মনিরামপুরে অভিযানে ১৩ হাজার মিটার অবৈধ দুয়ারি ও কারেন্ট জাল জব্দ, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
যশোরের মনিরামপুরে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ এবং নদ-নদী ও খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রায় ১৩ হাজার মিটার অবৈধ দুয়ারি ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ জাল বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা জাল পরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং নদ-নদী, খাল-বিলের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় রাখতে অবৈধ চায়না দুয়ারি, কারেন্ট জাল ও পাটা উচ্ছেদে ধারাবাহিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের হেলারঘাট মুক্তেশ্বরী নদীর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭০০ মিটার অবৈধ দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। এ সময় নদীতে স্থাপিত অবৈধ পাটাও উচ্ছেদ করা হয়।
পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৌর শহরের সুতা বাজারে অভিযান চালিয়ে আরও ১২ হাজার ১০০ মিটার দুয়ারি ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন জানান, সুতা বাজারের সন্দীপ ট্রেডার্স থেকে ২ হাজার ১০০ মিটার এবং মুসলিম স্টোর থেকে ১০ হাজার মিটার অবৈধ দুয়ারি ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।
এ সময় সন্দীপ ট্রেডার্সের মালিক সন্দীপ কুণ্ডু এবং মুসলিম স্টোরের মালিক আবুল হাসানকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জব্দ করা সব অবৈধ জালে অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস করা হয়।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদ টেকসই রাখতে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: