infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
১১ ভাদ্র ১৪৩৩

ইদ্রিস আলী থেকে ইলিয়াস কাঞ্চন, রেজাউল থেকে বাপ্পারাজ, শামসুন্নাহার থেকে পরীমনি

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশিত: ২৬ আগষ্ট ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম

ঢাকাই চলচ্চিত্র ও দেশের বিনোদন অঙ্গনে এমন অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী রয়েছেন, যারা বাবা-মায়ের দেওয়া নামের পরিবর্তে ভিন্ন নামে পরিচিতি পেয়েছেন। অভিনয়ের জগতে প্রবেশের পর পর্দায় ব্যবহৃত সেই নামই একসময় হয়ে উঠেছে তাদের পরিচয়ের প্রধান অংশ। দর্শকদের কাছে প্রকৃত নামের চেয়ে চলচ্চিত্রের নামেই তাঁরা বেশি পরিচিত ও জনপ্রিয়।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা বুলবুল আহমেদের আসল নাম তাবারুক আহমেদ। চলচ্চিত্রে আসার পর নাম পরিবর্তন করে ‘বুলবুল আহমেদ’ নামেই আলাদা পরিচিতি পান তিনি। ঢাকাই সিনেমার নায়ক ফারুকের প্রকৃত নাম আকবর হোসেন পাঠান। অন্যদিকে অভিনেতা ও নির্মাতা আলমগীরের আসল নাম মহিউদ্দিন আহমেদ। তবে চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত নামেই তারা দেশের কোটি দর্শকের কাছে পরিচিত।

অভিনেতা সোহেল রানার আসল নাম মাসুদ পারভেজ। একইভাবে ইলিয়াস কাঞ্চনের প্রকৃত নাম ইদ্রিস আলী। পর্দার নামই তাদের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পরিচয়ের সঙ্গে স্থায়ীভাবে জড়িয়ে গেছে।

বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহের আসল নাম শাহরিয়ার ইমন। নব্বইয়ের দশকে অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই ‘সালমান শাহ’ নামটি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খানের প্রকৃত নাম মাসুদ রানা। ‘শাকিব খান’ নামেই তিনি আজ দেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় তারকা।

এ ছাড়া অভিনেতা বাপ্পারাজের প্রকৃত নাম রেজাউল করিম। বিনোদন অঙ্গনের আরও অনেক তারকার ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পারিবারিক নামের পরিবর্তে পর্দার নামই হয়ে উঠেছে তাদের প্রধান পরিচয়।

জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের প্রকৃত নাম মোশাররফ হোসেন শামীম। চিত্রনায়ক জায়েদ খানের আসল নাম মোহাম্মদ জহিরুল হক। তবে দর্শকদের কাছে তারা নিজেদের জনপ্রিয় নামেই বেশি পরিচিত।

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনির আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। চলচ্চিত্রে আসার পর ‘পরীমণি’ নামেই পরিচিতি পান তিনি। ২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ঢাকাই সিনেমায় নিজের অবস্থান তৈরি করেন এই অভিনেত্রী।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূরের আসল নাম কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর। চলচ্চিত্রে আসার পর ‘শাবনূর’ নামেই পরিচিতি পান তিনি। ১৯৯০-এর দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত শাবনূর দুই দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিয়া মাহির আসল নাম শারমিন আকতার নিপা। চলচ্চিত্রে আসার পর ‘মাহিয়া মাহি’ নামেই পরিচিতি পান তিনি। ২০১২ সালে ‘ভালোবাসার রঙ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রীদের একজন হিসেবে পরিচিতি পান মাহি।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতার আসল নাম ফরিদা আক্তার পপি। চলচ্চিত্রে আসার পর ‘ববিতা’ নামেই পরিচিতি পান তিনি। ১৯৭০-এর দশকের অন্যতম জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী ৩৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হন ববিতা।

সময় ও ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে নাম বদলালেও এসব অভিনেতা-অভিনেত্রীর নতুন নামই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে তাঁদের ব্র্যান্ড ও পরিচয়ের অংশ। অনেক ক্ষেত্রেই দর্শক তাদের প্রকৃত নাম জানেন না; পর্দার নামেই তারা স্মরণীয় হয়ে আছেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


ইদ্রিস আলী থেকে ইলিয়াস কাঞ্চন, রেজাউল থেকে বাপ্পারাজ, শামসুন্নাহার থেকে পরীমনি

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ আগষ্ট ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম

ঢাকাই চলচ্চিত্র ও দেশের বিনোদন অঙ্গনে এমন অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী রয়েছেন, যারা বাবা-মায়ের দেওয়া নামের পরিবর্তে ভিন্ন নামে পরিচিতি পেয়েছেন। অভিনয়ের জগতে প্রবেশের পর পর্দায় ব্যবহৃত সেই নামই একসময় হয়ে উঠেছে তাদের পরিচয়ের প্রধান অংশ। দর্শকদের কাছে প্রকৃত নামের চেয়ে চলচ্চিত্রের নামেই তাঁরা বেশি পরিচিত ও জনপ্রিয়।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা বুলবুল আহমেদের আসল নাম তাবারুক আহমেদ। চলচ্চিত্রে আসার পর নাম পরিবর্তন করে ‘বুলবুল আহমেদ’ নামেই আলাদা পরিচিতি পান তিনি। ঢাকাই সিনেমার নায়ক ফারুকের প্রকৃত নাম আকবর হোসেন পাঠান। অন্যদিকে অভিনেতা ও নির্মাতা আলমগীরের আসল নাম মহিউদ্দিন আহমেদ। তবে চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত নামেই তারা দেশের কোটি দর্শকের কাছে পরিচিত।

অভিনেতা সোহেল রানার আসল নাম মাসুদ পারভেজ। একইভাবে ইলিয়াস কাঞ্চনের প্রকৃত নাম ইদ্রিস আলী। পর্দার নামই তাদের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পরিচয়ের সঙ্গে স্থায়ীভাবে জড়িয়ে গেছে।

বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহের আসল নাম শাহরিয়ার ইমন। নব্বইয়ের দশকে অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই ‘সালমান শাহ’ নামটি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খানের প্রকৃত নাম মাসুদ রানা। ‘শাকিব খান’ নামেই তিনি আজ দেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় তারকা।

এ ছাড়া অভিনেতা বাপ্পারাজের প্রকৃত নাম রেজাউল করিম। বিনোদন অঙ্গনের আরও অনেক তারকার ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পারিবারিক নামের পরিবর্তে পর্দার নামই হয়ে উঠেছে তাদের প্রধান পরিচয়।

জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের প্রকৃত নাম মোশাররফ হোসেন শামীম। চিত্রনায়ক জায়েদ খানের আসল নাম মোহাম্মদ জহিরুল হক। তবে দর্শকদের কাছে তারা নিজেদের জনপ্রিয় নামেই বেশি পরিচিত।

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনির আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। চলচ্চিত্রে আসার পর ‘পরীমণি’ নামেই পরিচিতি পান তিনি। ২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ঢাকাই সিনেমায় নিজের অবস্থান তৈরি করেন এই অভিনেত্রী।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূরের আসল নাম কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর। চলচ্চিত্রে আসার পর ‘শাবনূর’ নামেই পরিচিতি পান তিনি। ১৯৯০-এর দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত শাবনূর দুই দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিয়া মাহির আসল নাম শারমিন আকতার নিপা। চলচ্চিত্রে আসার পর ‘মাহিয়া মাহি’ নামেই পরিচিতি পান তিনি। ২০১২ সালে ‘ভালোবাসার রঙ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রীদের একজন হিসেবে পরিচিতি পান মাহি।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতার আসল নাম ফরিদা আক্তার পপি। চলচ্চিত্রে আসার পর ‘ববিতা’ নামেই পরিচিতি পান তিনি। ১৯৭০-এর দশকের অন্যতম জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী ৩৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হন ববিতা।

সময় ও ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে নাম বদলালেও এসব অভিনেতা-অভিনেত্রীর নতুন নামই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে তাঁদের ব্র্যান্ড ও পরিচয়ের অংশ। অনেক ক্ষেত্রেই দর্শক তাদের প্রকৃত নাম জানেন না; পর্দার নামেই তারা স্মরণীয় হয়ে আছেন।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর