infoamaderdin@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

তিন জেলায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নতুন করে বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৭ পিএম

দেশের তিন জেলার তিনটি পয়েন্টে দুটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। এতে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস বিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি স্টেশনে এবং সোমেশ্বরী নদীর নেত্রকোণার কলমাকান্দা স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। এ সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগের আত্রাই নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী একদিন পানি আরও বাড়ার পর ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে এর আগে নওগাঁ জেলার কয়েকটি এলাকায় আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমলেও আগামী দুই দিনে ভারী বৃষ্টির কারণে এসব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের কয়েকটি নদী সতর্কসীমা অতিক্রম করে আশপাশের নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলেও নদ-নদীর পানি নিয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কমলেও ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে সোমেশ্বরী নদীর পানি কমতে শুরু করায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোণার চলমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সর্বশেষ পরিস্থিতির প্রতি নজর রাখার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


তিন জেলায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নতুন করে বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৭ পিএম

দেশের তিন জেলার তিনটি পয়েন্টে দুটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। এতে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস বিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি স্টেশনে এবং সোমেশ্বরী নদীর নেত্রকোণার কলমাকান্দা স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। এ সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগের আত্রাই নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী একদিন পানি আরও বাড়ার পর ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে এর আগে নওগাঁ জেলার কয়েকটি এলাকায় আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমলেও আগামী দুই দিনে ভারী বৃষ্টির কারণে এসব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের কয়েকটি নদী সতর্কসীমা অতিক্রম করে আশপাশের নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলেও নদ-নদীর পানি নিয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কমলেও ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে সোমেশ্বরী নদীর পানি কমতে শুরু করায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোণার চলমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সর্বশেষ পরিস্থিতির প্রতি নজর রাখার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর