infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

স্থানীয় নির্বাচনে ইসির নতুন প্রস্তাব: প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ২০:০৭ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। একই সঙ্গে ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এবং লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিদেরও নির্বাচনে অযোগ্য করার সুপারিশ করেছে কমিশন।

মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আইন সংশোধন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধির প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, কমিশন নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এ লক্ষ্যে তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

ঋণখেলাপি ও গ্যারান্টারদের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান

আখতার আহমেদ জানান, শুধু ঋণগ্রহীতা নন, ঋণের গ্যারান্টারও যদি ঋণখেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন, তাহলে তিনিও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হবেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

এছাড়া বিদ্যুৎ বিল, ওয়াসার বিল, ভূমি করসহ বিভিন্ন সেবার বকেয়া থাকলেও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক— উভয় ধরনের বকেয়াকেই অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচনা করার সুপারিশ করেছে কমিশন।

দ্বৈত নাগরিক ও লাভজনক পদধারীদেরও নিষেধাজ্ঞা

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরাও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এ বিষয়ে সংবিধানের বিধানকে ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে কমিশন।

এ ছাড়া সরকারি বা অন্য কোনো লাভজনক পদে কর্মরত ব্যক্তিদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

আইন সংশোধনের উদ্যোগ

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব জানান, নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, আইন চূড়ান্ত করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নয়। কমিশন কেবল প্রস্তাব ও সুপারিশ দিতে পারে। আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে নতুন যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিধান কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


স্থানীয় নির্বাচনে ইসির নতুন প্রস্তাব: প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ২০:০৭ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। একই সঙ্গে ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এবং লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিদেরও নির্বাচনে অযোগ্য করার সুপারিশ করেছে কমিশন।

মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আইন সংশোধন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধির প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, কমিশন নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এ লক্ষ্যে তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

ঋণখেলাপি ও গ্যারান্টারদের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান

আখতার আহমেদ জানান, শুধু ঋণগ্রহীতা নন, ঋণের গ্যারান্টারও যদি ঋণখেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন, তাহলে তিনিও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হবেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

এছাড়া বিদ্যুৎ বিল, ওয়াসার বিল, ভূমি করসহ বিভিন্ন সেবার বকেয়া থাকলেও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক— উভয় ধরনের বকেয়াকেই অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচনা করার সুপারিশ করেছে কমিশন।

দ্বৈত নাগরিক ও লাভজনক পদধারীদেরও নিষেধাজ্ঞা

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরাও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এ বিষয়ে সংবিধানের বিধানকে ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে কমিশন।

এ ছাড়া সরকারি বা অন্য কোনো লাভজনক পদে কর্মরত ব্যক্তিদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

আইন সংশোধনের উদ্যোগ

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব জানান, নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, আইন চূড়ান্ত করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নয়। কমিশন কেবল প্রস্তাব ও সুপারিশ দিতে পারে। আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে নতুন যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিধান কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর