infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
৯ ভাদ্র ১৪৩৩

দিয়াবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প: দুই যুগেও হয়নি সংস্কার, জীর্ণ ঘরে ১০০ পরিবারের বসবাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৪ আগষ্ট ২০২৬ ১৩:০৮ পিএম

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়নের দিয়াবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় ২৫ বছর ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন ১০০টি পরিবারের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় প্রকল্পের অধিকাংশ ঘর এখন জরাজীর্ণ।

বৃষ্টি হলেই টিনের ফুটো দিয়ে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। কোথাও ভেঙে গেছে খুঁটি ও বেড়া, নষ্ট হয়ে গেছে দরজা-জানালা। ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অনেক টয়লেট ও গোসলখানাও। ফলে নিরাপত্তাহীনতা ও নানা দুর্ভোগের মধ্যেই দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরের খুঁটি ও কাঠামো দীর্ঘদিনের ব্যবহারে নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও খুঁটি ভেঙে রড বেরিয়ে এসেছে। আবার অনেক ঘরের টিনের চাল ক্ষয়ে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ফুটো। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের মেঝেতে পানি জমে যায়। পানি ঠেকাতে বাসিন্দারা ঘরের চাল ও দেয়ালে পলিথিন টানিয়ে রেখেছেন। তাতেও পানি বন্ধ না হলে বালতি কিংবা জগ দিয়ে রাতভর পানি সরাতে হয়।

দীর্ঘদিনের এই দুরবস্থার সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রকল্পের অসহায়, বিধবা ও নিম্নআয়ের বাসিন্দারা। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতেই যাদের হিমশিম খেতে হয়, তাদের পক্ষে নিজেদের অর্থে জরাজীর্ণ ঘর মেরামত করা প্রায় অসম্ভব। ফলে বছরের পর বছর একই ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের।

প্রকল্পের বাসিন্দা আয়েশা বেগমের জীবনের গল্পও এই দুর্ভোগেরই প্রতিচ্ছবি। ১১ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর কয়েক মাস পর স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যায়। এখন ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। সংসারে নাবালক ছেলে থাকায় শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও ঘরের বারান্দায় ছোট একটি দোকান চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।

আয়েশা বেগম বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই আমার কষ্ট শুরু। কয়েক মাস পর আমি স্ট্রোক করি। এখন ঠিকমতো হাঁটতেও পারি না। তাই ৫০০/১০০০ টাকা দিয়ে ঘরের বারান্দায় ছোট একটা দোকান দিয়েছি। দোকান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চালাই। একবেলা খাবার জুটলে অন্যবেলা খেতে কষ্ট হয়ে যায়।’

ঘরের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হলে ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। পলিথিন টানিয়েও পানি আটকানো যায় না। ঘরের খুঁটি ভেঙে রড বের হয়ে গেছে। এই ঘরে থাকতে ভয় লাগে।’

আয়েশার মতো প্রকল্পের অন্য বাসিন্দারাও প্রতিদিন ভাঙা ঘর ও অনিশ্চয়তার সঙ্গে বসবাস করছেন। কারও ঘরের চাল ফুটো, কারও দেয়াল ও বেড়া নষ্ট। দীর্ঘদিন ব্যবহার ও সংস্কারের অভাবে কোথাও টয়লেট ও গোসলখানাও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

আরেক বাসিন্দা রাফিজা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী মারা গেছে ১৩ বছর আগে। ছেলে নিজের সংসার চালাতে পারে না। আমাদের ঘরের অবস্থা খুব খারাপ। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। পলিথিন টানিয়েও পানি আটকানো যায় না। ঘরের খুঁটি ভেঙে রড বের হয়ে গেছে। কখন কী হয়, সেই ভয় থাকে।’

মনোয়ারা বেগম বলেন, ঘরের পাশাপাশি প্রকল্পের মৌলিক সুবিধাগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। তাঁর ভাষ্য, ‘ঘরের অবস্থা তো যা তা। টয়লেট নষ্ট, টিউবওয়েল নষ্ট। এত বছর ধরে কষ্ট করছি। আমরা গরিব মানুষ। নিজেদের টাকা দিয়ে ঘর ঠিক করার সামর্থ্য নেই। সরকার যদি একটু নজর দিত, তাহলে আমাদের কষ্টটা কমত।’

কাজল বেগম বলেন, তাঁর স্বামী একাই আয় করেন এবং সেই আয় দিয়ে সংসারের সব খরচ চালাতে হয়। তিনি বলেন, ‘এই টাকা দিয়ে সংসার চালাব, নাকি ঘর মেরামত করব? বৃষ্টি হলে ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। তখন মনে হয়, আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই।’

প্রায় দুই যুগ ধরে প্রকল্পে বসবাস করছেন রেখা আক্তার। স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার। তিনি বলেন, ‘দুই যুগ ধরে এখানে আছি। এত বছর হয়ে গেল, ঘরের অবস্থা ভালো হয়নি। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। তখন থাকা যায় না। আমরা চাই, সরকার আমাদের ঘরগুলো একটু ঠিক করে দিক।’

প্রকল্পের বাসিন্দা মোস্তফা মিয়ার দাবি, ১০০টি ঘরের কমবেশি একই অবস্থা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ১০০ ঘরের অবস্থাই এখন বেহাল। টিনের চালে একাধিক জায়গায় ফুটো হয়ে গেছে। আমাদের আয়-রোজগার ভালো থাকলে কারও কাছে সাহায্য চাইতাম না। সরকার যদি দ্রুত ঘরগুলো মেরামত করে দিত, তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো।’

বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিয়াবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর দুরবস্থার বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। সংস্কারের আশ্বাসও পেয়েছেন তাঁরা। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।

জানা গেছে, প্রায় ২৫ বছর আগে ভূমিহীন, বিধবা ও অসহায় মানুষের জন্য দিয়াবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়। নতুন ঘরগুলো তখন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে ছিল নিরাপদ জীবনের প্রতীক। কিন্তু দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে সেই ঘরগুলোই এখন অনেকের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, পুরো প্রকল্প সংস্কারের বিষয়টি সরকারের নীতিমালার আওতাভুক্ত। সরকার নতুন করে প্রকল্পটি গুছিয়ে নেওয়া বা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিলে জেলা প্রশাসন তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি কোনো বাসিন্দা ব্যক্তিগতভাবে ঘর সংস্কারের জন্য আবেদন করলে প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে সাধ্যমতো সহযোগিতার চেষ্টা করবে।

দিয়াবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ঘরগুলো সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করার পাশাপাশি নষ্ট টয়লেট, গোসলখানা ও টিউবওয়েলগুলোও মেরামত করা হোক। নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসনের আশায় এখন প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রকল্পের ১০০ পরিবার।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


দিয়াবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প: দুই যুগেও হয়নি সংস্কার, জীর্ণ ঘরে ১০০ পরিবারের বসবাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ আগষ্ট ২০২৬ ১৩:০৮ পিএম

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়নের দিয়াবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় ২৫ বছর ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন ১০০টি পরিবারের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় প্রকল্পের অধিকাংশ ঘর এখন জরাজীর্ণ।

বৃষ্টি হলেই টিনের ফুটো দিয়ে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। কোথাও ভেঙে গেছে খুঁটি ও বেড়া, নষ্ট হয়ে গেছে দরজা-জানালা। ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অনেক টয়লেট ও গোসলখানাও। ফলে নিরাপত্তাহীনতা ও নানা দুর্ভোগের মধ্যেই দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরের খুঁটি ও কাঠামো দীর্ঘদিনের ব্যবহারে নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও খুঁটি ভেঙে রড বেরিয়ে এসেছে। আবার অনেক ঘরের টিনের চাল ক্ষয়ে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ফুটো। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের মেঝেতে পানি জমে যায়। পানি ঠেকাতে বাসিন্দারা ঘরের চাল ও দেয়ালে পলিথিন টানিয়ে রেখেছেন। তাতেও পানি বন্ধ না হলে বালতি কিংবা জগ দিয়ে রাতভর পানি সরাতে হয়।

দীর্ঘদিনের এই দুরবস্থার সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রকল্পের অসহায়, বিধবা ও নিম্নআয়ের বাসিন্দারা। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতেই যাদের হিমশিম খেতে হয়, তাদের পক্ষে নিজেদের অর্থে জরাজীর্ণ ঘর মেরামত করা প্রায় অসম্ভব। ফলে বছরের পর বছর একই ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের।

প্রকল্পের বাসিন্দা আয়েশা বেগমের জীবনের গল্পও এই দুর্ভোগেরই প্রতিচ্ছবি। ১১ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর কয়েক মাস পর স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যায়। এখন ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। সংসারে নাবালক ছেলে থাকায় শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও ঘরের বারান্দায় ছোট একটি দোকান চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।

আয়েশা বেগম বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই আমার কষ্ট শুরু। কয়েক মাস পর আমি স্ট্রোক করি। এখন ঠিকমতো হাঁটতেও পারি না। তাই ৫০০/১০০০ টাকা দিয়ে ঘরের বারান্দায় ছোট একটা দোকান দিয়েছি। দোকান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চালাই। একবেলা খাবার জুটলে অন্যবেলা খেতে কষ্ট হয়ে যায়।’

ঘরের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হলে ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। পলিথিন টানিয়েও পানি আটকানো যায় না। ঘরের খুঁটি ভেঙে রড বের হয়ে গেছে। এই ঘরে থাকতে ভয় লাগে।’

আয়েশার মতো প্রকল্পের অন্য বাসিন্দারাও প্রতিদিন ভাঙা ঘর ও অনিশ্চয়তার সঙ্গে বসবাস করছেন। কারও ঘরের চাল ফুটো, কারও দেয়াল ও বেড়া নষ্ট। দীর্ঘদিন ব্যবহার ও সংস্কারের অভাবে কোথাও টয়লেট ও গোসলখানাও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

আরেক বাসিন্দা রাফিজা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী মারা গেছে ১৩ বছর আগে। ছেলে নিজের সংসার চালাতে পারে না। আমাদের ঘরের অবস্থা খুব খারাপ। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। পলিথিন টানিয়েও পানি আটকানো যায় না। ঘরের খুঁটি ভেঙে রড বের হয়ে গেছে। কখন কী হয়, সেই ভয় থাকে।’

মনোয়ারা বেগম বলেন, ঘরের পাশাপাশি প্রকল্পের মৌলিক সুবিধাগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। তাঁর ভাষ্য, ‘ঘরের অবস্থা তো যা তা। টয়লেট নষ্ট, টিউবওয়েল নষ্ট। এত বছর ধরে কষ্ট করছি। আমরা গরিব মানুষ। নিজেদের টাকা দিয়ে ঘর ঠিক করার সামর্থ্য নেই। সরকার যদি একটু নজর দিত, তাহলে আমাদের কষ্টটা কমত।’

কাজল বেগম বলেন, তাঁর স্বামী একাই আয় করেন এবং সেই আয় দিয়ে সংসারের সব খরচ চালাতে হয়। তিনি বলেন, ‘এই টাকা দিয়ে সংসার চালাব, নাকি ঘর মেরামত করব? বৃষ্টি হলে ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। তখন মনে হয়, আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই।’

প্রায় দুই যুগ ধরে প্রকল্পে বসবাস করছেন রেখা আক্তার। স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার। তিনি বলেন, ‘দুই যুগ ধরে এখানে আছি। এত বছর হয়ে গেল, ঘরের অবস্থা ভালো হয়নি। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। তখন থাকা যায় না। আমরা চাই, সরকার আমাদের ঘরগুলো একটু ঠিক করে দিক।’

প্রকল্পের বাসিন্দা মোস্তফা মিয়ার দাবি, ১০০টি ঘরের কমবেশি একই অবস্থা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ১০০ ঘরের অবস্থাই এখন বেহাল। টিনের চালে একাধিক জায়গায় ফুটো হয়ে গেছে। আমাদের আয়-রোজগার ভালো থাকলে কারও কাছে সাহায্য চাইতাম না। সরকার যদি দ্রুত ঘরগুলো মেরামত করে দিত, তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো।’

বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিয়াবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর দুরবস্থার বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। সংস্কারের আশ্বাসও পেয়েছেন তাঁরা। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।

জানা গেছে, প্রায় ২৫ বছর আগে ভূমিহীন, বিধবা ও অসহায় মানুষের জন্য দিয়াবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়। নতুন ঘরগুলো তখন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে ছিল নিরাপদ জীবনের প্রতীক। কিন্তু দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে সেই ঘরগুলোই এখন অনেকের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, পুরো প্রকল্প সংস্কারের বিষয়টি সরকারের নীতিমালার আওতাভুক্ত। সরকার নতুন করে প্রকল্পটি গুছিয়ে নেওয়া বা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিলে জেলা প্রশাসন তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি কোনো বাসিন্দা ব্যক্তিগতভাবে ঘর সংস্কারের জন্য আবেদন করলে প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে সাধ্যমতো সহযোগিতার চেষ্টা করবে।

দিয়াবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ঘরগুলো সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করার পাশাপাশি নষ্ট টয়লেট, গোসলখানা ও টিউবওয়েলগুলোও মেরামত করা হোক। নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসনের আশায় এখন প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রকল্পের ১০০ পরিবার।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর