infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৪:০৭ পিএম

জাতীয় সংসদ ভবনের বিদ্যমান সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়ন এবং নতুন প্রযুক্তি প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সভায় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমকে আরও উন্নত, নির্ভরযোগ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক ব্যবস্থার ওপর বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়া হয়। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য কারিগরি বিকল্প, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

উপস্থাপনায় আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য, কার্যকারিতা এবং সংসদীয় অধিবেশন নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা এ বিষয়ে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তর ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার প্রযুক্তিগত জটিলতার ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে শব্দযন্ত্রের বিভ্রাটের কারণে কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পরদিনও হেডফোন ও সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যা নিয়ে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এরপর ৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে আবারও শব্দযন্ত্রে বিভ্রাট দেখা দেয়। সেদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, তাঁর নিজের শব্দযন্ত্রও কাজ করছিল না। পরে যন্ত্র মেরামত এবং নামাজের বিরতির জন্য অধিবেশন প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হয়।

শব্দযন্ত্রের এসব বিভ্রাটের কারণ অনুসন্ধানে সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের ‘সাউন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এসআইএস)’ পরিচালনা, মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জাহিদুর রহিম জোয়ারদার, তাঁর প্রতিষ্ঠান কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রকৌশলীর যোগসাজশে সংসদের এসআইএস প্রকল্পের নামে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট কেনাকাটার মাধ্যমেও শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানাধীন।

সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, নিরবচ্ছিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় সংসদ, সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়ন, তারেক রহমান, সংসদ ভবন, গণপূর্ত অধিদপ্তর

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


সংসদের সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৪:০৭ পিএম

জাতীয় সংসদ ভবনের বিদ্যমান সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়ন এবং নতুন প্রযুক্তি প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সভায় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমকে আরও উন্নত, নির্ভরযোগ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক ব্যবস্থার ওপর বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়া হয়। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য কারিগরি বিকল্প, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

উপস্থাপনায় আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য, কার্যকারিতা এবং সংসদীয় অধিবেশন নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা এ বিষয়ে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তর ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার প্রযুক্তিগত জটিলতার ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে শব্দযন্ত্রের বিভ্রাটের কারণে কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পরদিনও হেডফোন ও সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যা নিয়ে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এরপর ৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে আবারও শব্দযন্ত্রে বিভ্রাট দেখা দেয়। সেদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, তাঁর নিজের শব্দযন্ত্রও কাজ করছিল না। পরে যন্ত্র মেরামত এবং নামাজের বিরতির জন্য অধিবেশন প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হয়।

শব্দযন্ত্রের এসব বিভ্রাটের কারণ অনুসন্ধানে সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের ‘সাউন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এসআইএস)’ পরিচালনা, মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জাহিদুর রহিম জোয়ারদার, তাঁর প্রতিষ্ঠান কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রকৌশলীর যোগসাজশে সংসদের এসআইএস প্রকল্পের নামে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট কেনাকাটার মাধ্যমেও শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানাধীন।

সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, নিরবচ্ছিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় সংসদ, সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়ন, তারেক রহমান, সংসদ ভবন, গণপূর্ত অধিদপ্তর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর