infoamaderdin@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার কেলেঙ্কারি

সাবেক চার এমপি-মন্ত্রীর এজেন্সিসহ ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স

বিএম শাহ আলম, সম্পাদক প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ২১:০৭ পিএম

বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে সীমাহীন অনিয়ম, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ এবং লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল বা প্রত্যাহার করেছে সরকার। গত ১৯ জুলাই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০ জুলাই প্রজ্ঞাপনটির অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে আসে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩’ এবং ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩’-এর বিধান এবং রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

নেপথ্যের ঘটনা: যেভাবে গড়ে উঠেছিল মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট

অনুসন্ধানে জানা যায়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বা সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকারের কর্মী পাঠানোর চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য শুরু হয়। ২০২২ সালের জুলাইয়ে প্রাথমিকভাবে মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়। পরে সাধারণ ব্যবসায়ীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে এ সংখ্যা ১০১টিতে উন্নীত করা হয়।

এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা ছিলেন মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (FWCMS) নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেটের মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশীয় নাগরিক আমিনুল ইসলাম নুর এবং বাংলাদেশের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ অংশের পুরো সিন্ডিকেটটি সমন্বয় করতেন ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী রুহুল আমিন স্বপন।

অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লাখ লাখ কর্মপ্রত্যাশীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় আদায় করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচার করা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে মামলা হলে তদন্ত কর্মকর্তা ৪৯টি এজেন্সির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন এবং আদালত তা গ্রহণ করেন।

প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক চক্রের সম্পৃক্ততা

লাইসেন্স বাতিল হওয়া ৪৯টি এজেন্সির তালিকা পর্যালোচনায় সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের মালিকানার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

১. সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালের পরিবারের মালিকানাধীন অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ ও অরবিটালস ইন্টারন্যাশনালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

২. ঢাকা-২০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন আহমেদ ইন্টারন্যাশনালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

৩. ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর মালিকানাধীন মেসার্স স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেডের লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে।

৪. ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মালিকানাধীন ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনালের লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে।

৫. মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের বাংলাদেশ অংশের সমন্বয়ক রুহুল আমিন স্বপনের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল এবং জনশক্তি খাতের ব্যবসায়ী মো. নূর আলীর ইউনিক ইস্টার্ন (প্রা.) লিমিটেডের লাইসেন্সও বাতিলের তালিকায় রয়েছে।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সি

১. ইউনিক ইস্টার্ন (প্রা.) লিমিটেড
২. অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ
৩. শাহীন ট্রাভেলস
৪. ইরভিং এন্টারপ্রাইজ
৫. হায়দরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল
৬. রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল
৭. জাহরাত অ্যাসোসিয়েটস
৮. ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড
৯. বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল
১০. আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড
১১. কিউ.কে. কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড
১২. ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড
১৩. জিএমজি ট্রেডিং (প্রা.) লিমিটেড
১৪. সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল
১৫. দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড
১৬. এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড
১৭. ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল
১৮. মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড
১৯. মদিনা ওভারসিজ
২০. আল-খামিস ইন্টারন্যাশনাল
২১. নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল
২২. দাহমাশি করপোরেশন লিমিটেড
২৩. গ্যালাক্সি করপোরেশন
২৪. সুলতান ওভারসিজ
২৫. প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল
২৬. ম্যানিসপাওয়ার করপোরেশন
২৭. আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস
২৮. আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল
২৯. আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড
৩০. দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ
৩১. নাতাশা ওভারসিজ
৩২. অপরাজিতা ওভারসিজ
৩৩. ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড
৩৪. স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড
৩৫. জান্নাত ওভারসিজ
৩৬. বিএম ট্রাভেলস লিমিটেড
৩৭. বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড
৩৮. রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড
৩৯. অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল
৪০. ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস লিমিটেড
৪১. আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালট্যান্সি
৪২. স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড
৪৩. ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল
৪৪. থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড
৪৫. জিজি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট
৪৬. ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড
৪৭. পি.আর. ওভারসিজ লিমিটেড
৪৮. এমইএফ গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেড
৪৯. অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি

মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, এসব বিতর্কিত এজেন্সির মালিকদের অধিকাংশই বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।

গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলা ও আইনি দিক

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাতিলকৃত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর বিভিন্ন ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা গৃহীত হয়েছে। এসব ধারা হলো—

ধারা ৪০৬: বিশ্বাসভঙ্গ (Criminal Breach of Trust)

ধারা ৪২০: প্রতারণা (Cheating)

ধারা ৩৮৫ ও ৩৮৬: ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদাবাজি

ধারা ৪২৭ ও ৩৪: ক্ষতিসাধন এবং যৌথ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড

এসব গুরুতর অপরাধের অভিযোগ এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩’-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

আইন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে। আপিল করা হলে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করার বিধান রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


মালয়েশিয়া শ্রমবাজার কেলেঙ্কারি

সাবেক চার এমপি-মন্ত্রীর এজেন্সিসহ ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স

বিএম শাহ আলম, সম্পাদক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ২১:০৭ পিএম

বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে সীমাহীন অনিয়ম, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ এবং লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল বা প্রত্যাহার করেছে সরকার। গত ১৯ জুলাই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০ জুলাই প্রজ্ঞাপনটির অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে আসে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩’ এবং ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩’-এর বিধান এবং রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

নেপথ্যের ঘটনা: যেভাবে গড়ে উঠেছিল মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট

অনুসন্ধানে জানা যায়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বা সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকারের কর্মী পাঠানোর চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য শুরু হয়। ২০২২ সালের জুলাইয়ে প্রাথমিকভাবে মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়। পরে সাধারণ ব্যবসায়ীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে এ সংখ্যা ১০১টিতে উন্নীত করা হয়।

এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা ছিলেন মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (FWCMS) নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেটের মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশীয় নাগরিক আমিনুল ইসলাম নুর এবং বাংলাদেশের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ অংশের পুরো সিন্ডিকেটটি সমন্বয় করতেন ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী রুহুল আমিন স্বপন।

অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লাখ লাখ কর্মপ্রত্যাশীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় আদায় করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচার করা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে মামলা হলে তদন্ত কর্মকর্তা ৪৯টি এজেন্সির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন এবং আদালত তা গ্রহণ করেন।

প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক চক্রের সম্পৃক্ততা

লাইসেন্স বাতিল হওয়া ৪৯টি এজেন্সির তালিকা পর্যালোচনায় সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের মালিকানার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

১. সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালের পরিবারের মালিকানাধীন অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ ও অরবিটালস ইন্টারন্যাশনালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

২. ঢাকা-২০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন আহমেদ ইন্টারন্যাশনালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

৩. ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর মালিকানাধীন মেসার্স স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেডের লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে।

৪. ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মালিকানাধীন ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনালের লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে।

৫. মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের বাংলাদেশ অংশের সমন্বয়ক রুহুল আমিন স্বপনের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল এবং জনশক্তি খাতের ব্যবসায়ী মো. নূর আলীর ইউনিক ইস্টার্ন (প্রা.) লিমিটেডের লাইসেন্সও বাতিলের তালিকায় রয়েছে।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সি

১. ইউনিক ইস্টার্ন (প্রা.) লিমিটেড
২. অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ
৩. শাহীন ট্রাভেলস
৪. ইরভিং এন্টারপ্রাইজ
৫. হায়দরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল
৬. রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল
৭. জাহরাত অ্যাসোসিয়েটস
৮. ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড
৯. বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল
১০. আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড
১১. কিউ.কে. কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড
১২. ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড
১৩. জিএমজি ট্রেডিং (প্রা.) লিমিটেড
১৪. সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল
১৫. দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড
১৬. এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড
১৭. ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল
১৮. মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড
১৯. মদিনা ওভারসিজ
২০. আল-খামিস ইন্টারন্যাশনাল
২১. নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল
২২. দাহমাশি করপোরেশন লিমিটেড
২৩. গ্যালাক্সি করপোরেশন
২৪. সুলতান ওভারসিজ
২৫. প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল
২৬. ম্যানিসপাওয়ার করপোরেশন
২৭. আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস
২৮. আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল
২৯. আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড
৩০. দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ
৩১. নাতাশা ওভারসিজ
৩২. অপরাজিতা ওভারসিজ
৩৩. ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড
৩৪. স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড
৩৫. জান্নাত ওভারসিজ
৩৬. বিএম ট্রাভেলস লিমিটেড
৩৭. বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড
৩৮. রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড
৩৯. অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল
৪০. ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস লিমিটেড
৪১. আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালট্যান্সি
৪২. স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড
৪৩. ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল
৪৪. থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড
৪৫. জিজি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট
৪৬. ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড
৪৭. পি.আর. ওভারসিজ লিমিটেড
৪৮. এমইএফ গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেড
৪৯. অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি

মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, এসব বিতর্কিত এজেন্সির মালিকদের অধিকাংশই বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।

গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলা ও আইনি দিক

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাতিলকৃত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর বিভিন্ন ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা গৃহীত হয়েছে। এসব ধারা হলো—

ধারা ৪০৬: বিশ্বাসভঙ্গ (Criminal Breach of Trust)

ধারা ৪২০: প্রতারণা (Cheating)

ধারা ৩৮৫ ও ৩৮৬: ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদাবাজি

ধারা ৪২৭ ও ৩৪: ক্ষতিসাধন এবং যৌথ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড

এসব গুরুতর অপরাধের অভিযোগ এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩’-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

আইন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে। আপিল করা হলে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করার বিধান রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর