infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর শেষ, ২৪ ঘণ্টায় আবার হকারদের দখলে ফুটপাত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১০ আগষ্ট ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে উচ্ছেদের পর নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাতগুলো আবারও হকারদের দখলে চলে গেছে। সফর শেষ হওয়ার এক দিনের মধ্যেই কাজীর দেউড়িসহ ব্যস্ত এলাকাগুলোর ফুটপাতে ফের দোকানপাট বসতে শুরু করেছে। এতে পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে এবং সাময়িক উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ওই অভিযানে কাজীর দেউড়িসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত থেকে অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি নতুন রং ও তুলির আঁচড়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সাজানো হয়। এতে নগরবাসীর মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসে।

তবে সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরের পর থেকেই বদলাতে থাকে পরিস্থিতি। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কাজীর দেউড়ি এলাকায় ফুটপাতের ওপর আবারও দোকানপাট নিয়ে বসতে শুরু করেন হকাররা।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগের সময়ের মতোই ফুটপাতের বিভিন্ন অংশ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন হকাররা। এতে পথচারীদের ফুটপাত ছেড়ে সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হকার বলেন, জীবিকার তাগিদেই তারা ফুটপাতে বসেন। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা হলে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। তাদের দাবি, বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ করা হলেও স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে কিছুদিন পর আবারও তারা আগের জায়গায় ফিরে আসতে বাধ্য হন।

এক হকার বলেন, ‘পেটের দায়ে আমাদের ফুটপাতে বসতে হয়। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে হঠাৎ উচ্ছেদ করলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে বারবার উচ্ছেদ না করে প্রশাসনের উচিত বিকল্প ব্যবস্থা করা।’

ফুটপাত পুনরায় দখল হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন পথচারীরাও। পথচারী মো. জাহেদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ফুটপাতগুলো পরিপাটি ছিল এবং স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটা যাচ্ছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা না যেতেই আবার আগের চিত্র ফিরে এসেছে।

আরেক পথচারী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফুটপাতে অবৈধভাবে বসানো দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ে। ফলে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ থাকে না। বাধ্য হয়ে অনেককে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অব্যবস্থাপনা দূর করে নগরের গুরুত্বপূর্ণ কাজীর দেউড়ি মোড়কে নান্দনিক রূপ দিতে তারা কাজ করছে। সার্কিট হাউসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় এলাকাটি নিয়মিত তদারকির আওতায় রাখা হবে।

চসিকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহনের চলাচল করা এই এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান ও তদারকি অব্যাহত থাকবে।

তবে নগরবাসীর দাবি, শুধু বিশেষ কোনো ব্যক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ অতিথির সফরকে কেন্দ্র করে সাময়িক উচ্ছেদ অভিযান চালালে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি হকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট বিকল্প ব্যবস্থা ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তাহলেই ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর শেষ, ২৪ ঘণ্টায় আবার হকারদের দখলে ফুটপাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ আগষ্ট ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে উচ্ছেদের পর নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাতগুলো আবারও হকারদের দখলে চলে গেছে। সফর শেষ হওয়ার এক দিনের মধ্যেই কাজীর দেউড়িসহ ব্যস্ত এলাকাগুলোর ফুটপাতে ফের দোকানপাট বসতে শুরু করেছে। এতে পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে এবং সাময়িক উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ওই অভিযানে কাজীর দেউড়িসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত থেকে অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি নতুন রং ও তুলির আঁচড়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সাজানো হয়। এতে নগরবাসীর মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসে।

তবে সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরের পর থেকেই বদলাতে থাকে পরিস্থিতি। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কাজীর দেউড়ি এলাকায় ফুটপাতের ওপর আবারও দোকানপাট নিয়ে বসতে শুরু করেন হকাররা।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগের সময়ের মতোই ফুটপাতের বিভিন্ন অংশ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন হকাররা। এতে পথচারীদের ফুটপাত ছেড়ে সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হকার বলেন, জীবিকার তাগিদেই তারা ফুটপাতে বসেন। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা হলে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। তাদের দাবি, বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ করা হলেও স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে কিছুদিন পর আবারও তারা আগের জায়গায় ফিরে আসতে বাধ্য হন।

এক হকার বলেন, ‘পেটের দায়ে আমাদের ফুটপাতে বসতে হয়। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে হঠাৎ উচ্ছেদ করলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে বারবার উচ্ছেদ না করে প্রশাসনের উচিত বিকল্প ব্যবস্থা করা।’

ফুটপাত পুনরায় দখল হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন পথচারীরাও। পথচারী মো. জাহেদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ফুটপাতগুলো পরিপাটি ছিল এবং স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটা যাচ্ছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা না যেতেই আবার আগের চিত্র ফিরে এসেছে।

আরেক পথচারী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফুটপাতে অবৈধভাবে বসানো দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ে। ফলে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ থাকে না। বাধ্য হয়ে অনেককে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অব্যবস্থাপনা দূর করে নগরের গুরুত্বপূর্ণ কাজীর দেউড়ি মোড়কে নান্দনিক রূপ দিতে তারা কাজ করছে। সার্কিট হাউসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় এলাকাটি নিয়মিত তদারকির আওতায় রাখা হবে।

চসিকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহনের চলাচল করা এই এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান ও তদারকি অব্যাহত থাকবে।

তবে নগরবাসীর দাবি, শুধু বিশেষ কোনো ব্যক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ অতিথির সফরকে কেন্দ্র করে সাময়িক উচ্ছেদ অভিযান চালালে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি হকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট বিকল্প ব্যবস্থা ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তাহলেই ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর