infoamaderdin@gmail.com শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

জুলাই সনদ অনুযায়ী হবে কি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন? যা বলছে সংবিধান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৪:০৭ পিএম

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে, নাকি বিদ্যমান সংবিধান অনুসারেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমান সাংবিধানিক অবস্থান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এ সময় পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধান অনুযায়ী কী হবে

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবিধানের বিধান অনুসারে জাতীয় সংসদকে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছেই জমা দিতে হয় এবং নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন এবং বিদ্যমান আইন অনুসারেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

জুলাই সনদে কী প্রস্তাব রয়েছে

জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে সংসদের দুই কক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

এছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা পরিবর্তনের কথাও আলোচনায় এসেছে, যাতে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন।

তবে এসব প্রস্তাব কার্যকর করতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত সেই সংশোধন হয়নি এবং সংসদের উচ্চকক্ষও গঠিত হয়নি। ফলে জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক ভিত্তি এখনো তৈরি হয়নি।

বর্তমান নির্বাচন হবে বিদ্যমান আইনেই

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধান সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধানই কার্যকর থাকবে। ফলে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমান সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুসারেই অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমান ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। একাধিক প্রার্থী থাকলে গোপন ব্যালটে ভোট হবে, আর একক বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও রয়েছে প্রস্তাব

জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধিরও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা পাবেন।

তবে এসব প্রস্তাবের কিছু বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নিয়োগ-সংক্রান্ত ক্ষমতা নিয়ে বিএনপি ভিন্নমত দিয়েছে।

বিএনপির অবস্থান

দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপি তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্তে যাচ্ছে না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের জন্য ৯০ দিনের সময় থাকায় দলটি বিষয়টি নিয়ে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবিধান সংশোধন না হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদের নতুন নির্বাচন পদ্ধতি নয়, বরং বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুসারেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


জুলাই সনদ অনুযায়ী হবে কি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন? যা বলছে সংবিধান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৪:০৭ পিএম

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে, নাকি বিদ্যমান সংবিধান অনুসারেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমান সাংবিধানিক অবস্থান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এ সময় পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধান অনুযায়ী কী হবে

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবিধানের বিধান অনুসারে জাতীয় সংসদকে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছেই জমা দিতে হয় এবং নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন এবং বিদ্যমান আইন অনুসারেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

জুলাই সনদে কী প্রস্তাব রয়েছে

জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে সংসদের দুই কক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

এছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা পরিবর্তনের কথাও আলোচনায় এসেছে, যাতে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন।

তবে এসব প্রস্তাব কার্যকর করতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত সেই সংশোধন হয়নি এবং সংসদের উচ্চকক্ষও গঠিত হয়নি। ফলে জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক ভিত্তি এখনো তৈরি হয়নি।

বর্তমান নির্বাচন হবে বিদ্যমান আইনেই

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধান সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধানই কার্যকর থাকবে। ফলে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমান সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুসারেই অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমান ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। একাধিক প্রার্থী থাকলে গোপন ব্যালটে ভোট হবে, আর একক বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও রয়েছে প্রস্তাব

জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধিরও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা পাবেন।

তবে এসব প্রস্তাবের কিছু বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নিয়োগ-সংক্রান্ত ক্ষমতা নিয়ে বিএনপি ভিন্নমত দিয়েছে।

বিএনপির অবস্থান

দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপি তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্তে যাচ্ছে না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের জন্য ৯০ দিনের সময় থাকায় দলটি বিষয়টি নিয়ে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবিধান সংশোধন না হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদের নতুন নির্বাচন পদ্ধতি নয়, বরং বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুসারেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর