পল্লবীতে মাদকের ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গুলি, ল্যাংড়া রুবেলসহ গ্রেপ্তার ৫
রাজধানীর পল্লবীতে মাদক বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় কুখ্যাত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘ল্যাংড়া’ রুবেলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, এক হাজার পিস ইয়াবা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত দুটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হামিদ খান ওরফে মাখন, ‘ল্যাংড়া’ রুবেল, তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পা, পারভেজ ও রাব্বী।
ডিবি জানায়, গত ৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় ইমনের চায়ের দোকানের সামনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে আলমগীর নামে এক ব্যক্তি পেটে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। একই ঘটনায় জোসনা নামে এক পথচারী নারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
এ ঘটনায় আলমগীরের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পল্লবী থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করা হয়। পরে ডিবির মিরপুর বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোলাগুলিতে ব্যবহৃত একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি শনাক্ত করা হয়। এরপর গাড়িটির মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে হামিদ জানান, গাড়িটি তার নামে নিবন্ধিত হলেও এর প্রকৃত মালিক ‘ল্যাংড়া’ রুবেল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রুবেলের সহযোগী পারভেজ ও রাব্বীকে কালশী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে রুবেলের ব্যবহৃত একটি সাদা টয়োটা ভক্সি গাড়ি উদ্ধার করা হয়। গাড়িটির ভেতর থেকে পাওয়া যায় এক হাজার পিস ইয়াবা।
পরে পারভেজ ও রাব্বীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপনগর থানার ইস্টার্ন হাউজিংয়ের পাশের বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি। সেখান থেকে ‘ল্যাংড়া’ রুবেল ও তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
ডিবির কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মাদকদ্রব্য বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে ‘ল্যাংড়া’ রুবেল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে আলমগীরের বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরেই পল্লবীতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, আলমগীর নিজেও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এই মামলায় তিনি ভুক্তভোগী।
তিনি বলেন, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করা হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তার অন্য কোনো পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ডিবি প্রধান আরও জানান, ‘ল্যাংড়া’ রুবেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মাদক কারবার থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করেছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) তথ্য পাঠানো হবে।
তিনি জানান, রুবেলের নামে গাড়িগুলো নিবন্ধিত না থাকলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গাড়িগুলো রুবেলই কিনে দিয়েছেন। হেমায়েতপুরে রুবেলের বসবাসের বাড়ি নিয়েও তদন্ত চলছে।
ডিবির ভাষ্য, রুবেলের দৃশ্যমান অন্য কোনো আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে মাদক কারবারকেই তার আয়ের প্রধান উৎস বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান জানান, গোলাগুলির সময় গাড়িতে বাপ্পাসহ আরও কয়েকজন ছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলার পাশাপাশি অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: