infoamaderdin@gmail.com শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

জুলাই জাদুঘরে কোনো দলীয় ইতিহাস দেখতে চাই না: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৮ আগষ্ট ২০২৬ ১৫:০৮ পিএম

কথা বলছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক বয়ানে পরিণত না করে প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘরকে জাতীয় ইতিহাস চর্চার একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এখানে কোনো ধরনের দলীয় ইতিহাস দেখতে চাই না।’

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গণভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জাদুঘরের বর্তমান প্রদর্শনী ও কাঠামো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই প্রদর্শনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসের কিছু অংশ অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং পরিচিত কিছু মুখ ও ঘটনার উপস্থিতি বারবার এলেও বিস্তৃত পরিসর, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ সেভাবে উঠে আসেনি। বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিজমের নির্মমতার পাশাপাশি হাসিনা আমলে বৈদেশিক শক্তির প্রভাব এবং সীমান্ত হত্যা বা ফেলানির মতো ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ইতিহাসের কোনো অংশ বা ঘটনা বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তৈরি করা সম্ভব নয়। এছাড়া, জাদুঘরে শহিদ আবু সাঈদের ছবি না থাকার বিষয়টিও কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

জাদুঘর পরিচালনার ক্ষেত্রে দলীয়করণের আশঙ্কা প্রকাশ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়েও দলীয়করণের অভিযোগ ছিল এবং সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যপুস্তক ও ইতিহাসের বয়ান পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে যেন একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

জাদুঘরের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম জানান, ‘প্রায় ২০০ জনের মতো জনবল প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ১২ থেকে ১৫ জন বা ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে জাদুঘরটি পরিচালিত হচ্ছে, যা এর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাকে ঝুঁকিতে ফেলছে। তাই আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ এবং জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেন এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে জাদুঘরটিকে একটি স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোয় পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও কাঠামো তৈরির দাবি জানাচ্ছি।’

একই সঙ্গে গণভবনের পুরো ১৭ একর জায়গাকে কাজে লাগিয়ে এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস শৈল্পিকভাবে ফুটিয়ে তোলার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


জুলাই জাদুঘরে কোনো দলীয় ইতিহাস দেখতে চাই না: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ আগষ্ট ২০২৬ ১৫:০৮ পিএম

কথা বলছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক বয়ানে পরিণত না করে প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘরকে জাতীয় ইতিহাস চর্চার একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এখানে কোনো ধরনের দলীয় ইতিহাস দেখতে চাই না।’

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গণভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জাদুঘরের বর্তমান প্রদর্শনী ও কাঠামো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই প্রদর্শনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসের কিছু অংশ অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং পরিচিত কিছু মুখ ও ঘটনার উপস্থিতি বারবার এলেও বিস্তৃত পরিসর, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ সেভাবে উঠে আসেনি। বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিজমের নির্মমতার পাশাপাশি হাসিনা আমলে বৈদেশিক শক্তির প্রভাব এবং সীমান্ত হত্যা বা ফেলানির মতো ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ইতিহাসের কোনো অংশ বা ঘটনা বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তৈরি করা সম্ভব নয়। এছাড়া, জাদুঘরে শহিদ আবু সাঈদের ছবি না থাকার বিষয়টিও কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

জাদুঘর পরিচালনার ক্ষেত্রে দলীয়করণের আশঙ্কা প্রকাশ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়েও দলীয়করণের অভিযোগ ছিল এবং সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যপুস্তক ও ইতিহাসের বয়ান পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে যেন একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

জাদুঘরের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম জানান, ‘প্রায় ২০০ জনের মতো জনবল প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ১২ থেকে ১৫ জন বা ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে জাদুঘরটি পরিচালিত হচ্ছে, যা এর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাকে ঝুঁকিতে ফেলছে। তাই আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ এবং জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেন এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে জাদুঘরটিকে একটি স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোয় পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও কাঠামো তৈরির দাবি জানাচ্ছি।’

একই সঙ্গে গণভবনের পুরো ১৭ একর জায়গাকে কাজে লাগিয়ে এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস শৈল্পিকভাবে ফুটিয়ে তোলার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর