infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঢামেকের প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি বাতিল, নেপথ্যে কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১২ আগষ্ট ২০২৬ ১৩:০৮ পিএম

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামের বদলি বাতিলের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত ২৮ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতর রেজাউল ইসলাম ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে রদবদল করে বদলির আদেশ জারি করেছিল। তবে মাত্র ১৩ দিনের মাথায়, গত ১০ আগস্ট সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন আদেশ জারি করা হয়।

বদলি আদেশ জারির পর মোজাম্মেল হক ঢামেক হাসপাতালে যোগদান করতে এলেও তার যোগদানের কাগজ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, রেজাউল ইসলামও আগের মতোই ঢামেকের প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ পরিস্থিতির মধ্যেই বদলির আদেশ বাতিল হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, কী কারণে এত দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো এবং এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহল বা স্বার্থসংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না।

গত ২৮ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) ডা. রেজাউল আহমেদের সই করা প্রজ্ঞাপনে রেজাউল ইসলাম ও মোজাম্মেল হকের কর্মস্থল পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে তিন কর্মদিবসের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অন্যথায় চতুর্থ কর্মদিবস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

তবে বদলি আদেশ কার্যকর না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এক পক্ষের অভিযোগ, হাসপাতালের টেন্ডার-সংক্রান্ত বিষয় এবং নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার স্বার্থে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী রেজাউল ইসলামকে ঢামেকে বহাল রাখার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে রেজাউলের ঘনিষ্ঠতা থাকায় তার বদলি ঠেকাতে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে তদবির করা হয়েছে।

অন্যদিকে আরেক পক্ষের অভিযোগ, টেন্ডার-সংক্রান্ত সুবিধা না পাওয়ায় ঠিকাদার ও চিকিৎসকদের একটি পক্ষ অর্থ ব্যয় করে মোজাম্মেল হককে ঢামেকে বদলি করিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বদলির পরও কেন ঢামেকে দায়িত্ব পালন করছেন, জানতে চাইলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার কাজে কোনো গাফিলতি না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়তে চায়নি। তিনি দাবি করেন, একটি পক্ষ অর্থের বিনিময়ে তার বদলির প্রজ্ঞাপন করিয়েছে। টেন্ডারের কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত কোনো এখতিয়ার নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

রেজাউল ইসলাম আরও বলেন, টেন্ডারের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কমিটি নেয়। সেখানে চিকিৎসক ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা থাকেন। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও তার সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, মোজাম্মেল হকের পক্ষে থাকা কয়েকজন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নেয়। সোমবার (১০ আগস্ট) কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা ও জুনিয়র চিকিৎসক রেজাউল ইসলামের কক্ষে তালা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারী বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এর পরদিন মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতাল এলাকায় মারামারি এবং পরিচালককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটে। পরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে তার কক্ষে বিক্ষোভ করেন কয়েকজন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আবাসিক সার্জন ডা. অভি, ডা. নজরুল, ইউরোলজি বিভাগের ডা. আসাদ, ডা. নাহিদ এবং ঢামেকের ৭৩তম ব্যাচের ছাত্রদল নেতা ডা. মিশকাতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এ পরিস্থিতির পেছনে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এএসপি) ডা. মুহাম্মদ জাবেদ আহমেদের ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, সরকারি বদলি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হলেও ব্যক্তিস্বার্থে জোরপ্রয়োগ করে কোনো সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরিচালক আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন ডা. জাবেদ এবং তার সুবিধার জন্য তার বিশ্বস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি করা হচ্ছে।

ডা. মুহাম্মদ জাবেদ আহমেদ কিছুদিন আগে ঢামেক হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২৭তম বিসিএসের সুপারিশপ্রাপ্ত এএসপি হিসেবে সারদায় প্রশিক্ষণে যুক্ত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে মোজাম্মেল হকের পক্ষের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, একজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার বদলি ঠেকানোর পেছনে পরিচালকের স্বার্থ রয়েছে। তারা পরিচালকের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পরিচালকের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি দাবি করেছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বদলি হওয়া কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। কোনো পক্ষ যেন ব্যক্তিগত স্বার্থে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সে বিষয়েই তিনি আপত্তি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, টেন্ডার বাণিজ্য ও কর্মকর্তাদের বদলির পেছনে ভূমিকা রাখার অভিযোগ ওঠা ডা. মুহাম্মদ জাবেদ আহমেদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

রেজাউল ইসলামের বদলি কেন করা হয়েছিল এবং মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে কেন সেই আদেশ বাতিল করা হলো—এ প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি ও বাতিলের ঘটনাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


ঢামেকের প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি বাতিল, নেপথ্যে কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ আগষ্ট ২০২৬ ১৩:০৮ পিএম

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামের বদলি বাতিলের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত ২৮ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতর রেজাউল ইসলাম ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে রদবদল করে বদলির আদেশ জারি করেছিল। তবে মাত্র ১৩ দিনের মাথায়, গত ১০ আগস্ট সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন আদেশ জারি করা হয়।

বদলি আদেশ জারির পর মোজাম্মেল হক ঢামেক হাসপাতালে যোগদান করতে এলেও তার যোগদানের কাগজ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, রেজাউল ইসলামও আগের মতোই ঢামেকের প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ পরিস্থিতির মধ্যেই বদলির আদেশ বাতিল হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, কী কারণে এত দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো এবং এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহল বা স্বার্থসংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না।

গত ২৮ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) ডা. রেজাউল আহমেদের সই করা প্রজ্ঞাপনে রেজাউল ইসলাম ও মোজাম্মেল হকের কর্মস্থল পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে তিন কর্মদিবসের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অন্যথায় চতুর্থ কর্মদিবস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

তবে বদলি আদেশ কার্যকর না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এক পক্ষের অভিযোগ, হাসপাতালের টেন্ডার-সংক্রান্ত বিষয় এবং নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার স্বার্থে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী রেজাউল ইসলামকে ঢামেকে বহাল রাখার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে রেজাউলের ঘনিষ্ঠতা থাকায় তার বদলি ঠেকাতে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে তদবির করা হয়েছে।

অন্যদিকে আরেক পক্ষের অভিযোগ, টেন্ডার-সংক্রান্ত সুবিধা না পাওয়ায় ঠিকাদার ও চিকিৎসকদের একটি পক্ষ অর্থ ব্যয় করে মোজাম্মেল হককে ঢামেকে বদলি করিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বদলির পরও কেন ঢামেকে দায়িত্ব পালন করছেন, জানতে চাইলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার কাজে কোনো গাফিলতি না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়তে চায়নি। তিনি দাবি করেন, একটি পক্ষ অর্থের বিনিময়ে তার বদলির প্রজ্ঞাপন করিয়েছে। টেন্ডারের কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত কোনো এখতিয়ার নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

রেজাউল ইসলাম আরও বলেন, টেন্ডারের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কমিটি নেয়। সেখানে চিকিৎসক ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা থাকেন। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও তার সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, মোজাম্মেল হকের পক্ষে থাকা কয়েকজন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নেয়। সোমবার (১০ আগস্ট) কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা ও জুনিয়র চিকিৎসক রেজাউল ইসলামের কক্ষে তালা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারী বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এর পরদিন মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতাল এলাকায় মারামারি এবং পরিচালককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটে। পরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে তার কক্ষে বিক্ষোভ করেন কয়েকজন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আবাসিক সার্জন ডা. অভি, ডা. নজরুল, ইউরোলজি বিভাগের ডা. আসাদ, ডা. নাহিদ এবং ঢামেকের ৭৩তম ব্যাচের ছাত্রদল নেতা ডা. মিশকাতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এ পরিস্থিতির পেছনে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এএসপি) ডা. মুহাম্মদ জাবেদ আহমেদের ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, সরকারি বদলি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হলেও ব্যক্তিস্বার্থে জোরপ্রয়োগ করে কোনো সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরিচালক আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন ডা. জাবেদ এবং তার সুবিধার জন্য তার বিশ্বস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি করা হচ্ছে।

ডা. মুহাম্মদ জাবেদ আহমেদ কিছুদিন আগে ঢামেক হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২৭তম বিসিএসের সুপারিশপ্রাপ্ত এএসপি হিসেবে সারদায় প্রশিক্ষণে যুক্ত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে মোজাম্মেল হকের পক্ষের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, একজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার বদলি ঠেকানোর পেছনে পরিচালকের স্বার্থ রয়েছে। তারা পরিচালকের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পরিচালকের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি দাবি করেছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বদলি হওয়া কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। কোনো পক্ষ যেন ব্যক্তিগত স্বার্থে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সে বিষয়েই তিনি আপত্তি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, টেন্ডার বাণিজ্য ও কর্মকর্তাদের বদলির পেছনে ভূমিকা রাখার অভিযোগ ওঠা ডা. মুহাম্মদ জাবেদ আহমেদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

রেজাউল ইসলামের বদলি কেন করা হয়েছিল এবং মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে কেন সেই আদেশ বাতিল করা হলো—এ প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি ও বাতিলের ঘটনাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর