নিযুক্ত একটি প্যানেলের একাধিক দফা আলোচনা হলেও সমাধান হয়নি। টানা ১৬ দিন ধরে চলা আন্দোলন প্রত্যাহারে শিক্ষার্থীদের রাজি করাতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ দফার বৈঠকেও কোনো সমঝোতা হয়নি।

শিক্ষার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্ত দাবি করছেন। তাদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

অন্যদিকে রাজ্য সরকারের দাবি, শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবির প্রায় ৯৮ শতাংশই তারা মেনে নিয়েছে। সরকার আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা মোট ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে সরকার মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিল করতে সম্মত হয়েছে। এ কারণে তাদের মূল দাবিগুলো পূরণ হয়নি বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে ছয়জন বিক্ষোভকারী অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেছেন, লাঠিচার্জ নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করা উচিত। এর আগে তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনার আহ্বানের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে উত্তাল ভারত, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ-জলকামান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ আগষ্ট ২০২৬ ১৮:০৮ পিএম

ভারতের ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আবারও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য। নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কার ও অনিয়মের তদন্তের দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজ্য বিধানসভা অভিমুখে মিছিল করলে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভের মধ্যে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান এল খিয়াংতেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য সিআইডি। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গত ২২ জুলাই জেপিএসসির চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের দাবিতে সকাল থেকেই ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা ট্রেন, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে রাজধানী রাঁচিতে জড়ো হন। পরে তারা বিধানসভা অভিমুখে মিছিল শুরু করেন। এ মিছিলে অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহতোও অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করলে আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে প্রবল পানির ধারা উপেক্ষা করে উল্লাস করতে দেখা যায়। এ দৃশ্য ভারতের অতীতের নিট আন্দোলনের কথাও মনে করিয়ে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিক্ষোভ ঘিরে রাঁচিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগস্থলে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর বেশিরভাগ স্কুল সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে।

রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ঠেকাতে জেলার সীমান্ত, প্রধান সড়ক ও মহাসড়কগুলোতেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রশাসন। বিভিন্ন স্থানে বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে।

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকার-নিযুক্ত একটি প্যানেলের একাধিক দফা আলোচনা হলেও সমাধান হয়নি। টানা ১৬ দিন ধরে চলা আন্দোলন প্রত্যাহারে শিক্ষার্থীদের রাজি করাতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ দফার বৈঠকেও কোনো সমঝোতা হয়নি।

শিক্ষার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্ত দাবি করছেন। তাদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

অন্যদিকে রাজ্য সরকারের দাবি, শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবির প্রায় ৯৮ শতাংশই তারা মেনে নিয়েছে। সরকার আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা মোট ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে সরকার মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিল করতে সম্মত হয়েছে। এ কারণে তাদের মূল দাবিগুলো পূরণ হয়নি বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে ছয়জন বিক্ষোভকারী অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেছেন, লাঠিচার্জ নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করা উচিত। এর আগে তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনার আহ্বানের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর