infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

বিতরণে দেরি হওয়ায় গোডাউন ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট!

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৯ পিএম

গোডাউনের শাটার ভেঙে সার নিয়ে যাচ্ছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গোডাউনের শাটার ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, সারের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও ডিলারের দেখা না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা সার নিয়ে গেছে।

সার লুটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ডিলার মতিয়ার রহমান। তবে ঠিক কত বস্তা সার লুট হয়েছে তা তাৎক্ষণিক বলতে পারেননি তিনি।

আজ সোমবার সকালে উপজেলার রৌমারী মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় ‘মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজ’-এর ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সার বিতরণের নির্দিষ্ট সময়েও বিতরণ শুরু না হওয়ায় কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। পরে সকাল ১১টায় বিতরণ শুরু না হলে তারা গোডাউনের শাটার ভেঙে ভেতর থেকে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে যায়।

কৃষকদের অভিযোগ, তারা গত রাত থেকেই সারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সার বিতরণ শুরু হয়নি।

কৃষক জলিল মিয়া বলেন, ‘এই বন্দবেড় ইউনিয়নের আমাদের ওয়ার্ডের লোকজন ও আশপাশের কৃষকেরা ফজরের আজানের পর থেকেই লাইন ধরে বসে ছিল। এত সময় অপেক্ষা করেও ডিলারের দেখা না পেয়ে সবাই হট্টগোল তৈরি করে।’

আসমত আলী জানান, ডিলার সময়মতো বিতরণ করতে না আসায় অপেক্ষা করা লোকদের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন উপস্থিতি কৃষকরা এক পর্যায়ে গোডাউনের টিন ভেঙে সার নিয়ে যায়।

গোডাউন থেকে সার লুটের বিষয়টি স্বীকার করেন মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের ডিলার মো. মতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, ‘কৃষকরা গোডাউন থেকে আনুমানিক শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। ঠিক কত বস্তা সার নেওয়া হয়েছে, তা দিনশেষে হিসাব করে জানা যাবে।’

সার বিতরণ শুরুতে দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণ শুরু করার কথা ছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে ইউএনওর কাছে যাওয়া হয়।

তবে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম বসুনিয়া। তিনি বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকেরা ধৈর্য ধরে সার উত্তোলন করলে কোনো সমস্যা হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামীকাল থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, আমি নিজেই বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


বিতরণে দেরি হওয়ায় গোডাউন ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৯ পিএম

গোডাউনের শাটার ভেঙে সার নিয়ে যাচ্ছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গোডাউনের শাটার ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, সারের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও ডিলারের দেখা না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা সার নিয়ে গেছে।

সার লুটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ডিলার মতিয়ার রহমান। তবে ঠিক কত বস্তা সার লুট হয়েছে তা তাৎক্ষণিক বলতে পারেননি তিনি।

আজ সোমবার সকালে উপজেলার রৌমারী মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় ‘মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজ’-এর ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সার বিতরণের নির্দিষ্ট সময়েও বিতরণ শুরু না হওয়ায় কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। পরে সকাল ১১টায় বিতরণ শুরু না হলে তারা গোডাউনের শাটার ভেঙে ভেতর থেকে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে যায়।

কৃষকদের অভিযোগ, তারা গত রাত থেকেই সারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সার বিতরণ শুরু হয়নি।

কৃষক জলিল মিয়া বলেন, ‘এই বন্দবেড় ইউনিয়নের আমাদের ওয়ার্ডের লোকজন ও আশপাশের কৃষকেরা ফজরের আজানের পর থেকেই লাইন ধরে বসে ছিল। এত সময় অপেক্ষা করেও ডিলারের দেখা না পেয়ে সবাই হট্টগোল তৈরি করে।’

আসমত আলী জানান, ডিলার সময়মতো বিতরণ করতে না আসায় অপেক্ষা করা লোকদের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন উপস্থিতি কৃষকরা এক পর্যায়ে গোডাউনের টিন ভেঙে সার নিয়ে যায়।

গোডাউন থেকে সার লুটের বিষয়টি স্বীকার করেন মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের ডিলার মো. মতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, ‘কৃষকরা গোডাউন থেকে আনুমানিক শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। ঠিক কত বস্তা সার নেওয়া হয়েছে, তা দিনশেষে হিসাব করে জানা যাবে।’

সার বিতরণ শুরুতে দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণ শুরু করার কথা ছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে ইউএনওর কাছে যাওয়া হয়।

তবে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম বসুনিয়া। তিনি বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকেরা ধৈর্য ধরে সার উত্তোলন করলে কোনো সমস্যা হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামীকাল থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, আমি নিজেই বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর