infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে এবার নেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রামে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৭ পিএম

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও তিন সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর ডেভিড ইমনকে সড়কপথে চট্টগ্রামে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার সঙ্গে থাকা সহযোগী আলিস তমাল, শাফায়াত ও শামীমকেও আটক করা হয়েছে।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের আটক করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে সড়কপথে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় সংঘটিত জোড়া হত্যা মামলাসহ একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলারও আসামি তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে একাধিক চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায়ও তার নাম আলোচনায় আসে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বড় সাজ্জাদ বিদেশে অবস্থান করায় বর্তমানে চট্টগ্রামে তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে একই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ, যিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের এক্সেস রোড এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটওয়ার্ক (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লুট করে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় বড় সাজ্জাদ বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, হামলার আগে ডেভিড ইমন পরিচয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে মোবাইল ফোনে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও আলোচিত কয়েকটি মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে এবার নেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রামে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৭ পিএম

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও তিন সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর ডেভিড ইমনকে সড়কপথে চট্টগ্রামে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার সঙ্গে থাকা সহযোগী আলিস তমাল, শাফায়াত ও শামীমকেও আটক করা হয়েছে।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের আটক করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে সড়কপথে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় সংঘটিত জোড়া হত্যা মামলাসহ একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলারও আসামি তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে একাধিক চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায়ও তার নাম আলোচনায় আসে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বড় সাজ্জাদ বিদেশে অবস্থান করায় বর্তমানে চট্টগ্রামে তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে একই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ, যিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের এক্সেস রোড এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটওয়ার্ক (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লুট করে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় বড় সাজ্জাদ বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, হামলার আগে ডেভিড ইমন পরিচয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে মোবাইল ফোনে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও আলোচিত কয়েকটি মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর