১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় হোটেল দখলের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১
কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় নকশি রিসোর্ট নামের একটি আবাসিক হোটেল জবরদখল, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হোটেল মালিক ইশরাত জাহান চৌধুরী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন।
মামলার পর মাহফুজ শাকিল নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৭ আগস্ট রাত ৩টার দিকে মিনারুল কবির আল-আমিন, মাহফুজ শাকিল, আশিক বাহিনীর প্রধান আশিকুর ইসলাম ও আরিফসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে নকশি রিসোর্ট নামের আবাসিক হোটেলে প্রবেশ করেন।
এ সময় তারা হোটেলে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করেন।
পরে হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে ৩২ ইঞ্চির আটটি স্যামসাং টেলিভিশন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এসব টেলিভিশনের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এজাহারে বলা হয়েছে, হোটেলের কর্মচারী আব্দু শুকুর তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে মারধর করে আহত করা হয়। পরে মালিককে ফোন করার চেষ্টা করলে তাঁর ব্যবহৃত একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাঁকে হোটেল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা কয়েকদিন ধরে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় মিল্কি রিসোর্ট নামের একটি হোটেলে তার মালিকানাধীন চারটি ফ্ল্যাট ও একটি দোকানও জবরদখল করা হয়েছে।
পাশাপাশি ব্যবসা করতে না দেওয়া, তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার এবং তার শিশুসন্তানকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি এর আগে তিন-চারটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
পরে খবর পেয়ে হোটেলে গেলে বাদীকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রাণভয়ে তিনি সেখান থেকে সরে এসে থানায় মামলা করেন।
মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাহফুজ শাকিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: