infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

কালীগঞ্জে স্বর্ণের দুলের লোভে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় কানে থাকা স্বর্ণের দুলের লোভে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত ঝালমুড়ি বিক্রেতা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা কাশিবাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

নিহত স্কুলছাত্রী ফারজানা সুলতানা (৯) কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তিনি একই গ্রামের আব্দুল লতিফের মেয়ে। অন্যদিকে, গণপিটুনিতে নিহত নারী সুমাইয়া খাতুন স্থানীয়ভাবে ঝালমুড়ি বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, সকালে ফারজানা স্কুলে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে ব্যাগ রেখে স্কুলসংলগ্ন সুমাইয়ার দোকানে ঝালমুড়ি কিনতে যায়। এ সময় শিশুটির কানে থাকা দুটি স্বর্ণের দুল দেখে অভিযুক্ত নারী তাকে কৌশলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে হাত-পা বেঁধে একটি ওয়ারড্রোবের ভেতরে আটকে রাখেন এবং একপর্যায়ে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ সেখানে লুকিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে ফারজানার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা এলাকায় মাইকিং করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজের সংবাদ প্রচার করেন। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে সোমবার সন্ধ্যার দিকে সুমাইয়ার বাড়িতে তল্লাশির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় প্রথমে বাধা দেওয়া হলেও পুলিশের উপস্থিতিতে ঘর তল্লাশি করে ওয়ারড্রোবের ভেতর থেকে ফারজানার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা সুমাইয়া খাতুনকে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, **"ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।"**

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


কালীগঞ্জে স্বর্ণের দুলের লোভে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় কানে থাকা স্বর্ণের দুলের লোভে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত ঝালমুড়ি বিক্রেতা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা কাশিবাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

নিহত স্কুলছাত্রী ফারজানা সুলতানা (৯) কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তিনি একই গ্রামের আব্দুল লতিফের মেয়ে। অন্যদিকে, গণপিটুনিতে নিহত নারী সুমাইয়া খাতুন স্থানীয়ভাবে ঝালমুড়ি বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, সকালে ফারজানা স্কুলে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে ব্যাগ রেখে স্কুলসংলগ্ন সুমাইয়ার দোকানে ঝালমুড়ি কিনতে যায়। এ সময় শিশুটির কানে থাকা দুটি স্বর্ণের দুল দেখে অভিযুক্ত নারী তাকে কৌশলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে হাত-পা বেঁধে একটি ওয়ারড্রোবের ভেতরে আটকে রাখেন এবং একপর্যায়ে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ সেখানে লুকিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে ফারজানার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা এলাকায় মাইকিং করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজের সংবাদ প্রচার করেন। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে সোমবার সন্ধ্যার দিকে সুমাইয়ার বাড়িতে তল্লাশির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় প্রথমে বাধা দেওয়া হলেও পুলিশের উপস্থিতিতে ঘর তল্লাশি করে ওয়ারড্রোবের ভেতর থেকে ফারজানার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা সুমাইয়া খাতুনকে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, **"ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।"**

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর