infoamaderdin@gmail.com রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

ঝুম বৃষ্টিতে ড্রেনের ঢালাই, সাতক্ষীরায় কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৭ পিএম

‘জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো’ প্রকল্পের টাকায় ড্রেন নির্মাণের ঢালাই কাজ চলছে কিন্তু গুণগত মান নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। কারণ বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকায় এই ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ কাজ সচল রাখা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও শহরের অন্যতম ব্যস্ত সরকারি কলেজ-ঝুটিতলা সড়কের ফজিলা কন্টাক্টারের বাড়ির সম্মুখে এই ঢালাই কাজ চলতে দেখা যায়। ঝুম বৃষ্টির মধ্যে এভাবে তড়িঘড়ি করে দায়সাড়া কাজ করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (কে-এফ-ডাব্লিউ) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্ট (সিআরআইএমপি)’-এর আওতায় এই উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিবরণী থেকে জানা যায়, ১ কোটি ৮১ হাজার ৫৫৯ টাকা ৬১ পয়সা ব্যয়ে ৪২৪ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি ড্রেনটি নির্মাণ করা হচ্ছে, যেটি কাটিয়া লস্করপাড়া সাজেদুল করিমের বাড়ি থেকে শুরু হয়ে লস্করপাড়া ঈদগাহ মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত। চুক্তি অনুযায়ী ‘মনির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিঃ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের ১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা রয়েছে। তবে ১ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পটি সম্প্রতি শুরু হয়েছে।

এদিকে সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়রবিদ জুলফিকার আলী জানান, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত থেকে শুরু করে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত জেলায় রেকর্ড ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী কয়েকদিনও এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টির পানিতে সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণ ধুয়ে যাচ্ছে, যা কিনা ড্রেনের স্থায়িত্বকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে। সরকারি কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে এভাবে চোখের সামনে অনিয়ম চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

ঝুম বৃষ্টির মধ্যে ঢালাইয়ের বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মীরা। এ প্রসঙ্গে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (ক্যাফ)-এর সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন বলেন, যে প্রকল্পটি করা হচ্ছে চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা করে শহরকে টেকসই রাখার জন্য, সেই ‘জলবায়ু সহনশীল’ প্রকল্পের কাজই যদি এমন চরম বৃষ্টির মধ্যে নিয়ম না মেনে করা হয়, তবে তা চরম প্রহসন। বৃষ্টির পানির তোড়ে সিমেন্টের সঠিক অনুপাত ঠিক থাকে না, ফলে ঢালাই দুর্বল হয়ে যায়। জলবায়ু তহবিলের এই অর্থ আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অধিকার। এর সঠিক ব্যবহার এবং শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যথায় এই কোটি কোটি টাকার প্রকল্প প্রথম বর্ষাতেই ধসে পড়বে।

এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম নূর আহম্মদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে বক্তব্য জানতে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, এটা (ঢালাই) দুপাশের বর্ডার লাইন করে তারপরে করা হচ্ছে। অর্থাৎ দুপাশে স্টিলের শিট আটকে দিয়ে তারপরে ঢালাই করা হচ্ছে। তারপরেও বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


ঝুম বৃষ্টিতে ড্রেনের ঢালাই, সাতক্ষীরায় কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৭ পিএম

‘জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো’ প্রকল্পের টাকায় ড্রেন নির্মাণের ঢালাই কাজ চলছে কিন্তু গুণগত মান নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। কারণ বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকায় এই ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ কাজ সচল রাখা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও শহরের অন্যতম ব্যস্ত সরকারি কলেজ-ঝুটিতলা সড়কের ফজিলা কন্টাক্টারের বাড়ির সম্মুখে এই ঢালাই কাজ চলতে দেখা যায়। ঝুম বৃষ্টির মধ্যে এভাবে তড়িঘড়ি করে দায়সাড়া কাজ করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (কে-এফ-ডাব্লিউ) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্ট (সিআরআইএমপি)’-এর আওতায় এই উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিবরণী থেকে জানা যায়, ১ কোটি ৮১ হাজার ৫৫৯ টাকা ৬১ পয়সা ব্যয়ে ৪২৪ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি ড্রেনটি নির্মাণ করা হচ্ছে, যেটি কাটিয়া লস্করপাড়া সাজেদুল করিমের বাড়ি থেকে শুরু হয়ে লস্করপাড়া ঈদগাহ মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত। চুক্তি অনুযায়ী ‘মনির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিঃ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের ১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা রয়েছে। তবে ১ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পটি সম্প্রতি শুরু হয়েছে।

এদিকে সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়রবিদ জুলফিকার আলী জানান, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত থেকে শুরু করে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত জেলায় রেকর্ড ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী কয়েকদিনও এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টির পানিতে সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণ ধুয়ে যাচ্ছে, যা কিনা ড্রেনের স্থায়িত্বকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে। সরকারি কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে এভাবে চোখের সামনে অনিয়ম চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

ঝুম বৃষ্টির মধ্যে ঢালাইয়ের বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মীরা। এ প্রসঙ্গে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (ক্যাফ)-এর সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন বলেন, যে প্রকল্পটি করা হচ্ছে চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা করে শহরকে টেকসই রাখার জন্য, সেই ‘জলবায়ু সহনশীল’ প্রকল্পের কাজই যদি এমন চরম বৃষ্টির মধ্যে নিয়ম না মেনে করা হয়, তবে তা চরম প্রহসন। বৃষ্টির পানির তোড়ে সিমেন্টের সঠিক অনুপাত ঠিক থাকে না, ফলে ঢালাই দুর্বল হয়ে যায়। জলবায়ু তহবিলের এই অর্থ আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অধিকার। এর সঠিক ব্যবহার এবং শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যথায় এই কোটি কোটি টাকার প্রকল্প প্রথম বর্ষাতেই ধসে পড়বে।

এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম নূর আহম্মদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে বক্তব্য জানতে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, এটা (ঢালাই) দুপাশের বর্ডার লাইন করে তারপরে করা হচ্ছে। অর্থাৎ দুপাশে স্টিলের শিট আটকে দিয়ে তারপরে ঢালাই করা হচ্ছে। তারপরেও বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর