infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

দুই বছর পর নতুন প্রধান পেল হামাস, গাজা সংকট ও শান্তি আলোচনায় কী পরিবর্তন আসতে পারে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ১৪:০৭ পিএম

প্রায় দুই বছর পর নতুন নেতৃত্ব পেল ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। সংগঠনটির নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন খলিল আল-হাইয়া। ২০২৪ সালে সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন পাঁচ সদস্যের একটি নেতৃত্ব পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল হামাস। নতুন প্রধান নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই নেতৃত্ব সংকটের অবসান হলো।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, নেতৃত্ব নির্বাচনে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সাবেক প্রধান খালেদ মেশালকে পরাজিত করেন খলিল আল-হাইয়া। মোট ৬৯টি ভোটের মধ্যে আল-হাইয়া পান ৩৫টি ভোট।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নেতৃত্ব হামাসের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনা এবং গাজা সংকটের সমাধান নিয়ে একটি নির্দিষ্ট নেতৃত্বের অধীনে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

খলিল আল-হাইয়াকে হামাসের একজন বাস্তববাদী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গাজা যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় নিয়ে আলোচনায় তিনি হামাসের অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি ছিলেন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনাতেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও আলোচনার টেবিলে আল-হাইয়ার বাস্তববাদী অবস্থান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক সমাধানের পথকে সহজ করতে পারে।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (ইসিএফআর)-এর ভিজিটিং ফেলো মুহাম্মদ শেহাদা বলেন, আল-হাইয়াকে ইরানপন্থি হিসেবে দেখা হলেও তিনি কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও সরাসরি তার সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী ছিলেন।

হামাসের অভ্যন্তরে খলিল আল-হাইয়া ‘চার শহীদের বাবা’ নামে পরিচিত। তার চার ছেলে বিভিন্ন সময়ে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন ৭ অক্টোবরের ঘটনার আগেই নিহত হন। অপর দুজনও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান।

গাজায় জন্ম নেওয়া আল-হাইয়া দীর্ঘদিন হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ইসমাইল হানিয়াহ ও ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর সংগঠনের অভ্যন্তরে তার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। যুদ্ধকালীন সময়ে দোহায় অনুষ্ঠিত একাধিক যুদ্ধবিরতি আলোচনায়ও তিনি হামাসের মুখ্য আলোচকের দায়িত্ব পালন করেন।

ইসিএফআরের জ্যেষ্ঠ নীতি বিশ্লেষক হিউ লাভাটের মতে, আল-হাইয়ার নির্বাচন হামাসের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় না। তিনি বলেন, আল-হাইয়া মূলত ধারাবাহিকতার প্রতিনিধি। সিনওয়ারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন তিনি নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যদিও তাকে কঠোরপন্থি হিসেবে দেখা হয়, তবুও যুদ্ধবিরতি আলোচনায় তিনি বাস্তববাদী ভূমিকা পালন করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের নতুন নেতৃত্ব সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট করছে যে গাজাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এখনো হামাসের মূল কৌশল হিসেবে বহাল রয়েছে।

কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক খালেদ আল-হরুব বলেন, আল-হাইয়ার নেতৃত্বে হামাস আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে— এমন ধারণার ভিত্তি নেই। বরং এই নির্বাচন দেখায়, বড় ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পরও সংগঠনটির সাংগঠনিক কাঠামো কার্যকর রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু এখনো গাজাই।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


দুই বছর পর নতুন প্রধান পেল হামাস, গাজা সংকট ও শান্তি আলোচনায় কী পরিবর্তন আসতে পারে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ১৪:০৭ পিএম

প্রায় দুই বছর পর নতুন নেতৃত্ব পেল ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। সংগঠনটির নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন খলিল আল-হাইয়া। ২০২৪ সালে সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন পাঁচ সদস্যের একটি নেতৃত্ব পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল হামাস। নতুন প্রধান নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই নেতৃত্ব সংকটের অবসান হলো।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, নেতৃত্ব নির্বাচনে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সাবেক প্রধান খালেদ মেশালকে পরাজিত করেন খলিল আল-হাইয়া। মোট ৬৯টি ভোটের মধ্যে আল-হাইয়া পান ৩৫টি ভোট।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নেতৃত্ব হামাসের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনা এবং গাজা সংকটের সমাধান নিয়ে একটি নির্দিষ্ট নেতৃত্বের অধীনে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

খলিল আল-হাইয়াকে হামাসের একজন বাস্তববাদী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গাজা যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় নিয়ে আলোচনায় তিনি হামাসের অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি ছিলেন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনাতেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও আলোচনার টেবিলে আল-হাইয়ার বাস্তববাদী অবস্থান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক সমাধানের পথকে সহজ করতে পারে।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (ইসিএফআর)-এর ভিজিটিং ফেলো মুহাম্মদ শেহাদা বলেন, আল-হাইয়াকে ইরানপন্থি হিসেবে দেখা হলেও তিনি কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও সরাসরি তার সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী ছিলেন।

হামাসের অভ্যন্তরে খলিল আল-হাইয়া ‘চার শহীদের বাবা’ নামে পরিচিত। তার চার ছেলে বিভিন্ন সময়ে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন ৭ অক্টোবরের ঘটনার আগেই নিহত হন। অপর দুজনও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান।

গাজায় জন্ম নেওয়া আল-হাইয়া দীর্ঘদিন হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ইসমাইল হানিয়াহ ও ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর সংগঠনের অভ্যন্তরে তার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। যুদ্ধকালীন সময়ে দোহায় অনুষ্ঠিত একাধিক যুদ্ধবিরতি আলোচনায়ও তিনি হামাসের মুখ্য আলোচকের দায়িত্ব পালন করেন।

ইসিএফআরের জ্যেষ্ঠ নীতি বিশ্লেষক হিউ লাভাটের মতে, আল-হাইয়ার নির্বাচন হামাসের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় না। তিনি বলেন, আল-হাইয়া মূলত ধারাবাহিকতার প্রতিনিধি। সিনওয়ারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন তিনি নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যদিও তাকে কঠোরপন্থি হিসেবে দেখা হয়, তবুও যুদ্ধবিরতি আলোচনায় তিনি বাস্তববাদী ভূমিকা পালন করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের নতুন নেতৃত্ব সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট করছে যে গাজাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এখনো হামাসের মূল কৌশল হিসেবে বহাল রয়েছে।

কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক খালেদ আল-হরুব বলেন, আল-হাইয়ার নেতৃত্বে হামাস আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে— এমন ধারণার ভিত্তি নেই। বরং এই নির্বাচন দেখায়, বড় ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পরও সংগঠনটির সাংগঠনিক কাঠামো কার্যকর রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু এখনো গাজাই।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর