infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে, অবশেষে বরখাস্ত

মেহেদি হাসান প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:০৯ পিএম

মেহেদি

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরুর আগেই অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী উপজেলার ছালাপাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসব ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট বিকেলে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে সহকারী শিক্ষক রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনার দিনই শিক্ষার্থী বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগমকে জানায়। পরে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেন।

বুধবার সকালে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের একটি দল বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগমসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম বিদ্যালয় থেকে চলে যান।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শায়লা জেসমিন সাঈদ, সহকারী শিক্ষা অফিসার মোজাহিদুল ইসলাম, গজঘণ্টা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বকুল মিয়া, উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল প্রধান আশরাফুল আলম, গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চাঁন,

ইউপি সদস্য তাজ উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফুল আলম এবং গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অবরুদ্ধ শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্ধার করেন।

ঘটনার পর তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত শিক্ষক রিয়াজুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তের ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো শিক্ষককে বরখাস্তের ঘোষণা এবং বিদ্যালয়ে বিক্ষোভের সময় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবরুদ্ধ করার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চাঁন।

তিনি বলেন, “মব সৃষ্টি করে তদন্ত ছাড়াই কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত করা বিধিসম্মত নয়। কোনো শিক্ষক যদি অন্যায় করেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তিনি দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তদন্ত ছাড়া কাউকে বরখাস্ত করা ঠিক নয়।”

তিনি আরও বলেন, “মব সৃষ্টি করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং তদন্ত ছাড়াই বরখাস্তের বিষয়টি আমি ঠিক মনে করি না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এজন্য শিক্ষক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম বলেন, “ঘটনার দিনই শিক্ষার্থী বিষয়টি আমাকে জানায়। আমি বিষয়টি উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেছি।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, “ঘটনাটি জানার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বুধবার বিদ্যালয়ে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

এদিকে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। শিক্ষক নেতারা বলছেন, অভিযোগ গুরুতর হলেও তদন্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করার ঘটনাও গ্রহণযোগ্য নয়।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রিয়াজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে, অবশেষে বরখাস্ত

মেহেদি হাসান

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:০৯ পিএম

মেহেদি

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরুর আগেই অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী উপজেলার ছালাপাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসব ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট বিকেলে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে সহকারী শিক্ষক রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনার দিনই শিক্ষার্থী বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগমকে জানায়। পরে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেন।

বুধবার সকালে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের একটি দল বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগমসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম বিদ্যালয় থেকে চলে যান।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শায়লা জেসমিন সাঈদ, সহকারী শিক্ষা অফিসার মোজাহিদুল ইসলাম, গজঘণ্টা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বকুল মিয়া, উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল প্রধান আশরাফুল আলম, গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চাঁন,

ইউপি সদস্য তাজ উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফুল আলম এবং গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অবরুদ্ধ শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্ধার করেন।

ঘটনার পর তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত শিক্ষক রিয়াজুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তের ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো শিক্ষককে বরখাস্তের ঘোষণা এবং বিদ্যালয়ে বিক্ষোভের সময় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবরুদ্ধ করার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চাঁন।

তিনি বলেন, “মব সৃষ্টি করে তদন্ত ছাড়াই কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত করা বিধিসম্মত নয়। কোনো শিক্ষক যদি অন্যায় করেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তিনি দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তদন্ত ছাড়া কাউকে বরখাস্ত করা ঠিক নয়।”

তিনি আরও বলেন, “মব সৃষ্টি করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং তদন্ত ছাড়াই বরখাস্তের বিষয়টি আমি ঠিক মনে করি না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এজন্য শিক্ষক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম বলেন, “ঘটনার দিনই শিক্ষার্থী বিষয়টি আমাকে জানায়। আমি বিষয়টি উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেছি।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, “ঘটনাটি জানার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বুধবার বিদ্যালয়ে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

এদিকে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। শিক্ষক নেতারা বলছেন, অভিযোগ গুরুতর হলেও তদন্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করার ঘটনাও গ্রহণযোগ্য নয়।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রিয়াজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর