মীরসরাই ইকোনমিক জোনে কারখানায় ডাকাতি
৩২ ঘণ্টার অভিযানে মালামাল উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার ৭
চট্টগ্রামের মীরসরাই ইকোনমিক জোনের একটি নির্মাণাধীন কারখানায় ডাকাত দলের হানা ও নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে মালামাল লুটের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টানা ৩২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় লুণ্ঠিত বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) তাঁদের জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। এর আগে গত রোববার (৯ আগস্ট) রাত দুইটার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন মীরসরাই ইকোনমিক জোনের ‘বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ নামের নির্মাণাধীন কারখানায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, রোববার রাতে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি ডাকাত দল কারখানায় প্রবেশ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এরপর ডাকাতেরা তিনটি মোবাইল ফোন এবং আনুমানিক ২৫০ মিটার লম্বা বৈদ্যুতিক তারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় একটি ডাকাতি মামলা (মামলা নম্বর-৯) করা হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল মাসুদকে।
মামলা রুজুর পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের দিকনির্দেশনায় এবং মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে অভিযানে নামে পুলিশের একটি দল। মীরসরাই ইকোনমিক জোন ও আশপাশের এলাকায় টানা ৩২ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে এই সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার হওয়া মেহেদী হাসান, মো. রাকিব ও এমদাদুল হকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোর চারটার দিকে ডাকাতি হওয়া বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া সাত আসামি হলেন—মেহেদী হাসান (২৩), মো. রাকিব (২১), সুজাউল হক ওরফে সুজা উল্লাহ (২৪), এমদাদুল হক ওরফে এমরান (২৮), মিজান উদ্দিন (৩২), মো. সাখাওয়াত হোসেন ওরফে নাহিদ (২৪) এবং ইউসুফ ওরফে ডাক্তার (২৬)। তাঁরা সবাই জোরারগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, গ্রেপ্তার সাতজনকে কড়া পুলিশ পাহারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত গ্রেপ্তার ইউসুফ ওরফে ডাক্তারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে ৩টি এবং মো. রাকিবের বিরুদ্ধে ১টি মামলায় আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলতবি ছিল।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: