গ্যাস সংকট ও সঞ্চালন লাইনের ত্রুটিতে মাধবপুরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, দুর্ভোগে জনজীবন
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলাজুড়ে গ্যাস সংকট এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ত্রুটির কারণে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার গভীর রাত থেকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চলায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. ইউছুব আলী জানান, শুক্রবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে ভুলতা গ্রিডের কাছে ভুলতা-নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের ওয়াই ফেজের কন্ডাক্টর ছিঁড়ে যায়। এর ফলে নরসিংদী গ্রিডে বিকল্পভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে শাহজীবাজার গ্রিডে স্বাভাবিক চাহিদার মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি স্প্যান পরিবর্তনের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।
বাংলাদেশ হার্ডলাইন গ্রুপের উপব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান বলেন, শুক্রবার রাত থেকেই গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে গ্রাহকরা স্বাভাবিকভাবে গ্যাস পাচ্ছেন না। গ্যাস সংকটের সঙ্গে তীব্র লোডশেডিং যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
শাহজীবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক সুনীল দাস জানান, গ্যাসের সংকটের কারণে ৩৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিট থেকে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মহেশখালীর একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায়।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি হবিগঞ্জেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মইন উদ্দিন মনির বলেন, বিদ্যুতের যন্ত্রণায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ঘরে থাকা অসুস্থ রোগীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা সাইফুর রহমান রাসেল বলেন, শুক্রবার রাত থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কখন বিদ্যুৎ আসে, আবার কখন চলে যায়—তার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। এতে দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নোয়াপাড়া জোনাল কার্যালয় থেকে মাইকিং করে গ্রাহকদের জানানো হচ্ছে, সঞ্চালন লাইনের ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: