infoamaderdin@gmail.com শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে মাছ, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। চলতি সপ্তাহে গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও মাছের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছের দাম এতটাই বেড়েছে যে অধিকাংশ মাছের কেজি দাম হাজার টাকার কাছাকাছি বা তারও বেশি। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য ব্যয় আরও বেড়ে গেছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ মাছের কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। গরিবের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশের দামও ২০০ টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। বর্তমানে জীবিত পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই, কাতলা, মৃগেল, পোয়া ও অন্যান্য চাষের মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজারে মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছের দাম আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে বড় আকারের রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাদের প্রতি কেজিতে হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, বাজারে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, সাদা রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, লাল কোরাল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, সামুদ্রিক সুরমা ৭০০ টাকা এবং টুনা মাছ ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার ও মাছের আকারভেদে এসব দামে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে বলেও জানান তিনি।

মাছের পাশাপাশি বেড়েছে ডিমের দামও। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি ডজন ফার্মের ডিমের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে গরুর মাংসের দাম আগের মতোই রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খাসির মাংস কিনতে হলে প্রতি কেজিতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

এদিকে মুরগির বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগি ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতিদিন বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে।

বাজারে মাছ কিনতে আসা রুবেল আহমেদ বলেন, মাছের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। এতে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিয়মিত মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

খাদ্যপণ্যের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে রাজধানীর সাধারণ ক্রেতাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার ব্যয় আরও বেড়েছে। বিশেষ করে মাছ, ডিম ও মুরগির দাম বৃদ্ধি পরিবারগুলোর মাসিক খাদ্য বাজেটে নতুন চাপ তৈরি করছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে মাছ, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। চলতি সপ্তাহে গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও মাছের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছের দাম এতটাই বেড়েছে যে অধিকাংশ মাছের কেজি দাম হাজার টাকার কাছাকাছি বা তারও বেশি। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য ব্যয় আরও বেড়ে গেছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ মাছের কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। গরিবের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশের দামও ২০০ টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। বর্তমানে জীবিত পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই, কাতলা, মৃগেল, পোয়া ও অন্যান্য চাষের মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজারে মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছের দাম আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে বড় আকারের রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাদের প্রতি কেজিতে হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, বাজারে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, সাদা রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, লাল কোরাল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, সামুদ্রিক সুরমা ৭০০ টাকা এবং টুনা মাছ ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার ও মাছের আকারভেদে এসব দামে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে বলেও জানান তিনি।

মাছের পাশাপাশি বেড়েছে ডিমের দামও। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি ডজন ফার্মের ডিমের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে গরুর মাংসের দাম আগের মতোই রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খাসির মাংস কিনতে হলে প্রতি কেজিতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

এদিকে মুরগির বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগি ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতিদিন বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে।

বাজারে মাছ কিনতে আসা রুবেল আহমেদ বলেন, মাছের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। এতে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিয়মিত মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

খাদ্যপণ্যের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে রাজধানীর সাধারণ ক্রেতাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার ব্যয় আরও বেড়েছে। বিশেষ করে মাছ, ডিম ও মুরগির দাম বৃদ্ধি পরিবারগুলোর মাসিক খাদ্য বাজেটে নতুন চাপ তৈরি করছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর