infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
২ ভাদ্র ১৪৩৩

নওগাঁয় ১৩ খাল খননে সাশ্রয় ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, সরকারি কোষাগারে ফেরত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৭ আগষ্ট ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম

নওগাঁয় ১০ উপজেলার ১৩টি খাল খনন ও পুনঃখনন শেষে বরাদ্দের চেয়ে কম অর্থ ব্যয় হয়েছে। এতে সাশ্রয় হওয়া ১ কোটি ৩৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৮২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খাল খননের কাজ নিয়ে অনিয়ম ও দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার অভিযোগও উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের অন্যান্য জেলার মতো নওগাঁতেও মৃতপ্রায় খালগুলো পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় জেলার ১০ উপজেলার ১৩টি খাল খনন ও পুনঃখননের জন্য সরকার অর্থ বরাদ্দ দেয়। ইতোমধ্যে সবগুলো খালের খননকাজ শেষ হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৩টি খাল খননের জন্য মোট ৮ কোটি ৭০ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৭ কোটি ৩০ লাখ ৮৪ হাজার ৪১৫ টাকা। অবশিষ্ট ১ কোটি ৩৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৮২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় খাল খননের সুফল পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একসময় মৃতপ্রায় হয়ে পড়া এসব খালে এখন পানি জমছে। সেই পানি ব্যবহার করে খালপাড়ের মানুষ কৃষিজমিতে চাষাবাদ করছেন। অনেকে খালের পানিতে হাঁস পালন ও মাছ ধরছেন। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন জাতের পরিবেশবান্ধব গাছ।

জেলা সদর উপজেলার এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের শ্যামপুর মেইন রাস্তা হয়ে হরিপুর হয়ে কালুপাড়া বিল অভিমুখে খাল পুনঃখননের জন্য ৭১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫২ লাখ ৪৫ হাজার ৭২৮ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষ করে ১৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৫১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের হামড়ার বিল থেকে কৃষ্ণপুর অভিমুখে খাল পুনঃখননের জন্য ৯০ লাখ ৪২ হাজার ১৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৬৭ লাখ ৫৭ হাজার ৯৬৫ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

রাণীনগর উপজেলার ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেওলা বড়গাছা ব্রিজ হয়ে মালশন গিরিগ্রাম অভিমুখে খাল পুনঃখননের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যয় হয়েছে ৭২ লাখ ৬০ হাজার ৯৩২ টাকা। এতে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯১০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

আত্রাই উপজেলার ১.১৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নওদাপাড়া-সিংসাড়া খাল হয়ে শুকচারা মাঠ অভিমুখে খাল পুনঃখননের জন্য ২৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬২৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। খননকাজে ব্যয় হয়েছে ২৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। অবশিষ্ট ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬২৬ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

বদলগাছি উপজেলার ০.৭৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চাঁপাইনগর বাছিরের বাড়ি থেকে আধাইপুর শেষ মাথা পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ৬০৫ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বদলগাছির ১.২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ঢেঁকড়া সফির জমি থেকে খোর্দ্দভূবন ব্রিজ পর্যন্ত খাল/ক্যানেল সংস্কারের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৪৮ লাখ ২৯ হাজার ৬৩২ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে ২৮ লাখ ৯৯ হাজার ২১০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ উপজেলায় খাল খনন ও সংস্কারকাজ শেষে সরকারি কোষাগারে সবচেয়ে বেশি অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মহাদেবপুর উপজেলার ২.৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নারায়ণপুর ব্রিজ হয়ে কুড়াইল গ্রামের শেষ মাথা পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৫৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৪৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৪৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে ১২ লাখ ৫০ হাজার ৯৪৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মান্দা উপজেলার ১.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের হারকিশোর মৌজার বিল উথরাইল ব্রিজ থেকে বাদলঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৫৪ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৫৪ লাখ ১ হাজার ১৫৩ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে ফেরত দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৩২৭ টাকা।

এ ছাড়া ২.১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁকাপুর মৌজার বাঁকাপুর দফাদার মোড় মেইন রোড থেকে বিল উথরাইল পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৫৪ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৫৪ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৩ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ২০ হাজার ২০৪ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের তথ্যে ফেরত দেওয়া অর্থের পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৩১ টাকা বলা হয়েছে, যা বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মান্দার এই দুটি খাল খননকাজ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়সারাভাবে খালের খননকাজ শেষ করা হয়েছে।

পোরশা উপজেলার ৩.২৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ইলাম মৌজার মাক্তাপুর মোড় থেকে হাতিখোচা বিল অভিমুখে খাল পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। খননকাজে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮৮৮ টাকা। এতে ১২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

নিয়ামতপুর উপজেলার ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিষ্ণুপুর বাবুল হাজীর জমি থেকে বিষ্ণুপুর ব্রিজ হয়ে সন্তোষপাড়া ছাতড়া ব্রিজ পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৪১৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৫৪ লাখ ৫৭ হাজার ৬৫৭ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে ৯ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

পত্নীতলা উপজেলার ১.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চক আবদাল (কাষ্ণিপুকুর) ইটভাটার নিকট থেকে পত্নীতলা আবেদিয়া স্লুইসগেট অভিমুখে খাল খননের জন্য ৫৪ লাখ ৬৮ হাজার ১২৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ৫২৬ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

ধামইরহাট উপজেলার ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চৌঘাট ব্রিজ থেকে দক্ষিণ দিকে ছিলিমপুর স্লুইসগেট পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৫৭ লাখ ৪৬ হাজার ২১০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৫৪ লাখ ৩০ টাকা ব্যয়ে খননকাজ শেষে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ১৮০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

খাল খননের পর অবশিষ্ট কত টাকা জমা দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী বলেন, ‘আমার এখন মনে নেই, তবে ডিসি অফিসে তথ্য দেওয়া হয়েছে।’ খাল খননে অনিয়ম হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে লিখিতভাবে কেউ অভিযোগ দেয়নি।’

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানান, খাল খননের পর খালের পাড়ে ঘাসজাতীয় নানা উদ্ভিদ এবং বিভিন্ন জাতের পরিবেশবান্ধব গাছ লাগানো হয়েছে। এতে খালের পাড়ের স্থায়িত্ব বাড়বে এবং সুফল পাবেন এলাকার মানুষ। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী খাল খননকাজ শেষে কিছু অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে উপজেলায় আরও যেসব মৃতপ্রায় খাল রয়েছে, সেগুলোও পুনঃখনন করা প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার মৃতপ্রায় খালগুলো খনন ও পুনঃখনন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তদারকিতে প্রতিটি খালের কাজ করা হয়েছে। যেসব খালে সমস্যা দেখা গেছে, সেগুলো পুনরায় সংস্কার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মৃতপ্রায় খালগুলো পুনঃখননের ফলে জেলার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন, মাছের বংশবৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে ছোট নৌপথ সচল হওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও এসব খাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নওগাঁয় খাল খনন, নওগাঁ খাল পুনঃখনন, সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরত, খাল খননে সাশ্রয়, নওগাঁর খাল

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


নওগাঁয় ১৩ খাল খননে সাশ্রয় ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, সরকারি কোষাগারে ফেরত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ আগষ্ট ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম

নওগাঁয় ১০ উপজেলার ১৩টি খাল খনন ও পুনঃখনন শেষে বরাদ্দের চেয়ে কম অর্থ ব্যয় হয়েছে। এতে সাশ্রয় হওয়া ১ কোটি ৩৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৮২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খাল খননের কাজ নিয়ে অনিয়ম ও দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার অভিযোগও উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের অন্যান্য জেলার মতো নওগাঁতেও মৃতপ্রায় খালগুলো পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় জেলার ১০ উপজেলার ১৩টি খাল খনন ও পুনঃখননের জন্য সরকার অর্থ বরাদ্দ দেয়। ইতোমধ্যে সবগুলো খালের খননকাজ শেষ হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৩টি খাল খননের জন্য মোট ৮ কোটি ৭০ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৭ কোটি ৩০ লাখ ৮৪ হাজার ৪১৫ টাকা। অবশিষ্ট ১ কোটি ৩৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৮২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় খাল খননের সুফল পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একসময় মৃতপ্রায় হয়ে পড়া এসব খালে এখন পানি জমছে। সেই পানি ব্যবহার করে খালপাড়ের মানুষ কৃষিজমিতে চাষাবাদ করছেন। অনেকে খালের পানিতে হাঁস পালন ও মাছ ধরছেন। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন জাতের পরিবেশবান্ধব গাছ।

জেলা সদর উপজেলার এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের শ্যামপুর মেইন রাস্তা হয়ে হরিপুর হয়ে কালুপাড়া বিল অভিমুখে খাল পুনঃখননের জন্য ৭১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫২ লাখ ৪৫ হাজার ৭২৮ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষ করে ১৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৫১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের হামড়ার বিল থেকে কৃষ্ণপুর অভিমুখে খাল পুনঃখননের জন্য ৯০ লাখ ৪২ হাজার ১৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৬৭ লাখ ৫৭ হাজার ৯৬৫ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

রাণীনগর উপজেলার ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেওলা বড়গাছা ব্রিজ হয়ে মালশন গিরিগ্রাম অভিমুখে খাল পুনঃখননের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যয় হয়েছে ৭২ লাখ ৬০ হাজার ৯৩২ টাকা। এতে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯১০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

আত্রাই উপজেলার ১.১৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নওদাপাড়া-সিংসাড়া খাল হয়ে শুকচারা মাঠ অভিমুখে খাল পুনঃখননের জন্য ২৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬২৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। খননকাজে ব্যয় হয়েছে ২৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। অবশিষ্ট ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬২৬ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

বদলগাছি উপজেলার ০.৭৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চাঁপাইনগর বাছিরের বাড়ি থেকে আধাইপুর শেষ মাথা পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ৬০৫ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বদলগাছির ১.২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ঢেঁকড়া সফির জমি থেকে খোর্দ্দভূবন ব্রিজ পর্যন্ত খাল/ক্যানেল সংস্কারের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৪৮ লাখ ২৯ হাজার ৬৩২ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে ২৮ লাখ ৯৯ হাজার ২১০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ উপজেলায় খাল খনন ও সংস্কারকাজ শেষে সরকারি কোষাগারে সবচেয়ে বেশি অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মহাদেবপুর উপজেলার ২.৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নারায়ণপুর ব্রিজ হয়ে কুড়াইল গ্রামের শেষ মাথা পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৫৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৪৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৪৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে ১২ লাখ ৫০ হাজার ৯৪৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মান্দা উপজেলার ১.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের হারকিশোর মৌজার বিল উথরাইল ব্রিজ থেকে বাদলঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৫৪ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৫৪ লাখ ১ হাজার ১৫৩ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে ফেরত দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৩২৭ টাকা।

এ ছাড়া ২.১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁকাপুর মৌজার বাঁকাপুর দফাদার মোড় মেইন রোড থেকে বিল উথরাইল পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৫৪ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৫৪ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৩ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে ২০ হাজার ২০৪ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের তথ্যে ফেরত দেওয়া অর্থের পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৩১ টাকা বলা হয়েছে, যা বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মান্দার এই দুটি খাল খননকাজ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়সারাভাবে খালের খননকাজ শেষ করা হয়েছে।

পোরশা উপজেলার ৩.২৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ইলাম মৌজার মাক্তাপুর মোড় থেকে হাতিখোচা বিল অভিমুখে খাল পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। খননকাজে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮৮৮ টাকা। এতে ১২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

নিয়ামতপুর উপজেলার ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিষ্ণুপুর বাবুল হাজীর জমি থেকে বিষ্ণুপুর ব্রিজ হয়ে সন্তোষপাড়া ছাতড়া ব্রিজ পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৪১৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৫৪ লাখ ৫৭ হাজার ৬৫৭ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে ৯ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

পত্নীতলা উপজেলার ১.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চক আবদাল (কাষ্ণিপুকুর) ইটভাটার নিকট থেকে পত্নীতলা আবেদিয়া স্লুইসগেট অভিমুখে খাল খননের জন্য ৫৪ লাখ ৬৮ হাজার ১২৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ৫২৬ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষে ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

ধামইরহাট উপজেলার ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চৌঘাট ব্রিজ থেকে দক্ষিণ দিকে ছিলিমপুর স্লুইসগেট পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য ৫৭ লাখ ৪৬ হাজার ২১০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৫৪ লাখ ৩০ টাকা ব্যয়ে খননকাজ শেষে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ১৮০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

খাল খননের পর অবশিষ্ট কত টাকা জমা দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী বলেন, ‘আমার এখন মনে নেই, তবে ডিসি অফিসে তথ্য দেওয়া হয়েছে।’ খাল খননে অনিয়ম হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে লিখিতভাবে কেউ অভিযোগ দেয়নি।’

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানান, খাল খননের পর খালের পাড়ে ঘাসজাতীয় নানা উদ্ভিদ এবং বিভিন্ন জাতের পরিবেশবান্ধব গাছ লাগানো হয়েছে। এতে খালের পাড়ের স্থায়িত্ব বাড়বে এবং সুফল পাবেন এলাকার মানুষ। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী খাল খননকাজ শেষে কিছু অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে উপজেলায় আরও যেসব মৃতপ্রায় খাল রয়েছে, সেগুলোও পুনঃখনন করা প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার মৃতপ্রায় খালগুলো খনন ও পুনঃখনন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তদারকিতে প্রতিটি খালের কাজ করা হয়েছে। যেসব খালে সমস্যা দেখা গেছে, সেগুলো পুনরায় সংস্কার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মৃতপ্রায় খালগুলো পুনঃখননের ফলে জেলার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন, মাছের বংশবৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে ছোট নৌপথ সচল হওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও এসব খাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নওগাঁয় খাল খনন, নওগাঁ খাল পুনঃখনন, সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরত, খাল খননে সাশ্রয়, নওগাঁর খাল

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর