আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, দৌলতপুরে শরীরে আগুন দিলেন নারী
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাসলিমা খাতুন (২৮) নামে এক নারী নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ শান্তিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাসলিমা খাতুন স্বামী পরিত্যক্তা এবং দুই সন্তানের জননী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার জেহেল আলীর ছেলে সাদ্দাম (৩০) নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাসলিমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পরিবারের অভিযোগ, সাদ্দাম কৌশলে তাসলিমার একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও মুছে ফেলার জন্য তাসলিমা তাঁকে বারবার অনুরোধ করলেও তিনি ভিডিওটি মুছে দেননি। বরং বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভিডিওটি দেখানো এবং মোবাইল ফোনে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তাসলিমার পরিবারের দাবি, সাদ্দাম বিভিন্ন সময়ে তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। শনিবার বিয়ের বিষয়ে আবারও কথা বলতে গেলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাসলিমা বাড়িতে ফিরে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি সাদ্দামের বাড়ির কাছে গিয়ে নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তাসলিমার সঙ্গে সাদ্দামের সম্পর্ক কিংবা তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তাসলিমার মা ছাবেরন নেছা। তিনি বলেন, সাদ্দাম একজন ভ্যানচালক। তাঁদের বাসা আগে মিরপুর উপজেলায় থাকাকালে মালামাল পরিবহনের কাজে তাঁকে ভাড়া করা হতো। কয়েকদিন আগে সাদ্দাম তাঁদের বাড়ির টিন কেটে তাসলিমার একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ছাবেরন নেছার অভিযোগ, ভিডিওটি মুছে ফেলার জন্য তাঁর মেয়ে সাদ্দামকে বারবার অনুরোধ করলেও তিনি তা করেননি। বরং বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভিডিওটি দেখিয়েছেন এবং তাঁদের মোবাইল ফোনে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় লোকলজ্জা ও মানসম্মানের ভয়ে তাঁর মেয়ে নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার বিচারও দাবি করেন তাসলিমার মা।
এ ঘটনায় তাসলিমার পরিবারের পক্ষ থেকে দৌলতপুর থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, তাঁরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: