infoamaderdin@gmail.com শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

গ্যাস সংকট আরও তীব্র, রাতে সামিট থেকে সরবরাহ বাড়ার আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৫ আগষ্ট ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম

তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট চলছে। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এলএনজি নিয়ে নতুন একটি জাহাজ বঙ্গোপসাগরে এসেছে। রাতের মধ্যে ওই জাহাজ থেকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করা হবে।

ইতিমধ্যে টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি থেকে স্বল্পমাত্রায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আগামীকাল শনিবার সকাল থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আমদানির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। আমদানির সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে আজ বিকেল চারটায় আবারও বন্ধ হয়ে যায় মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল। রাত আটটা পর্যন্ত সেখান থেকে সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এতে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

পেট্রোবাংলার দুই কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলোতে জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সক্ষমতা থাকতে হয়। কিন্তু সৌদি আরামকোর পাঠানো আগের জাহাজটিতে এ সক্ষমতা ছিল না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ আগেই আপত্তি জানালেও আরামকো ওই জাহাজ পাঠায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ওই জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়া সম্ভব হয়নি। সমুদ্র শান্ত থাকলে হয়তো এলএনজি স্থানান্তর করা যেত। গতকাল জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিবর্তে আরামকো আরেকটি এলএনজি জাহাজ পাঠাবে। এদিকে ভিটল এশিয়ার নতুন জাহাজ থেকে এলএনজি নিতে কোনো সমস্যা হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ধরনের জাহাজ থেকে এলএনজি গ্রহণে সামিটের টার্মিনাল অভ্যস্ত।

এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানায়, আজ সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভিটলের জাহাজটি সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হয়েছে। জাহাজ থেকে এলএনজি স্থানান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু করতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। সে হিসাবে রাত ২টার দিকে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা। এরপর ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়ানো হবে। শনিবার সকালে তা ৫০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে। এরই মধ্যে টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি থেকে সামিট প্রায় ৯ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ শুরু করেছে।

মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমানো হয়। মঙ্গলবার তা ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত সরবরাহ করা হচ্ছিল ১০ কোটি ঘনফুট। গতকাল বিকেল ৫টায় তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ রাতে বলেন, বৈরী আবহাওয়া এবং জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য না থাকায় আরামকোর জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়া সম্ভব হয়নি। আরামকো নতুন একটি জাহাজ পাঠাবে। এরই মধ্যে অন্য একটি জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়া শুরু করেছে সামিট। পাশাপাশি এক্সিলারেটের টার্মিনালে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় সেখান থেকেও সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে সংকট তীব্র হয়। রান্নার চুলা থেকে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে। সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ সারি দেখা দেয়।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছিল। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ওই টার্মিনাল থেকে সরবরাহ শূন্যে নেমেছে। আজ রাতের মধ্যে সেটি আবার চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালুর কাজও চলছে। তবে সেটি চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে। এ কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ রাখতে হতে পারে। কখন এই কাজ করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়নি এবং এতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। গতকাল বিকেল থেকে এলএনজি সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে যাওয়ায় দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ১৯৩ কোটি ঘনফুটে। এর আগে তা ছিল প্রায় ২০৩ কোটি ঘনফুট।

সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়লে ধাপে ধাপে ৫০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। তখন এলএনজি থেকে মোট সরবরাহ দাঁড়াবে প্রায় ৮০ কোটি ঘনফুট এবং দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে হতে পারে ২৪৩ কোটি ঘনফুট। এতে সংকটের তীব্রতা কিছুটা কমবে, তবে ঘাটতি পুরোপুরি দূর হবে না।

অন্যদিকে, এক্সিলারেটের টার্মিনাল আজ রাতে চালু করা না গেলে আগামীকালও গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট কম থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে মোট সরবরাহ ২০৩ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি থাকবে এবং সংকটও অব্যাহত থাকবে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এর তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান নেই। অনেকটাই প্রকৃতির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। গত দুই দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কমেছে, ফলে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও কিছুটা কমেছে। তবে গরম বাড়লে আবার বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং বাড়তে পারে লোডশেডিং।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


গ্যাস সংকট আরও তীব্র, রাতে সামিট থেকে সরবরাহ বাড়ার আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ আগষ্ট ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম

তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট চলছে। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এলএনজি নিয়ে নতুন একটি জাহাজ বঙ্গোপসাগরে এসেছে। রাতের মধ্যে ওই জাহাজ থেকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করা হবে।

ইতিমধ্যে টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি থেকে স্বল্পমাত্রায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আগামীকাল শনিবার সকাল থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আমদানির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। আমদানির সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে আজ বিকেল চারটায় আবারও বন্ধ হয়ে যায় মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল। রাত আটটা পর্যন্ত সেখান থেকে সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এতে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

পেট্রোবাংলার দুই কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলোতে জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সক্ষমতা থাকতে হয়। কিন্তু সৌদি আরামকোর পাঠানো আগের জাহাজটিতে এ সক্ষমতা ছিল না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ আগেই আপত্তি জানালেও আরামকো ওই জাহাজ পাঠায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ওই জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়া সম্ভব হয়নি। সমুদ্র শান্ত থাকলে হয়তো এলএনজি স্থানান্তর করা যেত। গতকাল জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিবর্তে আরামকো আরেকটি এলএনজি জাহাজ পাঠাবে। এদিকে ভিটল এশিয়ার নতুন জাহাজ থেকে এলএনজি নিতে কোনো সমস্যা হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ধরনের জাহাজ থেকে এলএনজি গ্রহণে সামিটের টার্মিনাল অভ্যস্ত।

এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানায়, আজ সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভিটলের জাহাজটি সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হয়েছে। জাহাজ থেকে এলএনজি স্থানান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু করতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। সে হিসাবে রাত ২টার দিকে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা। এরপর ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়ানো হবে। শনিবার সকালে তা ৫০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে। এরই মধ্যে টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি থেকে সামিট প্রায় ৯ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ শুরু করেছে।

মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমানো হয়। মঙ্গলবার তা ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত সরবরাহ করা হচ্ছিল ১০ কোটি ঘনফুট। গতকাল বিকেল ৫টায় তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ রাতে বলেন, বৈরী আবহাওয়া এবং জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য না থাকায় আরামকোর জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়া সম্ভব হয়নি। আরামকো নতুন একটি জাহাজ পাঠাবে। এরই মধ্যে অন্য একটি জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়া শুরু করেছে সামিট। পাশাপাশি এক্সিলারেটের টার্মিনালে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় সেখান থেকেও সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে সংকট তীব্র হয়। রান্নার চুলা থেকে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে। সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ সারি দেখা দেয়।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছিল। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ওই টার্মিনাল থেকে সরবরাহ শূন্যে নেমেছে। আজ রাতের মধ্যে সেটি আবার চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালুর কাজও চলছে। তবে সেটি চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে। এ কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ রাখতে হতে পারে। কখন এই কাজ করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়নি এবং এতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। গতকাল বিকেল থেকে এলএনজি সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে যাওয়ায় দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ১৯৩ কোটি ঘনফুটে। এর আগে তা ছিল প্রায় ২০৩ কোটি ঘনফুট।

সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়লে ধাপে ধাপে ৫০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। তখন এলএনজি থেকে মোট সরবরাহ দাঁড়াবে প্রায় ৮০ কোটি ঘনফুট এবং দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে হতে পারে ২৪৩ কোটি ঘনফুট। এতে সংকটের তীব্রতা কিছুটা কমবে, তবে ঘাটতি পুরোপুরি দূর হবে না।

অন্যদিকে, এক্সিলারেটের টার্মিনাল আজ রাতে চালু করা না গেলে আগামীকালও গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট কম থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে মোট সরবরাহ ২০৩ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি থাকবে এবং সংকটও অব্যাহত থাকবে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এর তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান নেই। অনেকটাই প্রকৃতির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। গত দুই দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কমেছে, ফলে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও কিছুটা কমেছে। তবে গরম বাড়লে আবার বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং বাড়তে পারে লোডশেডিং।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর