infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

লিথুয়ানিয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে নেপালে পাঠিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, ৩০ লাখ টাকা হারালেন ৬ যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৭ পিএম

লিথুয়ানিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নেপালে পাঠিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর একটি ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউরোপে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ছয়জন যুবকের কাছ থেকে মোট ৩০ লাখ টাকা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কেউই লিথুয়ানিয়ায় যেতে পারেননি। বরং দু'দফা নেপাল সফরের পর তারা দেশে ফিরে এসে প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

ভুক্তভোগীদের একজন নোয়াখালীর চাটখিলের নজরুল ইসলাম শুভ এ ঘটনায় গত ২৩ জুন রাজধানীর পল্টন থানায় এসকে ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের কর্ণধার সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অন্য ভুক্তভোগীরা হলেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আমির হোসেন, বসুরহাটের ফয়েজ আহমেদ, কুমিল্লার হোমনার নুর মোহাম্মদ ইয়াসিন, লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের আবুল ফারহান এবং ঢাকার মতিঝিলের ফইজ আহমেদ।

ইউরোপের স্বপ্ন, গন্তব্য হলো নেপাল

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাহাব উদ্দিন তাদের লিথুয়ানিয়ায় নির্মাণকাজের ভিসায় পাঠানোর আশ্বাস দেন। এজন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৫ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশে লিথুয়ানিয়ার দূতাবাস না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তাদের নেপালে পাঠানো হয়। সেখানে দূতাবাসে সাক্ষাৎকারের কথা বলা হলেও বাস্তবে একটি হোটেলে তাদের আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে জানানো হয়, ই-মেইলে ভিসার বার্তা পাঠানো হবে।

কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক সপ্তাহ নয়, প্রায় সাত মাস পর একটি ই-মেইল এলেও সেটির লিংক কার্যকর ছিল না। এরপরও ভিসা নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়ে আবার নেপাল পাঠানো হয় একজন ভুক্তভোগীকে।

৫৭ দিন নেপালে থেকেও মিলেনি ভিসা

নজরুল ইসলাম শুভ জানান, দ্বিতীয়বার নেপালে পাঠানোর সময় বলা হয়েছিল সাত দিনের মধ্যেই ভিসা হাতে পাবেন। কিন্তু তিনি সেখানে ৫৭ দিন অবস্থান করেও কোনো ভিসা পাননি। শেষ পর্যন্ত নিজ খরচে বাংলাদেশে ফিরে আসতে হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশে ফিরে জানতে পারেন তাদের ভিসা বাতিল হয়ে গেছে। এরপর টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২০ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছেন। বাকি অর্থের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ঘুরতে হচ্ছে।

অন্য ভুক্তভোগীরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তারা জানান, পরিবারের জমি বিক্রি, ব্যবসার মূলধন এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এই টাকা দিয়েছিলেন। এখন অর্থ হারিয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার ট্রাভেলস মালিকের

এসকে ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের কর্ণধার সাহাব উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার কাছে কারও কোনো পাওনা নেই। লিথুয়ানিয়ার ভিসা প্রক্রিয়া সফল না হওয়ায় প্রায় সবার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। কেবল একজনের কিছু অর্থ বাকি রয়েছে, সেটিও পরিশোধের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ভিসা প্রক্রিয়ার কাজ তিনি নিজে পরিচালনা করেননি। অন্য একজনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তবে সেই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি।

তদন্ত চলছে

পল্টন থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু সালেহ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত অর্থ ফেরত এবং প্রতারণার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


লিথুয়ানিয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে নেপালে পাঠিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, ৩০ লাখ টাকা হারালেন ৬ যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৭ পিএম

লিথুয়ানিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নেপালে পাঠিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর একটি ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউরোপে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ছয়জন যুবকের কাছ থেকে মোট ৩০ লাখ টাকা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কেউই লিথুয়ানিয়ায় যেতে পারেননি। বরং দু'দফা নেপাল সফরের পর তারা দেশে ফিরে এসে প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

ভুক্তভোগীদের একজন নোয়াখালীর চাটখিলের নজরুল ইসলাম শুভ এ ঘটনায় গত ২৩ জুন রাজধানীর পল্টন থানায় এসকে ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের কর্ণধার সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অন্য ভুক্তভোগীরা হলেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আমির হোসেন, বসুরহাটের ফয়েজ আহমেদ, কুমিল্লার হোমনার নুর মোহাম্মদ ইয়াসিন, লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের আবুল ফারহান এবং ঢাকার মতিঝিলের ফইজ আহমেদ।

ইউরোপের স্বপ্ন, গন্তব্য হলো নেপাল

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাহাব উদ্দিন তাদের লিথুয়ানিয়ায় নির্মাণকাজের ভিসায় পাঠানোর আশ্বাস দেন। এজন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৫ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশে লিথুয়ানিয়ার দূতাবাস না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তাদের নেপালে পাঠানো হয়। সেখানে দূতাবাসে সাক্ষাৎকারের কথা বলা হলেও বাস্তবে একটি হোটেলে তাদের আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে জানানো হয়, ই-মেইলে ভিসার বার্তা পাঠানো হবে।

কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক সপ্তাহ নয়, প্রায় সাত মাস পর একটি ই-মেইল এলেও সেটির লিংক কার্যকর ছিল না। এরপরও ভিসা নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়ে আবার নেপাল পাঠানো হয় একজন ভুক্তভোগীকে।

৫৭ দিন নেপালে থেকেও মিলেনি ভিসা

নজরুল ইসলাম শুভ জানান, দ্বিতীয়বার নেপালে পাঠানোর সময় বলা হয়েছিল সাত দিনের মধ্যেই ভিসা হাতে পাবেন। কিন্তু তিনি সেখানে ৫৭ দিন অবস্থান করেও কোনো ভিসা পাননি। শেষ পর্যন্ত নিজ খরচে বাংলাদেশে ফিরে আসতে হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশে ফিরে জানতে পারেন তাদের ভিসা বাতিল হয়ে গেছে। এরপর টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২০ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছেন। বাকি অর্থের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ঘুরতে হচ্ছে।

অন্য ভুক্তভোগীরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তারা জানান, পরিবারের জমি বিক্রি, ব্যবসার মূলধন এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এই টাকা দিয়েছিলেন। এখন অর্থ হারিয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার ট্রাভেলস মালিকের

এসকে ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের কর্ণধার সাহাব উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার কাছে কারও কোনো পাওনা নেই। লিথুয়ানিয়ার ভিসা প্রক্রিয়া সফল না হওয়ায় প্রায় সবার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। কেবল একজনের কিছু অর্থ বাকি রয়েছে, সেটিও পরিশোধের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ভিসা প্রক্রিয়ার কাজ তিনি নিজে পরিচালনা করেননি। অন্য একজনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তবে সেই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি।

তদন্ত চলছে

পল্টন থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু সালেহ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত অর্থ ফেরত এবং প্রতারণার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর