infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে পাল্টা হামলাও বন্ধ রাখবে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৩:০৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে, ততদিন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে না ইরান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ও রোববার রাতে ইরানের কোনো সামরিক বা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালায়নি ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর আগে টানা ১৩ দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চলছিল।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতি অনুসরণ করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক অভিযান বন্ধ রাখে, তাহলে ইরানও পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকবে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে বার্তা পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চলমান সংঘাতে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে তেহরান। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়ে থাকে। পরে ইরান ঘোষণা দেয়, তাদের ভূখণ্ডসংলগ্ন এই প্রণালি ব্যবহার করে যেসব দেশ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করবে, তাদের টোল দিতে হবে।

ইরানের এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রাষ্ট্র। এ অবস্থার মধ্যেই দুই সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, হামলাটি চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ওই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে টানা ১৩ দিনের সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিকে হামলায় সাময়িক বিরতির বিষয়ে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সদস্য মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ সানডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দিতে চান। সে কারণেই সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে হামলা বিরতি কতদিন স্থায়ী হবে বা দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

সূত্র: রয়টার্স

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে পাল্টা হামলাও বন্ধ রাখবে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৩:০৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে, ততদিন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে না ইরান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ও রোববার রাতে ইরানের কোনো সামরিক বা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালায়নি ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর আগে টানা ১৩ দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চলছিল।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতি অনুসরণ করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক অভিযান বন্ধ রাখে, তাহলে ইরানও পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকবে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে বার্তা পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চলমান সংঘাতে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে তেহরান। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়ে থাকে। পরে ইরান ঘোষণা দেয়, তাদের ভূখণ্ডসংলগ্ন এই প্রণালি ব্যবহার করে যেসব দেশ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করবে, তাদের টোল দিতে হবে।

ইরানের এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রাষ্ট্র। এ অবস্থার মধ্যেই দুই সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, হামলাটি চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ওই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে টানা ১৩ দিনের সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিকে হামলায় সাময়িক বিরতির বিষয়ে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সদস্য মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ সানডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দিতে চান। সে কারণেই সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে হামলা বিরতি কতদিন স্থায়ী হবে বা দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

সূত্র: রয়টার্স

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর