infoamaderdin@gmail.com শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

উপসাগরীয় সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৯:০৭ পিএম

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান নিরাপত্তা সংকট ও আঞ্চলিক অস্থিরতা মোকাবিলায় পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইসলামাবাদের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেছে তেহরান।

পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদ্দাম সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (সিআইএসএস) আয়োজিত ‘পাকিস্তান-ইরান সম্পর্ক এবং পশ্চিম এশিয়ায় কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন।

রেজা আমিরি মোঘাদ্দাম বলেন, পাকিস্তান আঞ্চলিক সংলাপ এগিয়ে নেওয়া এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় গঠনমূলক কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছে। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও গবেষকরা অংশ নেন। তারা ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

সিআইএসএসের নির্বাহী পরিচালক রাষ্ট্রদূত আলী সরওয়ার নাকভি বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা উপসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি, সমুদ্র নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে টেকসই সংলাপ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খান বলেন, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে পাকিস্তানের ধারাবাহিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক দেশটির কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি করেছে।

ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত মইনুল হক বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানি জনগণের জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিস্থাপকতা সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. নাজিশ মাহমুদ বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় পাকিস্তান ও ইরানের সহযোগিতা বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এদিকে অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল ফয়সাল শাহ সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক সমুদ্র নিরাপত্তার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

সিআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. বিলাল জুবায়ের বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি পাকিস্তান ও ইরানকে আগের তুলনায় আরও ঘনিষ্ঠ করেছে। দুই দেশের অভিন্ন সীমান্ত, অর্থনৈতিক আন্তর্নির্ভরশীলতা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিন্ন উদ্বেগ ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

এর আগে, চলতি মাসের ২১ জুলাই ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তান সফর করেন। সফরকালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষ নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে।

ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


উপসাগরীয় সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৯:০৭ পিএম

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান নিরাপত্তা সংকট ও আঞ্চলিক অস্থিরতা মোকাবিলায় পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইসলামাবাদের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেছে তেহরান।

পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদ্দাম সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (সিআইএসএস) আয়োজিত ‘পাকিস্তান-ইরান সম্পর্ক এবং পশ্চিম এশিয়ায় কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন।

রেজা আমিরি মোঘাদ্দাম বলেন, পাকিস্তান আঞ্চলিক সংলাপ এগিয়ে নেওয়া এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় গঠনমূলক কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছে। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও গবেষকরা অংশ নেন। তারা ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

সিআইএসএসের নির্বাহী পরিচালক রাষ্ট্রদূত আলী সরওয়ার নাকভি বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা উপসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি, সমুদ্র নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে টেকসই সংলাপ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খান বলেন, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে পাকিস্তানের ধারাবাহিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক দেশটির কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি করেছে।

ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত মইনুল হক বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানি জনগণের জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিস্থাপকতা সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. নাজিশ মাহমুদ বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় পাকিস্তান ও ইরানের সহযোগিতা বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এদিকে অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল ফয়সাল শাহ সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক সমুদ্র নিরাপত্তার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

সিআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. বিলাল জুবায়ের বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি পাকিস্তান ও ইরানকে আগের তুলনায় আরও ঘনিষ্ঠ করেছে। দুই দেশের অভিন্ন সীমান্ত, অর্থনৈতিক আন্তর্নির্ভরশীলতা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিন্ন উদ্বেগ ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

এর আগে, চলতি মাসের ২১ জুলাই ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তান সফর করেন। সফরকালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষ নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে।

ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর