infoamaderdin@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

বেনজীরকে ফেরাতে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই, প্রয়োজনীয় নথি পাঠাচ্ছে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৭ পিএম

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। প্রত্যর্পণের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেওয়ার পাশাপাশি মামলার নথি ও কয়েকটি বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। এর জবাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার নথিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার ও দুদকের পক্ষ থেকে দুবাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি পাঠান। এর জবাবে দুবাই পুলিশ মামলাসহ কয়েকটি বিষয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে।

তবে ঠিক কোন কোন বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি দুদক। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সরাসরি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় কোন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়। ওই নোটিশের ভিত্তিতে গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সরকারকে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে।

এরপর দ্রুত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করে দুদক। গ্রেপ্তারের দুই দিনের মাথায়, ১৬ জুন ইংরেজি ও আরবি ভাষায় প্রস্তুত করা প্রত্যর্পণ প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, অপরাধের বিবরণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করা হয়।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, দুবাই পুলিশের চাওয়া ব্যাখ্যার সঙ্গে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নথিও সংযুক্ত করা হবে। সব প্রস্তুতি শেষ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন নম্বর ৩৯/২০০৬ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতার আওতায় এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। ওই আইনে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোনো ব্যক্তিকে হস্তান্তরের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

এর আগে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ইউএই ফেডারেল আইনের বিধান অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হয়। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে পাসপোর্টে জালিয়াতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ছয়টি দুর্নীতির মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার বিচার চলছে, বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন।

এছাড়া ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে দুদক। এসব মামলায় প্রায় ৭৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


বেনজীরকে ফেরাতে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই, প্রয়োজনীয় নথি পাঠাচ্ছে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৭ পিএম

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। প্রত্যর্পণের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেওয়ার পাশাপাশি মামলার নথি ও কয়েকটি বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। এর জবাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার নথিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার ও দুদকের পক্ষ থেকে দুবাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি পাঠান। এর জবাবে দুবাই পুলিশ মামলাসহ কয়েকটি বিষয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে।

তবে ঠিক কোন কোন বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি দুদক। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সরাসরি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় কোন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়। ওই নোটিশের ভিত্তিতে গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সরকারকে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে।

এরপর দ্রুত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করে দুদক। গ্রেপ্তারের দুই দিনের মাথায়, ১৬ জুন ইংরেজি ও আরবি ভাষায় প্রস্তুত করা প্রত্যর্পণ প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, অপরাধের বিবরণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করা হয়।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, দুবাই পুলিশের চাওয়া ব্যাখ্যার সঙ্গে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নথিও সংযুক্ত করা হবে। সব প্রস্তুতি শেষ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন নম্বর ৩৯/২০০৬ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতার আওতায় এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। ওই আইনে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোনো ব্যক্তিকে হস্তান্তরের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

এর আগে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ইউএই ফেডারেল আইনের বিধান অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হয়। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে পাসপোর্টে জালিয়াতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ছয়টি দুর্নীতির মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার বিচার চলছে, বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন।

এছাড়া ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে দুদক। এসব মামলায় প্রায় ৭৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর