এক বছরের কাজ শুরু হয়নি দুই বছরেও, খানাখন্দে স্থানীয়দের ভোগান্তি চরমে
কাজ শুরু করে শেষ করার কথা ছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে। অথচ কার্যাদেশের দুই বছর পার হলেও শুরু হয়নি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নৈনারপার বাজার-ইসলামপুর ইউপি অফিস ভায়া কাঁঠালকান্দি বিওপি ক্যাম্প সড়ক সংস্কারের কাজ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর থেকে তাগিদপত্র দেওয়া হলেও তা তোয়াক্কা করছেন না ঠিকাদার।
এদিকে, দিন দিন সংস্কারহীন সড়কটিতে কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দ বাড়ছে, সৃষ্টি হচ্ছে অসংখ্য গর্ত। এতে প্রতিদিন যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অবিলম্বে সড়কটির কাজ শুরুর করার দাবি জানিয়েছে তারা।
সূত্র জানায়, বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়কের অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে একটি প্যাকেজে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চারটি সড়কের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এতে খরচ ধরা হয় প্রায় ১৪ কোটি টাকা।
চার সড়কের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কমলগঞ্জের চৈত্রঘাট-নয়াবাজার ভায়া শহীদনগর সড়ক ও নৈনারপার বাজার-ইসলামপুর ইউপি অফিস ভায়া কাঁঠালকান্দি বিওপি ক্যাম্প সড়ক সড়ক। সড়ক দুটির সংস্কার কাজে সমন্বিত প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ছয় কোটি টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কুলাউড়ার মো. মুহিবুর রহমান ও আরএবিআরসি (প্রাইভেট) লিমিটেড।
ঠিকাদার ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল কার্যাদেশ পাওয়ার পর ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার মেয়াদ ছিল। ঠিকাদার মুহিবুর রহমান কোকিল প্রথম সড়ক (চৈত্রঘাট-নয়াবাজার)-এর কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করলেও, নৈনারপার বাজার-ইসলামপুর বিওপি সড়কের কাজ দুই বছর পরও শুরু করেননি।
এর আগে টেন্ডার পাওয়ার পাঁচ মাস পরও কাজ শুরু না করায় ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে তাগিদপত্র পাঠানো হয়। কিন্তু লিখিত তাগিদ দেওয়া হলেও কাজ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ফলে সড়কে দুই বছর আগের ছোট গর্ত এখন বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিন সড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে পাথর ও মাটি বের হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলোতে পানি জমে কাদা-পানিতে একাকার। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-র কাঁঠালকান্দি বিওপি ক্যাম্পের যাতায়াতসহ সড়কটি সীমান্ত এলাকার মানুষের মূল ভরসা বলে জানায় স্থানীয়রা।
নইনারপারের বাসিন্দা শাব্বীর এলাহী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই বছর আগে সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার কথা শুনে আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার ও দপ্তরের গাফিলতিতে আজ এই সড়কের কাজ অনিশ্চিত।
নিয়মিত এই রুটে যান চালানো কাঁঠালকান্দি গ্রামের অটোরিকশার চালক রহমত আলী বলেন, ‘ভাঙা সড়কের কারণে প্রায় প্রতিদিনই গাড়ি নষ্ট হয়, চাকা পাংচার হয়। রোগী বা গর্ভবতী মায়েদের এই রাস্তায় নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা আর এই কষ্ট সহ্য করতে পারছি না।’
নইনারপার বাজারের ব্যবসায়ী ফয়সল আহমদ বলেন, ‘সড়কটির অবস্থা খুব খারাপ। দুই বছর আগে সড়কটির যে ভঙ্গুর অবস্থা ছিল, বতর্মানে তা দ্বিগুণ হয়েছে। নতুন করে বিভিন্ন স্থানে কাপের্টিং উঠে গেছে। এখন পুরো রাস্তায় ভাঙাচুড়া।’
এ ব্যাপারে ঠিকাদার মুহিবুর রহমান বলেন, ‘প্রথম সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা হয়েছে। তবে নৈনারপার অংশের বিটুমিন ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং অফিসের কিছু জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে সরঞ্জাম পাঠিয়ে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল আজম সড়কটির কাজ শুরু না করার কথা স্বীকার করে বলেন, অফিস থেকে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি দ্রূত কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: