infoamaderdin@gmail.com শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণের ঘটনায় খুবিতে প্রশাসনের জরুরি সভা, ৭ দফা সিদ্ধান্ত

ফাহিম ইসলাম প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৭ পিএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের পর অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মীকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জরুরি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে

- অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত।

- ঘটনার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন।

- তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত।

- ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা।

- নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংবেদনশীল স্থানগুলোতে নিয়মিত তদারকি বৃদ্ধি।

- তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।

- শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ।

এর আগে অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। তারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। আন্দোলনের একপর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনে তালাও ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ন্যক্কারজনক। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ক্যাম্পাসজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রশাসনের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণের ঘটনায় খুবিতে প্রশাসনের জরুরি সভা, ৭ দফা সিদ্ধান্ত

ফাহিম ইসলাম

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৭ পিএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের পর অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মীকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জরুরি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে

- অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত।

- ঘটনার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন।

- তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত।

- ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা।

- নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংবেদনশীল স্থানগুলোতে নিয়মিত তদারকি বৃদ্ধি।

- তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।

- শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ।

এর আগে অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। তারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। আন্দোলনের একপর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনে তালাও ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ন্যক্কারজনক। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ক্যাম্পাসজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রশাসনের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর