infoamaderdin@gmail.com শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

কুষ্টিয়ার কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

ওহিদুল ইসলাম নেন্টু মোল্লা প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৭ পিএম

কুষ্টিয়ার কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের এক স্টাফের বিরুদ্ধে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্থানীয়রা ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে বিক্ষোভ করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন শত শত যাত্রী।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন শফিউল আওয়াল সুমন (৪০) এবং তার বাবা আব্দুর রহিম (৬৫)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পর উত্তেজিত যাত্রী ও স্থানীয়রা সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় ট্রেনের লোকোমাস্টার ও পরিচালক ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আহত শফিউল আওয়াল সুমন জানান, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছায়। তিনি তার অসুস্থ মা ও বাবাকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠতে গেলে এক স্টাফ বাধা দেন। এ সময় ওই স্টাফ তার মাকে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে যান। বিষয়টি নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ওই স্টাফ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে ও তার বাবাকে আঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের হাতে গুরুতর জখম হয়। অভিযুক্ত স্টাফের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় বলেও দাবি করেন তিনি।

কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ইনচার্জ ইতি খাতুন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে প্রশাসন তদন্ত করছে। তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী যাত্রী অভিযোগ করেছেন, ট্রেনের একটি বগির দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারী এ হামলার সঙ্গে জড়িত। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


কুষ্টিয়ার কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

ওহিদুল ইসলাম নেন্টু মোল্লা

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৭ পিএম

কুষ্টিয়ার কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের এক স্টাফের বিরুদ্ধে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্থানীয়রা ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে বিক্ষোভ করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন শত শত যাত্রী।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন শফিউল আওয়াল সুমন (৪০) এবং তার বাবা আব্দুর রহিম (৬৫)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পর উত্তেজিত যাত্রী ও স্থানীয়রা সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় ট্রেনের লোকোমাস্টার ও পরিচালক ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আহত শফিউল আওয়াল সুমন জানান, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছায়। তিনি তার অসুস্থ মা ও বাবাকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠতে গেলে এক স্টাফ বাধা দেন। এ সময় ওই স্টাফ তার মাকে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে যান। বিষয়টি নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ওই স্টাফ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে ও তার বাবাকে আঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের হাতে গুরুতর জখম হয়। অভিযুক্ত স্টাফের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় বলেও দাবি করেন তিনি।

কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ইনচার্জ ইতি খাতুন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে প্রশাসন তদন্ত করছে। তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী যাত্রী অভিযোগ করেছেন, ট্রেনের একটি বগির দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারী এ হামলার সঙ্গে জড়িত। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর