দম্পতি-গৃহকর্মী হত্যায় তদন্ত সিআইডিতে হস্তান্তরের দাবি পরিবারের
সিলেট নগরীর রায়নগরে তিন খুন মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির সন্তানরা।
হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর আজ সোমবার সকালে রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে নিহত দম্পতির ছেলে আরিফ ইফতেখার, মেয়ে ও মামলার বাদী সেলিনা সুলতানাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে আরিফ বলেছেন, ‘আমরা প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখতে চাই। তবে তদন্ত যেন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হয়।’ মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে মামলাটির তদন্তভার দ্রুত সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হোক। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই পার না পেয়ে যায়, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান নিহত দম্পতির সন্তানরা।
নিহতদের সন্তানরা জানান, তারা বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। এ কারণে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি তারা।
গত বুধবার সকালে সিলেট নগরের রায়নগর এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং তাদের গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)-এর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আব্দুস সাত্তার একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি রায়নগরের নিজ বাসায় বসবাস করতেন। নিহত দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে দুইজন যুক্তরাজ্যে এবং দুইজন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।
ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করে পুলিশ। বাবুলকে গতকাল রবিবার এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে তিনি তিনজনকে হত্যা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে পুলিশের এই বক্তব্য শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে নিহত দম্পতির পরিবার। তাদের দাবি, প্রেমের সম্পর্কের জেরে হত্যাকাণ্ডের যে তথ্য পুলিশ দিয়েছে, তা তারা বিশ্বাস করেন না।
জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ এনে গত শুক্রবার রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জের ধরে লোক ভাড়া করে প্রবীণ দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে। এ কারণে মামলার তদন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছেন নিহতদের সন্তানরা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সোবহানীঘাট ফাঁড়ির ওসি শিপলু চৌধুরীর ভাষ্য, এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
নিহতদের সন্তানদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বললেন, `আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আর সিআইডি তো পুলিশেরই একটি ইউনিট।'

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: