স্কুলছাত্রী গৃহবধূ আফরাকে ‘নির্যাতন করে হত্যা’, স্বামীসহ ৪ জনের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
বিয়ের মাত্র তিন মাস ১৩ দিনের মাথায় রাজধানীর শ্যামপুরে আফরা খাঁন (১৬) নামের এক কিশোরী গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সামনে মানববন্ধন করেছেন নিহত কিশোরীর স্বজন ও এলাকাবাসী।
নিহত আফরা খাঁন রাজধানীর গেন্ডারিয়ার মনিজা রহমান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
মানববন্ধনে ‘গেন্ডারিয়ার এলাকাবাসী’র ব্যানারে একটি পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। এতে দেখা যায়, গত ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) শ্যামপুর থানার ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের (গেন্ডারিয়া) ডিআইটি প্লটের স্বামীর বাড়িতে আফরার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে আফরাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
সিএমএম আদালতের সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে আফরার স্বজনেরা দোষীদের শাস্তির দাবিতে ব্যানার নিয়ে অংশ নেন। সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েন আফরার মা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের সময় পাত্রের মাদকাসক্ত হওয়ার বিষয়টি তাঁদের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। বিয়ের মাত্র তিন মাস পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে আফরার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়।
নিহতের মা আরও অভিযোগ করেন, আফরার মৃত্যুর পর বিষয়টি গোপন রেখে প্রথমে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতাল থেকে তাঁদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। নিহতের মরদেহের গলায় আঘাতের চিহ্ন এবং কান কালো হয়ে যাওয়ার মতো নির্যাতনের স্পষ্ট আলামত ছিল বলেও স্বজনেরা জানান। মানববন্ধনে প্রদর্শিত ব্যানারের ছবিতেও নিহত কিশোরীর মুখে ও কানে আঘাতের কালচে দাগ দেখা যায়।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং ফাঁসির দাবি জানানো হয়েছে, তাঁরা হলেন—আফরার স্বামী মো. রাহাত হোসেন, শাশুড়ি সনিয়া ইসলাম, শ্বশুর মো. লিটন বেপারী এবং ভাসুর মো. সাহিদ হোসেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্বজন ও এলাকাবাসী এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন। মানববন্ধনে প্রদর্শিত পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযুক্ত চারজনের ফাঁসি কার্যকর করার জোর দাবি জানানো হয়।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: