রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে যেসব ভুল ও অসংগতি পাওয়া গেছে
এক পাতার পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দায়িত্ব ছেড়েছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পদত্যাগ করেছেন তিনি। তবে তাঁর স্বাক্ষরিত এ পদত্যাগপত্রে ১৯টি বানান ভুল ও অসংগতি লক্ষ করা গেছে। এত ভুল ও অসংগতি নিয়ে রীতিমতো হতবাক হয়েছেন নেটিজেনরা। এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রের ভুল বানান ও অসংগতি— স্পিকার বরাবর লিখিত এই পদত্যাগপত্রে ‘স্পিকার’ বানানটাই ভুল করে বসলেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। নিয়মানুযায়ী, ‘স্পিকার’ যেহেতু বিদেশি (ইংরেজি) উৎসের শব্দ, তাই ঈ-কার দিয়ে লেখা যাবে না; লিখতে হবে ই-কার দিয়ে। কিন্তু তিনি লিখেছেন ‘স্পীকার’, যা ভুল শব্দ।
পদত্যাগপত্রের বিষয় লিখতে গিয়ে বাহুল্য দোষ করে বসলেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তিনি লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ’। একবাক্যে দুইবার ‘পদ’ লিখেছেন তিনি। ফলে বাক্যটি বাহুল্যদোষে দুষ্ট হয়েছে। লেখা উচিত ছিল ‘রাষ্ট্রপতির পদ হতে ত্যাগ’ অথবা শুধু ‘পদত্যাগ’। কারণ পদত্যাগকারী কোন পদ ত্যাগ করছেন, তা পত্রে উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া তিনি স্পিকারকে সম্বোধন করে লিখেছেন, ‘শ্রদ্ধাজনেষু’। কিন্তু এ ধরনের শব্দ অভিধানের কোথাও নেই। শুদ্ধ বানানটি হলো ‘শ্রদ্ধাভাজনেষু’। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, ‘শ্রদ্ধাভাজনেষু’ অর্থ শ্রদ্ধাভাজন পুরুষকে লিখিত পত্রের সম্মানসূচক পাঠ।
তারিখ লিখতে গিয়েও বাহুল্য দোষ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল’। অভিধানমতে, সন ও খ্রিষ্টাব্দ সমার্থক শব্দ। তাই ‘খ্রি.’ ও ‘সন’ একসঙ্গে লেখা বাহুল্য এবং পরিহার্য। একই পত্রের অন্যত্র একই বিষয় প্রকাশে কেবল ‘সন’ লেখা হয়েছে। লেখা সমীচীন ছিল ‘২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৪শে এপ্রিল’ অথবা ‘২০২৩ সনের ২৪শে এপ্রিল’। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে...’। তবে বাক্য বিবেচনা লেখা সমীচীন ছিল ‘নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য রেখে...’।
‘কোন’ ও ‘কোনো’ শব্দদ্বয়ের আলাদা প্রয়োগ থাকলেও তিনি সমার্থক মনে করে ‘কোনো’-র জায়গায় লিখেছেন ‘কোন’, যা ভুল। ‘কোন’ শব্দের উচ্চারণ /কোন্/। অন্যদিকে ‘কোনো’ শব্দের উচ্চারণ /কোনো/। যেমন: কোন জামাটি নেবেন? কোনো জামা নেব না। বাক্যভেদে যেখানে যেটি দরকার, সেখানে সেটি ব্যবহার করা সমীচীন।
তিনি লিখেছেন, ‘হৃদরোগ’ ও ‘হৃদযন্ত্র’। উভয় বানানই গঠনগত দিক থেকে ভুল। গঠনগত দিক দিয়ে শব্দদ্বয়ের বানানে দ-য়ে হসন্ত অপরিহার্য ছিল। প্রমিত বানান ‘হৃদ্রোগ’ ও ‘হৃদ্যন্ত্র’। বহুল প্রচলিত ভুল শব্দ ‘ডায়াবেটিস’। জনসাধারণের মতো একই ভুল তিনিও করে বসলেন! শব্দটির প্রমিত বানান ‘ডায়াবিটিস’।
ব্যুৎপত্তি অনুযায়ী ‘পরীক্ষা’ ও ‘ইদানীং’ শব্দদ্বয়ের বানানে ঈ-কার অপরিহার্য থাকলেও তিনি লিখেছেন ‘পরিক্ষা’ ও ‘ইদানিং’। বহুবাচকতা প্রকাশ করতে ‘সমূহ’ শব্দের সাথে সেঁটে বসার নিয়ম থাকলেও তিনি লিখেছেন ‘রোগ সমূহের’; যা অসংগতি। এছাড়া ‘অসমার্থ্য’ শব্দটি শুদ্ধ হলেও একই অর্থে লেখা হয়েছে ‘অসমার্থ্যতা’; অপ্রমিত।
বন্ধনীর আগে-পরে একবর্ণ ফাঁক রাখার নিয়ম থাকলেও ফাঁক না রেখে লেখা হয়েছে ‘৫০(৩) অনুচ্ছেদ..’; এটা অসংগতি। লেখা উচিত ছিল ‘৫০ (৩) নং অনুচ্ছেদ...’। এছাড়া পূর্ণ বাক্য না হলে 'দাঁড়ি' চিহ্ন দেওয়া অপ্রয়োজনীয় হলেও তিন জায়গায় এমন অসংগতি লক্ষ করা গেছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: