infoamaderdin@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

রূপগঞ্জে সরকারি অর্থে ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৭ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নে সরকারি খালের একাংশ ভরাট করে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ২৮ লাখ টাকার প্রকল্পের নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের একটি সরকারি খালের অংশে গজারি গাছ ও বাঁশ দিয়ে ঘের তৈরি করে সেখানে মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি, ভরাট করা অংশের মাটি ও বালু বারবার খালে পড়ে খালের আরও অংশ দখল হয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নৌকা প্রতীকে দুইবার নির্বাচিত হওয়া ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়া নিজের বাড়িতে যাতায়াতের সুবিধার জন্য নতুন একটি রাস্তার প্রকল্প অনুমোদন করিয়েছেন। তাদের দাবি, এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক উন্নয়নকাজ বাকি থাকলেও সেগুলো উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রশস্ত এই রাস্তা নির্মাণে উপজেলা পরিষদ থেকে ২৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে আল গনি বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, অতীতেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কাজ করেছেন ওই চেয়ারম্যান। তাদের দাবি, বর্তমানে খাল উদ্ধার নিয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ চললেও উল্টো খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য, রাস্তাটি কোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নয়, বরং স্থানীয় জনগণ ও ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া খাল ভরাটের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করেই প্রকল্পটির বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাউকে ম্যানেজ করে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। যদি তদন্তে সরকারি খালের মধ্যে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, প্রকল্পটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতেন। তবে অভিযোগ ওঠার পর সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানুর রহমানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের দিকে এখন নজর স্থানীয়দের।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


রূপগঞ্জে সরকারি অর্থে ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৭ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নে সরকারি খালের একাংশ ভরাট করে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ২৮ লাখ টাকার প্রকল্পের নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের একটি সরকারি খালের অংশে গজারি গাছ ও বাঁশ দিয়ে ঘের তৈরি করে সেখানে মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি, ভরাট করা অংশের মাটি ও বালু বারবার খালে পড়ে খালের আরও অংশ দখল হয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নৌকা প্রতীকে দুইবার নির্বাচিত হওয়া ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়া নিজের বাড়িতে যাতায়াতের সুবিধার জন্য নতুন একটি রাস্তার প্রকল্প অনুমোদন করিয়েছেন। তাদের দাবি, এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক উন্নয়নকাজ বাকি থাকলেও সেগুলো উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রশস্ত এই রাস্তা নির্মাণে উপজেলা পরিষদ থেকে ২৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে আল গনি বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, অতীতেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কাজ করেছেন ওই চেয়ারম্যান। তাদের দাবি, বর্তমানে খাল উদ্ধার নিয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ চললেও উল্টো খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য, রাস্তাটি কোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নয়, বরং স্থানীয় জনগণ ও ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া খাল ভরাটের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করেই প্রকল্পটির বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাউকে ম্যানেজ করে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। যদি তদন্তে সরকারি খালের মধ্যে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, প্রকল্পটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতেন। তবে অভিযোগ ওঠার পর সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানুর রহমানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের দিকে এখন নজর স্থানীয়দের।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর