মেয়াদ শেষের আগেই কলেজ সভাপতিকে অপসারণ, দায়িত্বে এমপির স্ত্রী; উঠছে স্বজনপ্রীতির প্রশ্ন
ঢাকার সাভারের মোফাজ্জল মোমেনা চাকলাদার মহিলা কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় আট মাস আগেই সরিয়ে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে।
হঠাৎ এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ২৩ জুলাই নতুন সভাপতির নাম জানানো হয়। তবে কলেজের অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বলছেন, চিঠি পাওয়ার আগে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল দুই বছরের জন্য কলেজটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান। সেই হিসাবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল। কিন্তু মেয়াদ বহাল থাকতেই তাঁকে সরিয়ে নতুন সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ, আলোচনা বা কারণ না জানিয়েই তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের কাউকে কিছু জানানো হয়নি। হঠাৎ করেই চিঠি এল। সেখানে দেখলাম এমপি সাহেবের স্ত্রীকে সভাপতি করা হয়েছে। যদি অন্য কোনো ব্যক্তি হতেন, তাহলে হয়তো এত প্রশ্ন উঠত না। কিন্তু একজন সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে এই দায়িত্ব দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নিয়মে পরিবর্তনের সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একজন সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে ওই পদে বসানো হয়েছে। আমার কাছে এটি স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বলেই মনে হয়।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নতুন সভাপতি সাবিনা সিদ্দিকা রিতা বলেন, কলেজটিতে নারী নেতৃত্বের প্রয়োজন ছিল বলেই তিনি আবেদন করেছিলেন।
তিনি বলেন, “যতটুকু জানি, কলেজের পক্ষ থেকেই নারী সভাপতি চাওয়া হয়েছিল। আমি আবেদন করেছি। আমার মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতাও বিবেচনা করা হয়েছে। যোগ্যতা না থাকলে হয়তো আমাকে বিবেচনা করা হতো না।”
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য সরাসরি দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। ফলে একজন সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কোনো পরিচালনা কমিটির সভাপতির মেয়াদ চলমান অবস্থায় তাঁকে অপসারণ করে নতুন সভাপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এলে পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
ঘটনাটি ইতোমধ্যে শিক্ষা অঙ্গন ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: