infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

শ্যামনগরের ভেটখালী বিলে জলাবদ্ধতা: কৃষকের মাথায় হাত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৭ পিএম

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী বিল দীর্ঘদিন ধরে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ধানের চারা রোপণ করতে না পারায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য হিমখালী খাল ও বিকল্প পথ থাকলেও সেগুলো বহু বছর ধরে জবরদখলে রয়েছে। ফলে প্রতিবছর দুই শতাধিক একর ধান ও সবজি চাষের জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী বাজার, ভেটখালী বিল ও তারানীপুর এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য হিমখালী খালসহ বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও জবরদখলের কারণে পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। এতে ফসলের মাঠ, বসতভিটা, পুকুর, গাছপালা ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হিমখালী খালটি বহু বছর ধরে শতাধিক ব্যক্তি জবরদখল করে রেখেছেন। অন্যদিকে, ভেটখালী বিলের বিকল্প পানি নিষ্কাশনের পথও দখল করে রেখেছেন ভেটখালী গ্রামের সনদ যোদ্দার, মন্টু যোদ্দার, মিন্টু যোদ্দার, নিরাপদ যোদ্দার, কিশোরী যোদ্দার ও জয়ন্ত বাছারসহ আরও অনেকে।

ভেটখালী কলোনিপাড়ায় বিলের পাশেই বহু নিম্নআয়ের পরিবার বসবাস করে। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের কাঁচা ঘরবাড়িতে ধস নেমেছে। ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা মৃত আনছার আলী গাজীর ছেলে মো. মুত্তালিব হোসেন বলেন, “হিমখালী খাল ও বিকল্প পানি নিষ্কাশনের পথ জবরদখলে থাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এ বছর ধানের চারা রোপণ করতে পারছি না। পাশাপাশি বসতভিটারও ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর্থিকভাবে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হব এবং এলাকায় দারিদ্র্য বাড়বে।”

মো. আব্দুর রাশেদ গাজীর স্ত্রী মোছা. নুর জাহান খাতুন বলেন, “প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। ধানের জমি, বাড়ির উঠান, কাঁচা ঘরবাড়ি ও সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। বিলের পানি নিষ্কাশনের পথ ও খাল দখলমুক্ত করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে কৈখালী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


শ্যামনগরের ভেটখালী বিলে জলাবদ্ধতা: কৃষকের মাথায় হাত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৭ পিএম

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী বিল দীর্ঘদিন ধরে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ধানের চারা রোপণ করতে না পারায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য হিমখালী খাল ও বিকল্প পথ থাকলেও সেগুলো বহু বছর ধরে জবরদখলে রয়েছে। ফলে প্রতিবছর দুই শতাধিক একর ধান ও সবজি চাষের জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী বাজার, ভেটখালী বিল ও তারানীপুর এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য হিমখালী খালসহ বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও জবরদখলের কারণে পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। এতে ফসলের মাঠ, বসতভিটা, পুকুর, গাছপালা ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হিমখালী খালটি বহু বছর ধরে শতাধিক ব্যক্তি জবরদখল করে রেখেছেন। অন্যদিকে, ভেটখালী বিলের বিকল্প পানি নিষ্কাশনের পথও দখল করে রেখেছেন ভেটখালী গ্রামের সনদ যোদ্দার, মন্টু যোদ্দার, মিন্টু যোদ্দার, নিরাপদ যোদ্দার, কিশোরী যোদ্দার ও জয়ন্ত বাছারসহ আরও অনেকে।

ভেটখালী কলোনিপাড়ায় বিলের পাশেই বহু নিম্নআয়ের পরিবার বসবাস করে। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের কাঁচা ঘরবাড়িতে ধস নেমেছে। ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা মৃত আনছার আলী গাজীর ছেলে মো. মুত্তালিব হোসেন বলেন, “হিমখালী খাল ও বিকল্প পানি নিষ্কাশনের পথ জবরদখলে থাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এ বছর ধানের চারা রোপণ করতে পারছি না। পাশাপাশি বসতভিটারও ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর্থিকভাবে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হব এবং এলাকায় দারিদ্র্য বাড়বে।”

মো. আব্দুর রাশেদ গাজীর স্ত্রী মোছা. নুর জাহান খাতুন বলেন, “প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। ধানের জমি, বাড়ির উঠান, কাঁচা ঘরবাড়ি ও সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। বিলের পানি নিষ্কাশনের পথ ও খাল দখলমুক্ত করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে কৈখালী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর