infoamaderdin@gmail.com রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

নায়েব শর্মিষ্ঠার উত্থান: ঘুষের সিন্ডিকেট থেকে ‘ঘুষের মহারাণী’

প্রকাশিত: ০৯ আগষ্ট ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম

মুখে পড়ে থাকেন সবসময় মাস্ক আর সেই মাস্কের আড়ালে লুকানো রয়েছে ভয়ংকর ঘুষের চেহারা। ঘুষের মহারাণী শর্মিষ্ঠা সরকার সুন্দর চেহারা দেখিয়ে সবসময় বাগিয়ে নেন ভালো কর্মস্থলগুলোতে পদায়ন। চাকরিজীবনে যেখানে গিয়েছেন, সেখানে গড়ে তুলেছেন ঘুষের সিন্ডিকেট। তিনি চাকরিজীবনে ঘুষের অভয়ারণ্য কালিগঞ্জের মৌতলা, ভাড়াশিমলা, বসন্তপুর, সদরের আগরদাড়িতে কর্মরত ছিলেন।

সরেজমিনে আরও অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৫ সালে সদর উপজেলা ধুলিহর ভূমি অফিসে শর্মিষ্ঠা সরকার যোগদান করেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে। যোগদানের পর ভূমি অফিসের ফাঁকফোকর ভালো করে আয়ত্ত করে নেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতা বাবা প্রশান্ত কুমারের তদবির করে মৌতলা ভূমি অফিসে যোগদান করেন। মৌতলায় যোগদানের পরে শর্মিষ্ঠার ঘুষ বাণিজ্যের নতুন কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। তৎকালীন মৌতলার ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোশাররফের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে মৌতলায় খাসজমি ইজারা, বাজারে দোকান বরাদ্দ, ভুয়া দলিলে নামজারি বিনিময়ে হাতিয়ে নেন লক্ষ লক্ষ টাকা। সরকারের প্রভাব খাটিয়ে একই কর্মস্থলে ৬ বছর ছিলেন শর্মিষ্ঠা, যেটা সাতক্ষীরার ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ঘুষের কোটি টাকা কৌশলে স্বামী প্রশান্ত ও বোন সমাপ্তি সরকারের নামে সম্পদ ক্রয় ও ব্যাংকে ডিপোজিট রেখেছেন। তাছাড়া তার বোনের নামে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটের জমি কিনে দুইতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। কালিগঞ্জে কোটি টাকা মূল্যের ৪ কাঠার একটি প্লট আছে শর্মিষ্ঠার নামে। বেতন ৩৫ হাজার হলেও মাসিক খরচ লাখ টাকার উপরে। কালিগঞ্জে একটি বিলাসবহুল ভাড়া ১২ হাজার, শহরের বাসা ৬ হাজার, মাসে দুইবারে পার্লার খরচ ৬ হাজার, তার সন্তানকে উচ্চব্যয়ে ক্যাডেট কলেজে পড়ালেখা করান। তার মায়ের পরিবারে মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়া লাগে। তার স্বামী একজন কর্মহীন। তিনি ব্যবহার করেন গতানুগতিক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল।

২০১২ সালে মৌতলায় ঘুষের রাজত্বে থেকে বদলি হয়ে আসেন ভাড়াশিমলা ভূমি অফিসে। যোগদানের পরে নায়েব ইউনুস চিশতীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দুজনে মিলে ভাড়াশিমলা ভূমি অফিসে গড়ে তোলেন ঘুষের রাজ্য। খাসজমি ইজারা, খাজনা দাখিলা, নামজারি সিন্ডিকেটসহ লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।

ভাড়াশিমলায় তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তৎকালীন বিভিন্ন সংবাদপত্রে লেখালেখি হলে বদলি করা হয়। কিন্তু ইউনূস চিশতী সাবেক মন্ত্রী রুহুল হকের ক্ষমতা আর নিজের টাকার বিনিময়ে শর্মিষ্ঠাকে সঙ্গে নিয়ে পাশের ভূমি অফিস বসন্তপুরে বদলি হন একসঙ্গে। ইউনূস চিশতী চাকরিজীবনে যেখানে যেতেন, সেখানে শর্মিষ্ঠাকে বদলি করে নিয়ে যেতেন।

বসন্তপুর গিয়েও দুজনে মিলে একই সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। বিভিন্ন অসহায় মানুষকে খাসজমি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে আর ফেরত দেননি। ইউনূস চিশতী ও শর্মিষ্ঠার সম্পর্কে ভাটা পড়লে শর্মিষ্ঠা বদলি হয়ে শ্যামনগর সদর ভূমি অফিসে। ৩ মাস পর ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব হলে শর্মিষ্ঠা বদলি হন পারুলিয়া ভূমি অফিসে। পারুলিয়া ভূমি অফিসে এসে সুবিধা করতে না পারায় বদলি হন সদর উপজেলার আগরদাড়ি ভূমি অফিসে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সরকারের কিছু নেতাকে হাতে রেখে ঘুষের রামরাজত্ব কায়েম করেন আগরদাড়িতে। চড়তেন দামি ব্র্যান্ডের ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকারে। মাসে লাখ টাকা ভাড়াচুক্তিতে কালিগঞ্জ থেকে যাতায়াত করতেন আগরদাড়ি ভূমি অফিসে মাসের পর মাস। বিভিন্ন সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে শাস্তি চেয়ে আবেদন করলেও কোনো সুরাহা পায়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, উল্টো কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে বদলি হয়ে আসেন ঘুষের রাজ্য পৌর ভূমি অফিসে। শর্মিষ্ঠার এমন কর্মকাণ্ডে হতাশ অন্যান্য ভূমি সহকারী কর্মকর্তারা।

তৎকালীন সময়ে কৌশলে ভাড়াশিমলার আরেক নায়েব নন্দকে মহিলা দিয়ে ফাঁসিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে তাকে বরখাস্ত করান নায়েব শর্মিষ্ঠা। কলেজ জীবনে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের এক শিক্ষককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বহু টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শিক্ষককে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে বিয়ে করেননি। কিন্তু শিক্ষকের দাবি, তারা বিয়ে করেছিলেন।

সদর উপজেলার আগরদাড়ি ও পৌর ভূমি অফিসে থাকাকালীন এক তরুণ সাংবাদিকের সঙ্গে গভীর প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। সেই সাংবাদিক তার অনিয়মের অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রেমে জড়িয়ে যান। এ যেন পরীমনি-এডিসি সাকলাইন কাণ্ডের প্রতিচ্ছবি। সেই সাংবাদিককে ব্যবহার করে অনেক অনৈতিক কার্য হাসিল করে নেন। তাদের প্রেম কাহিনি পুরো সাংবাদিক মহলে জানাজানি হলে তীব্র সমালোচনার জন্ম নেয়। পরবর্তীতে সেই সাংবাদিকের কাছে থাকা প্রেম আলাপের কল রেকর্ড ফাঁসের গুঞ্জন উঠলে সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে বাঘা বাঘা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দিয়ে ফোন করিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত।

অভিযুক্ত শর্মিষ্ঠা সরকার বলেন, আপনাদের সকল তথ্য সঠিক নয়। আমার ব্যক্তিজীবনে কার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, না ছিল—এটা নিয়ে কথা বলতে চাই না। ভূমি অফিসে ঘুষ চলে, সবাই জানে, এটা সিস্টেম হয়ে গেছে। কিন্তু যেভাবে বলছে, সেভাবে না। ঘুষের মহারাণী খেতাবের বিষয়ে তিনি এড়িয়ে যান বলেন, আমাকে ঘিরে কারা যেন ষড়যন্ত্র করছে। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


নায়েব শর্মিষ্ঠার উত্থান: ঘুষের সিন্ডিকেট থেকে ‘ঘুষের মহারাণী’


প্রকাশিত: ০৯ আগষ্ট ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম

মুখে পড়ে থাকেন সবসময় মাস্ক আর সেই মাস্কের আড়ালে লুকানো রয়েছে ভয়ংকর ঘুষের চেহারা। ঘুষের মহারাণী শর্মিষ্ঠা সরকার সুন্দর চেহারা দেখিয়ে সবসময় বাগিয়ে নেন ভালো কর্মস্থলগুলোতে পদায়ন। চাকরিজীবনে যেখানে গিয়েছেন, সেখানে গড়ে তুলেছেন ঘুষের সিন্ডিকেট। তিনি চাকরিজীবনে ঘুষের অভয়ারণ্য কালিগঞ্জের মৌতলা, ভাড়াশিমলা, বসন্তপুর, সদরের আগরদাড়িতে কর্মরত ছিলেন।

সরেজমিনে আরও অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৫ সালে সদর উপজেলা ধুলিহর ভূমি অফিসে শর্মিষ্ঠা সরকার যোগদান করেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে। যোগদানের পর ভূমি অফিসের ফাঁকফোকর ভালো করে আয়ত্ত করে নেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতা বাবা প্রশান্ত কুমারের তদবির করে মৌতলা ভূমি অফিসে যোগদান করেন। মৌতলায় যোগদানের পরে শর্মিষ্ঠার ঘুষ বাণিজ্যের নতুন কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। তৎকালীন মৌতলার ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোশাররফের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে মৌতলায় খাসজমি ইজারা, বাজারে দোকান বরাদ্দ, ভুয়া দলিলে নামজারি বিনিময়ে হাতিয়ে নেন লক্ষ লক্ষ টাকা। সরকারের প্রভাব খাটিয়ে একই কর্মস্থলে ৬ বছর ছিলেন শর্মিষ্ঠা, যেটা সাতক্ষীরার ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ঘুষের কোটি টাকা কৌশলে স্বামী প্রশান্ত ও বোন সমাপ্তি সরকারের নামে সম্পদ ক্রয় ও ব্যাংকে ডিপোজিট রেখেছেন। তাছাড়া তার বোনের নামে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটের জমি কিনে দুইতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। কালিগঞ্জে কোটি টাকা মূল্যের ৪ কাঠার একটি প্লট আছে শর্মিষ্ঠার নামে। বেতন ৩৫ হাজার হলেও মাসিক খরচ লাখ টাকার উপরে। কালিগঞ্জে একটি বিলাসবহুল ভাড়া ১২ হাজার, শহরের বাসা ৬ হাজার, মাসে দুইবারে পার্লার খরচ ৬ হাজার, তার সন্তানকে উচ্চব্যয়ে ক্যাডেট কলেজে পড়ালেখা করান। তার মায়ের পরিবারে মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়া লাগে। তার স্বামী একজন কর্মহীন। তিনি ব্যবহার করেন গতানুগতিক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল।

২০১২ সালে মৌতলায় ঘুষের রাজত্বে থেকে বদলি হয়ে আসেন ভাড়াশিমলা ভূমি অফিসে। যোগদানের পরে নায়েব ইউনুস চিশতীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দুজনে মিলে ভাড়াশিমলা ভূমি অফিসে গড়ে তোলেন ঘুষের রাজ্য। খাসজমি ইজারা, খাজনা দাখিলা, নামজারি সিন্ডিকেটসহ লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।

ভাড়াশিমলায় তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তৎকালীন বিভিন্ন সংবাদপত্রে লেখালেখি হলে বদলি করা হয়। কিন্তু ইউনূস চিশতী সাবেক মন্ত্রী রুহুল হকের ক্ষমতা আর নিজের টাকার বিনিময়ে শর্মিষ্ঠাকে সঙ্গে নিয়ে পাশের ভূমি অফিস বসন্তপুরে বদলি হন একসঙ্গে। ইউনূস চিশতী চাকরিজীবনে যেখানে যেতেন, সেখানে শর্মিষ্ঠাকে বদলি করে নিয়ে যেতেন।

বসন্তপুর গিয়েও দুজনে মিলে একই সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। বিভিন্ন অসহায় মানুষকে খাসজমি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে আর ফেরত দেননি। ইউনূস চিশতী ও শর্মিষ্ঠার সম্পর্কে ভাটা পড়লে শর্মিষ্ঠা বদলি হয়ে শ্যামনগর সদর ভূমি অফিসে। ৩ মাস পর ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব হলে শর্মিষ্ঠা বদলি হন পারুলিয়া ভূমি অফিসে। পারুলিয়া ভূমি অফিসে এসে সুবিধা করতে না পারায় বদলি হন সদর উপজেলার আগরদাড়ি ভূমি অফিসে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সরকারের কিছু নেতাকে হাতে রেখে ঘুষের রামরাজত্ব কায়েম করেন আগরদাড়িতে। চড়তেন দামি ব্র্যান্ডের ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকারে। মাসে লাখ টাকা ভাড়াচুক্তিতে কালিগঞ্জ থেকে যাতায়াত করতেন আগরদাড়ি ভূমি অফিসে মাসের পর মাস। বিভিন্ন সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে শাস্তি চেয়ে আবেদন করলেও কোনো সুরাহা পায়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, উল্টো কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে বদলি হয়ে আসেন ঘুষের রাজ্য পৌর ভূমি অফিসে। শর্মিষ্ঠার এমন কর্মকাণ্ডে হতাশ অন্যান্য ভূমি সহকারী কর্মকর্তারা।

তৎকালীন সময়ে কৌশলে ভাড়াশিমলার আরেক নায়েব নন্দকে মহিলা দিয়ে ফাঁসিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে তাকে বরখাস্ত করান নায়েব শর্মিষ্ঠা। কলেজ জীবনে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের এক শিক্ষককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বহু টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শিক্ষককে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে বিয়ে করেননি। কিন্তু শিক্ষকের দাবি, তারা বিয়ে করেছিলেন।

সদর উপজেলার আগরদাড়ি ও পৌর ভূমি অফিসে থাকাকালীন এক তরুণ সাংবাদিকের সঙ্গে গভীর প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। সেই সাংবাদিক তার অনিয়মের অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রেমে জড়িয়ে যান। এ যেন পরীমনি-এডিসি সাকলাইন কাণ্ডের প্রতিচ্ছবি। সেই সাংবাদিককে ব্যবহার করে অনেক অনৈতিক কার্য হাসিল করে নেন। তাদের প্রেম কাহিনি পুরো সাংবাদিক মহলে জানাজানি হলে তীব্র সমালোচনার জন্ম নেয়। পরবর্তীতে সেই সাংবাদিকের কাছে থাকা প্রেম আলাপের কল রেকর্ড ফাঁসের গুঞ্জন উঠলে সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে বাঘা বাঘা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দিয়ে ফোন করিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত।

অভিযুক্ত শর্মিষ্ঠা সরকার বলেন, আপনাদের সকল তথ্য সঠিক নয়। আমার ব্যক্তিজীবনে কার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, না ছিল—এটা নিয়ে কথা বলতে চাই না। ভূমি অফিসে ঘুষ চলে, সবাই জানে, এটা সিস্টেম হয়ে গেছে। কিন্তু যেভাবে বলছে, সেভাবে না। ঘুষের মহারাণী খেতাবের বিষয়ে তিনি এড়িয়ে যান বলেন, আমাকে ঘিরে কারা যেন ষড়যন্ত্র করছে। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর