infoamaderdin@gmail.com শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

চারবার প্রত্যাখ্যানের পরও ৬৫ পদ উন্নীত করতে জনপ্রশাসনে ইসির পুনঃপ্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৮ আগষ্ট ২০২৬ ১৪:০৮ পিএম

মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা, দাপ্তরিক জটিলতা নিরসন এবং দীর্ঘদিনের পদমর্যাদা বৈষম্য দূর করতে আবারও উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চারবার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলেও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মোট ৬৫টি পদ ৬ষ্ঠ থেকে ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য পুনরায় প্রস্তাব পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক স্থবিরতা ও পদমর্যাদাগত অসংগতি দূর করতে এই পদ উন্নীতকরণ প্রয়োজন।

ইসির প্রস্তাব অনুযায়ী, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ৪৫টি পদ এবং অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ২০টি পদ ৬ষ্ঠ গ্রেড থেকে ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। এর আগে একই ধরনের প্রস্তাব চারবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও প্রতিবারই তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১২ জুলাই ইসির প্রস্তাবে অসম্মতি জানায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপরও নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে নতুন করে প্রস্তাব পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বর্তমানে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পদটি ৬ষ্ঠ গ্রেডের। এ পদে কর্মকর্তারা ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা বেতন স্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। ইসির প্রস্তাবে পদটি ৫ম গ্রেডে উন্নীত করে ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা বেতনস্কেল নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে বর্তমানে ১৯টিতে ৫ম গ্রেডের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ৪৫টি জেলায় ৬ষ্ঠ গ্রেডের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। একই ধরনের দায়িত্ব ও কাজের পরিধি থাকা সত্ত্বেও পদমর্যাদার এই পার্থক্য প্রশাসনিক সমন্বয়ে জটিলতা তৈরি করছে বলে মনে করছে ইসি।

এর সঙ্গে নতুন করে আরও একটি সমস্যা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ৪৫টি জেলায় ৬ষ্ঠ গ্রেডের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা ও অধীন কর্মকর্তা একই গ্রেডের হয়ে পড়েছেন। ইসি মনে করছে, এ ধরনের পদমর্যাদাগত অসংগতি মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ২০টি পদও বর্তমানে ৬ষ্ঠ গ্রেডে রয়েছে। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তারা মূল দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগীয় দপ্তরের সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে এসব পদ ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

ইসি জানিয়েছে, ৬৫টি পদ ৬ষ্ঠ থেকে ৫ম গ্রেডে উন্নীত করা হলে সরকারের অতিরিক্ত কোনো আর্থিক ব্যয় হবে না। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের পূর্ণ সম্মতিও রয়েছে।

২০০৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে জট

পদমর্যাদা ও গ্রেডের বৈষম্যের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়েও দীর্ঘদিনের জট রয়েছে। ইসির সর্বশেষ গ্রেডেশন তালিকায় ৭৩৮ জন কর্মকর্তার মধ্যে মাঠপর্যায়ে কর্মরত আছেন ৭২১ জন।

এর মধ্যে ২০০০ ও ২০০৪ ব্যাচের পদোন্নতি সম্পন্ন হলেও ২০০৫ ব্যাচকে ঘিরে বড় ধরনের জট তৈরি হয়েছে। এই ব্যাচের ১০০ জনের বেশি কর্মকর্তা প্রায় ২১ বছর ধরে একই পদে আটকে আছেন। আইনি লড়াইয়ের পর সম্প্রতি প্রায় ৮০ জন কর্মকর্তা যোগদান করলেও তারা আগের পদেই রয়েছেন।

জ্যেষ্ঠতার বিধিমালা অনুযায়ী, ২০০৫ ব্যাচের এই জট নিরসন না হলে পরবর্তী সময়ে নিয়োগ পাওয়া ২০০৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যোগদানকারী প্রায় ৪২০ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদোন্নতির পথও আটকে রয়েছে।

দীর্ঘদিন পদোন্নতি না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, অনেকে টাইমস্কেল পেয়ে উচ্চতর গ্রেডের স্কেলে বেতন পেলেও পদমর্যাদাগত স্বীকৃতি না থাকায় সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে সমস্যার মুখে পড়ছেন। তাদের মতে, বিষয়টি এখন শুধু আর্থিক সুবিধার নয়, বরং সামাজিক মর্যাদা ও মানবিক অধিকারের সঙ্গেও জড়িত।

আট বছরে চারবার প্রত্যাখ্যান

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগের সূত্রপাত হয় ২০১৮ সালে। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ৪৫টি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার পাশাপাশি ইটিআই মহাপরিচালকের পদ ৩য় থেকে ২য় গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আধা-সরকারি পত্র পাঠান।

এরপর ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি ফিডার পদের অসংগতির কারণ দেখিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওই প্রস্তাব নাকচ করে। পরে ২০২৩ সালের জানুয়ারি এবং ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট পূর্ণ কমিশনের অনুমোদন নিয়ে আবারও প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি আবার প্রত্যাখ্যান করে।

সর্বশেষ গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ইসির বর্তমান সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ৪৫টি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ২০টি অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার পদ ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য চিঠি পাঠান। তবে গত ১২ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংস্থাপন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের (সওব্য-১৩) উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত চিঠিতে চতুর্থবারের মতো প্রস্তাবের বিষয়ে অসম্মতির কথা জানানো হয়।

প্রস্তাব নিয়ে অনড় ইসি

চারবার প্রত্যাখ্যানের পরও পুনরায় প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, কমিশন তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। প্রস্তাবটি যৌক্তিক হওয়ায় প্রয়োজন হলে নতুন করে কমিশনের অনুমোদন নিয়ে অথবা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আবারও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও এ বিষয়ে আশাবাদী। তাদের মতে, সম্প্রতি পাস হওয়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইনের মাধ্যমে ইসি ক্যাডার বা নন-ক্যাডার ব্যবস্থার বাইরে একটি স্বতন্ত্র ‘সার্ভিস’ হিসেবে গণ্য হবে। একটি পূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র সার্ভিস বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পদ আপগ্রেডেশন ও দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় করা প্রয়োজন।

এ অবস্থায় চারবার প্রত্যাখ্যানের পর আবারও ৬৫টি পদ ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার ইসির প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পায় কি না, সেটিই এখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


চারবার প্রত্যাখ্যানের পরও ৬৫ পদ উন্নীত করতে জনপ্রশাসনে ইসির পুনঃপ্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ আগষ্ট ২০২৬ ১৪:০৮ পিএম

মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা, দাপ্তরিক জটিলতা নিরসন এবং দীর্ঘদিনের পদমর্যাদা বৈষম্য দূর করতে আবারও উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চারবার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলেও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মোট ৬৫টি পদ ৬ষ্ঠ থেকে ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য পুনরায় প্রস্তাব পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক স্থবিরতা ও পদমর্যাদাগত অসংগতি দূর করতে এই পদ উন্নীতকরণ প্রয়োজন।

ইসির প্রস্তাব অনুযায়ী, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ৪৫টি পদ এবং অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ২০টি পদ ৬ষ্ঠ গ্রেড থেকে ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। এর আগে একই ধরনের প্রস্তাব চারবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও প্রতিবারই তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১২ জুলাই ইসির প্রস্তাবে অসম্মতি জানায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপরও নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে নতুন করে প্রস্তাব পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বর্তমানে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পদটি ৬ষ্ঠ গ্রেডের। এ পদে কর্মকর্তারা ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা বেতন স্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। ইসির প্রস্তাবে পদটি ৫ম গ্রেডে উন্নীত করে ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা বেতনস্কেল নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে বর্তমানে ১৯টিতে ৫ম গ্রেডের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ৪৫টি জেলায় ৬ষ্ঠ গ্রেডের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। একই ধরনের দায়িত্ব ও কাজের পরিধি থাকা সত্ত্বেও পদমর্যাদার এই পার্থক্য প্রশাসনিক সমন্বয়ে জটিলতা তৈরি করছে বলে মনে করছে ইসি।

এর সঙ্গে নতুন করে আরও একটি সমস্যা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ৪৫টি জেলায় ৬ষ্ঠ গ্রেডের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা ও অধীন কর্মকর্তা একই গ্রেডের হয়ে পড়েছেন। ইসি মনে করছে, এ ধরনের পদমর্যাদাগত অসংগতি মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ২০টি পদও বর্তমানে ৬ষ্ঠ গ্রেডে রয়েছে। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তারা মূল দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগীয় দপ্তরের সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে এসব পদ ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

ইসি জানিয়েছে, ৬৫টি পদ ৬ষ্ঠ থেকে ৫ম গ্রেডে উন্নীত করা হলে সরকারের অতিরিক্ত কোনো আর্থিক ব্যয় হবে না। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের পূর্ণ সম্মতিও রয়েছে।

২০০৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে জট

পদমর্যাদা ও গ্রেডের বৈষম্যের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়েও দীর্ঘদিনের জট রয়েছে। ইসির সর্বশেষ গ্রেডেশন তালিকায় ৭৩৮ জন কর্মকর্তার মধ্যে মাঠপর্যায়ে কর্মরত আছেন ৭২১ জন।

এর মধ্যে ২০০০ ও ২০০৪ ব্যাচের পদোন্নতি সম্পন্ন হলেও ২০০৫ ব্যাচকে ঘিরে বড় ধরনের জট তৈরি হয়েছে। এই ব্যাচের ১০০ জনের বেশি কর্মকর্তা প্রায় ২১ বছর ধরে একই পদে আটকে আছেন। আইনি লড়াইয়ের পর সম্প্রতি প্রায় ৮০ জন কর্মকর্তা যোগদান করলেও তারা আগের পদেই রয়েছেন।

জ্যেষ্ঠতার বিধিমালা অনুযায়ী, ২০০৫ ব্যাচের এই জট নিরসন না হলে পরবর্তী সময়ে নিয়োগ পাওয়া ২০০৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যোগদানকারী প্রায় ৪২০ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদোন্নতির পথও আটকে রয়েছে।

দীর্ঘদিন পদোন্নতি না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, অনেকে টাইমস্কেল পেয়ে উচ্চতর গ্রেডের স্কেলে বেতন পেলেও পদমর্যাদাগত স্বীকৃতি না থাকায় সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে সমস্যার মুখে পড়ছেন। তাদের মতে, বিষয়টি এখন শুধু আর্থিক সুবিধার নয়, বরং সামাজিক মর্যাদা ও মানবিক অধিকারের সঙ্গেও জড়িত।

আট বছরে চারবার প্রত্যাখ্যান

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগের সূত্রপাত হয় ২০১৮ সালে। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ৪৫টি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার পাশাপাশি ইটিআই মহাপরিচালকের পদ ৩য় থেকে ২য় গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আধা-সরকারি পত্র পাঠান।

এরপর ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি ফিডার পদের অসংগতির কারণ দেখিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওই প্রস্তাব নাকচ করে। পরে ২০২৩ সালের জানুয়ারি এবং ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট পূর্ণ কমিশনের অনুমোদন নিয়ে আবারও প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি আবার প্রত্যাখ্যান করে।

সর্বশেষ গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ইসির বর্তমান সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ৪৫টি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ২০টি অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার পদ ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য চিঠি পাঠান। তবে গত ১২ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংস্থাপন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের (সওব্য-১৩) উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত চিঠিতে চতুর্থবারের মতো প্রস্তাবের বিষয়ে অসম্মতির কথা জানানো হয়।

প্রস্তাব নিয়ে অনড় ইসি

চারবার প্রত্যাখ্যানের পরও পুনরায় প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, কমিশন তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। প্রস্তাবটি যৌক্তিক হওয়ায় প্রয়োজন হলে নতুন করে কমিশনের অনুমোদন নিয়ে অথবা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আবারও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও এ বিষয়ে আশাবাদী। তাদের মতে, সম্প্রতি পাস হওয়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইনের মাধ্যমে ইসি ক্যাডার বা নন-ক্যাডার ব্যবস্থার বাইরে একটি স্বতন্ত্র ‘সার্ভিস’ হিসেবে গণ্য হবে। একটি পূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র সার্ভিস বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পদ আপগ্রেডেশন ও দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় করা প্রয়োজন।

এ অবস্থায় চারবার প্রত্যাখ্যানের পর আবারও ৬৫টি পদ ৫ম গ্রেডে উন্নীত করার ইসির প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পায় কি না, সেটিই এখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর