infoamaderdin@gmail.com রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা ডন গ্রেপ্তার, নেওয়া হচ্ছে আদালতে

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশিত: ০৯ আগষ্ট ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের অভিনেতা ডন হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে সিআইডির একটি দল তাকে নিয়ে যায়। তাকে আদালতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইমিগ্রেশন পুলিশ বিমানবন্দর এলাকা থেকে ডনকে আটক করে। পরে সিআইডির একটি টিম এসে তাকে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সিআইডিতে একটি মামলা চলমান রয়েছে এবং সেটির তদন্ত চলছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ওই ঘটনায় তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন।

পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের আবেদন করেন তিনি। অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।

তবে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমান শাহর বাবা রিভিশন মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর পরদিন, ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।

সামীরা হক ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, অভিনেতা ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ।

মামলার অভিযোগে সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর বাসায় তাঁর মা নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও ছোট ভাই শাহরান শাহ গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমিয়ে আছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের কিছু হয়েছে বলে জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা বাসায় ফিরে সালমানকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। অভিযোগে বলা হয়, সেখানে কয়েকজন বহিরাগত নারী তাঁর হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

পরে সালমান শাহকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখা যায়। হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে চলতি বছরের ২০ মে তদন্ত কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। পরে ২৪ মে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়।

তবে বাদীপক্ষ মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করে। আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন।

এরপর ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে সেটিও নথিভুক্ত করা হয়।

সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে। এর মধ্যেই মামলার অন্যতম আসামি অভিনেতা ডনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর হত্যা মামলা হিসেবে পুনরায় তদন্তের কারণে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ডনের গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

 

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা ডন গ্রেপ্তার, নেওয়া হচ্ছে আদালতে

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ আগষ্ট ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের অভিনেতা ডন হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে সিআইডির একটি দল তাকে নিয়ে যায়। তাকে আদালতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইমিগ্রেশন পুলিশ বিমানবন্দর এলাকা থেকে ডনকে আটক করে। পরে সিআইডির একটি টিম এসে তাকে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সিআইডিতে একটি মামলা চলমান রয়েছে এবং সেটির তদন্ত চলছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ওই ঘটনায় তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন।

পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের আবেদন করেন তিনি। অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।

তবে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমান শাহর বাবা রিভিশন মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর পরদিন, ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।

সামীরা হক ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, অভিনেতা ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ।

মামলার অভিযোগে সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর বাসায় তাঁর মা নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও ছোট ভাই শাহরান শাহ গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমিয়ে আছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের কিছু হয়েছে বলে জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা বাসায় ফিরে সালমানকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। অভিযোগে বলা হয়, সেখানে কয়েকজন বহিরাগত নারী তাঁর হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

পরে সালমান শাহকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখা যায়। হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে চলতি বছরের ২০ মে তদন্ত কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। পরে ২৪ মে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়।

তবে বাদীপক্ষ মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করে। আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন।

এরপর ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে সেটিও নথিভুক্ত করা হয়।

সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে। এর মধ্যেই মামলার অন্যতম আসামি অভিনেতা ডনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর হত্যা মামলা হিসেবে পুনরায় তদন্তের কারণে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ডনের গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

 

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর