দৌলতপুর সীমান্তে ১০০ অসহায় পরিবারের মাঝে বিজিবির খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বর্ষা মৌসুমে কর্মহীন হয়ে পড়া ১০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মানবিক দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এসব পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর পুরাতন বিজিবি ক্যাম্প প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সীমান্তবর্তী এলাকার ১০০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি, এসইউপি, পিএসসি, জি। তিনি উপকারভোগী পরিবারের সদস্যদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
এ সময় ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক, ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার, জুনিয়র কর্মকর্তা ও অন্যান্য সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি জানায়, চলমান বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষ নিয়মিত কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এতে অনেক পরিবার খাদ্যসংকটে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিতরণ করা খাদ্যসামগ্রী কর্মহীন পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্য চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বিজিবির এই সময়োপযোগী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সীমান্তবর্তী জনগণের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বিজিবি জানায়, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনেও বাহিনীটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, বন্যা ও শৈত্যপ্রবাহে ত্রাণ বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে বিজিবি।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) ভবিষ্যতেও সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও মানবিক কল্যাণে এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: