infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

কিছুতেই থামছে না নির্লজ্জ ঘুষের মহারাণী শর্মিষ্ঠার ঘুষ বাণিজ্য: অতিষ্ঠ ফিংড়ীবাসী

রাকিবুল ইসলাম প্রকাশিত: ১০ আগষ্ট ২০২৬ ১৮:০৮ পিএম

কথায় আছে, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙে, আর কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না। প্রবাদটির সত্যতা মিলেছে সাতক্ষীরার আলোচিত ভূমি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের ক্ষেত্রে।

সাতক্ষীরা জেলার বহুল আলোচিত নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ থামছেই না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘুষের টাকা নেওয়ার অভিযোগে বারবার সমালোচনায় এলেও তার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, মুখে সবসময় মাস্ক পরে থাকা শর্মিষ্ঠার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশের পর তাকে ফিংড়ীতে বদলি করা হয়। তবে ফিংড়ীতে গিয়েও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ফিংড়ীতে যোগদানের পর অফিস সহকারী ও নামজারি দালাল চক্রের মাধ্যমে নতুন করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে ঘুষের টাকার হিসাব-নিকাশ নিয়ে দফারফা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি নামজারির জন্য শর্মিষ্ঠাকে দিতে হবে ২ হাজার টাকা। ২ হাজার টাকার কম হলে ফাইল সার্ভারে আপডেট হবে না এবং নামজারি হবে না বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নামজারি দালাল চক্রের দাবি, পূর্বে নায়েবদের ১ হাজার টাকা দিতে হতো। ২ হাজার টাকা হলে তাদের জন্যও বেশি হয়ে যায়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, শর্মিষ্ঠা সরকার এতে রাগান্বিত হয়ে বলেন, ২ হাজার টাকার এক পয়সাও কম হবে না। একপর্যায়ে দালাল চক্র তার প্রস্তাব মেনে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে গিয়ে জানা গেছে, নামজারির জন্য ৬ হাজার টাকা, রিপোর্ট প্রদানের জন্য ২ হাজার টাকা, খাজনা দাখিলার জন্য ১ হাজার টাকা এবং ইজারাসহ ঝামেলাপূর্ণ জমির ক্ষেত্রে লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ফাইলের ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে থাকাকালীন শর্মিষ্ঠা সরকার নিজেই নামজারি দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি তৎকালীন এসিল্যান্ড বদরুদ্দোজার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলেছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, ওই সময় একটি দুর্নীতি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যার নেতৃত্বে ছিলেন এসিল্যান্ড নিজেই এবং তার অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন সদর ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকার।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো সেবাগ্রহীতা ভূমি অফিসে গেলে সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরতেন। এরপর ওই সেবাগ্রহীতাকে নিয়ে যাওয়া হতো নায়েব শর্মিষ্ঠার কাছে। প্রথমে বিভিন্ন জটিলতা ও যুক্তি দেখিয়ে ফাইল ঘোরানো হতো। একপর্যায়ে সেবাগ্রহীতা ঘুষের টাকার বিষয়ে চুক্তি করতে বাধ্য হতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর নির্ধারিত টাকার বিষয়ে দরদাম শুরু হতো। শর্মিষ্ঠার চাহিদা অনুযায়ী টাকা দেওয়া হলে তিনি নিজেই এসিল্যান্ডের কাছে ফাইলের কার্যক্রম শুরু করতেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। তাদের দাবি, নায়েব শর্মিষ্ঠার সম্মতি পাওয়ার পরই এসিল্যান্ড ফাইলের কার্যক্রম শুরু করতেন।

এ ছাড়া এসিল্যান্ড বদরুদ্দোজার সঙ্গে নায়েব শর্মিষ্ঠার ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাকে এসিল্যান্ডের কক্ষে এবং গাড়িতে প্রায়ই দেখা যেত বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, এক সাংবাদিকের সঙ্গে শর্মিষ্ঠার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কিছু কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ওই সম্পর্কের সূত্রে শর্মিষ্ঠা ওই সাংবাদিকের কাছ থেকে দামি উপহার ও নগদ অর্থ নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ফিংড়ীর মনিরুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকার ১৪৫ ধারার একটি রিপোর্টের জন্য ২ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু রিপোর্ট প্রদান না করে তালবাহানা করে ঘুরাতে থাকেন। তিনি বর্তমানে জেলার আলোচিত দুর্নীতিবাজদের একজন। দুর্নীতির অভিযোগে বদলি হলেও ফিংড়ীতে এসেও একই কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। ঘুষের টাকা নিচ্ছেন, কিন্তু কাজ না করে ঘুরাচ্ছেন।’

অপর ভুক্তভোগী জাফর জানান, আগরদাড়ি ইউনিয়নের কাশেমপুর মৌজায় তাদের একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তখন নায়েব শর্মিষ্ঠা আগরদাড়ি ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভূমি অফিসে নায়েব শর্মিষ্ঠার কাছে গেলে তিনি ৩ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি ৩ হাজার টাকা দেওয়ার পরও তিনি আমার বিপক্ষে রিপোর্ট দেন। আমার অভিযোগ, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে তিনি এমন রিপোর্ট দিয়েছেন।’

আরেক ভুক্তভোগী ফিংড়ীর আলামিন হোসেন বলেন, ‘৫-৬ দিন আগে ফিংড়ী ভূমি অফিসে নামজারির জন্য আমি ও আমার মা যাই। সেখানে এক দালাল আমার কাছে ৭ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি বলেন, সবকিছু সম্পূর্ণ করে দেবেন। আমি দালালের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে নায়েব শর্মিষ্ঠার কাছে গেলে তিনিও একই কথা বলেন। নায়েব শর্মিষ্ঠা বলেন, অফিসের খরচখরচা দিন, আপনার নামজারি হয়ে যাবে। পরে তিনি ওই দালালের কাছে যেতে বলেন। বাধ্য হয়ে সেই দালালের কাছে যাই এবং চুক্তি অনুযায়ী ৭ হাজার টাকা দিই।’

আলামিন হোসেন আরও বলেন, ‘এই মহিলা ফিংড়ীর নিরীহ মানুষের রক্ত চুষে খেতে এসেছে।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারকে একাধিকবার ফোন করা হয়। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


কিছুতেই থামছে না নির্লজ্জ ঘুষের মহারাণী শর্মিষ্ঠার ঘুষ বাণিজ্য: অতিষ্ঠ ফিংড়ীবাসী

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১০ আগষ্ট ২০২৬ ১৮:০৮ পিএম

কথায় আছে, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙে, আর কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না। প্রবাদটির সত্যতা মিলেছে সাতক্ষীরার আলোচিত ভূমি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের ক্ষেত্রে।

সাতক্ষীরা জেলার বহুল আলোচিত নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ থামছেই না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘুষের টাকা নেওয়ার অভিযোগে বারবার সমালোচনায় এলেও তার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, মুখে সবসময় মাস্ক পরে থাকা শর্মিষ্ঠার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশের পর তাকে ফিংড়ীতে বদলি করা হয়। তবে ফিংড়ীতে গিয়েও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ফিংড়ীতে যোগদানের পর অফিস সহকারী ও নামজারি দালাল চক্রের মাধ্যমে নতুন করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে ঘুষের টাকার হিসাব-নিকাশ নিয়ে দফারফা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি নামজারির জন্য শর্মিষ্ঠাকে দিতে হবে ২ হাজার টাকা। ২ হাজার টাকার কম হলে ফাইল সার্ভারে আপডেট হবে না এবং নামজারি হবে না বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নামজারি দালাল চক্রের দাবি, পূর্বে নায়েবদের ১ হাজার টাকা দিতে হতো। ২ হাজার টাকা হলে তাদের জন্যও বেশি হয়ে যায়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, শর্মিষ্ঠা সরকার এতে রাগান্বিত হয়ে বলেন, ২ হাজার টাকার এক পয়সাও কম হবে না। একপর্যায়ে দালাল চক্র তার প্রস্তাব মেনে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে গিয়ে জানা গেছে, নামজারির জন্য ৬ হাজার টাকা, রিপোর্ট প্রদানের জন্য ২ হাজার টাকা, খাজনা দাখিলার জন্য ১ হাজার টাকা এবং ইজারাসহ ঝামেলাপূর্ণ জমির ক্ষেত্রে লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ফাইলের ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে থাকাকালীন শর্মিষ্ঠা সরকার নিজেই নামজারি দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি তৎকালীন এসিল্যান্ড বদরুদ্দোজার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলেছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, ওই সময় একটি দুর্নীতি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যার নেতৃত্বে ছিলেন এসিল্যান্ড নিজেই এবং তার অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন সদর ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকার।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো সেবাগ্রহীতা ভূমি অফিসে গেলে সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরতেন। এরপর ওই সেবাগ্রহীতাকে নিয়ে যাওয়া হতো নায়েব শর্মিষ্ঠার কাছে। প্রথমে বিভিন্ন জটিলতা ও যুক্তি দেখিয়ে ফাইল ঘোরানো হতো। একপর্যায়ে সেবাগ্রহীতা ঘুষের টাকার বিষয়ে চুক্তি করতে বাধ্য হতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর নির্ধারিত টাকার বিষয়ে দরদাম শুরু হতো। শর্মিষ্ঠার চাহিদা অনুযায়ী টাকা দেওয়া হলে তিনি নিজেই এসিল্যান্ডের কাছে ফাইলের কার্যক্রম শুরু করতেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। তাদের দাবি, নায়েব শর্মিষ্ঠার সম্মতি পাওয়ার পরই এসিল্যান্ড ফাইলের কার্যক্রম শুরু করতেন।

এ ছাড়া এসিল্যান্ড বদরুদ্দোজার সঙ্গে নায়েব শর্মিষ্ঠার ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাকে এসিল্যান্ডের কক্ষে এবং গাড়িতে প্রায়ই দেখা যেত বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, এক সাংবাদিকের সঙ্গে শর্মিষ্ঠার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কিছু কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ওই সম্পর্কের সূত্রে শর্মিষ্ঠা ওই সাংবাদিকের কাছ থেকে দামি উপহার ও নগদ অর্থ নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ফিংড়ীর মনিরুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকার ১৪৫ ধারার একটি রিপোর্টের জন্য ২ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু রিপোর্ট প্রদান না করে তালবাহানা করে ঘুরাতে থাকেন। তিনি বর্তমানে জেলার আলোচিত দুর্নীতিবাজদের একজন। দুর্নীতির অভিযোগে বদলি হলেও ফিংড়ীতে এসেও একই কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। ঘুষের টাকা নিচ্ছেন, কিন্তু কাজ না করে ঘুরাচ্ছেন।’

অপর ভুক্তভোগী জাফর জানান, আগরদাড়ি ইউনিয়নের কাশেমপুর মৌজায় তাদের একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তখন নায়েব শর্মিষ্ঠা আগরদাড়ি ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভূমি অফিসে নায়েব শর্মিষ্ঠার কাছে গেলে তিনি ৩ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি ৩ হাজার টাকা দেওয়ার পরও তিনি আমার বিপক্ষে রিপোর্ট দেন। আমার অভিযোগ, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে তিনি এমন রিপোর্ট দিয়েছেন।’

আরেক ভুক্তভোগী ফিংড়ীর আলামিন হোসেন বলেন, ‘৫-৬ দিন আগে ফিংড়ী ভূমি অফিসে নামজারির জন্য আমি ও আমার মা যাই। সেখানে এক দালাল আমার কাছে ৭ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি বলেন, সবকিছু সম্পূর্ণ করে দেবেন। আমি দালালের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে নায়েব শর্মিষ্ঠার কাছে গেলে তিনিও একই কথা বলেন। নায়েব শর্মিষ্ঠা বলেন, অফিসের খরচখরচা দিন, আপনার নামজারি হয়ে যাবে। পরে তিনি ওই দালালের কাছে যেতে বলেন। বাধ্য হয়ে সেই দালালের কাছে যাই এবং চুক্তি অনুযায়ী ৭ হাজার টাকা দিই।’

আলামিন হোসেন আরও বলেন, ‘এই মহিলা ফিংড়ীর নিরীহ মানুষের রক্ত চুষে খেতে এসেছে।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারকে একাধিকবার ফোন করা হয়। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর