প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব ছাড়লেন ট্রাম্পের বিশ্বস্ত সহযোগী লেভিট
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব ছাড়ছেন ক্যারোলাইন লেভিট। পরিবার ও দুই ছোট সন্তানের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চলতি মাসের শেষ দিকে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর সিএনএন
বুধবার (১২ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেভিটকে ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন’ উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব ছাড়ার পরও লেভিট তাঁর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন।
২৮ বছর বয়সী লেভিট হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে কনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি। গত মে মাসে দ্বিতীয়বারের মতো মা হন তিনি। তাঁর দুই বছরের একটি ছেলেও রয়েছে।
মে মাসে কন্যাসন্তান জন্মের পর মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন লেভিট। জুলাইয়ে তিনি আবার কাজে যোগ দেন।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে নিজের এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন লেভিট। তিনি জানান, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করা তাঁর জীবনের সবচেয়ে সম্মানের ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। তবে মেয়ের জন্মের পর তিনি অনুভব করছেন, এই কাজের যে নিরবচ্ছিন্ন সময়, শক্তি ও মনোযোগ প্রয়োজন, তা দেওয়ার পাশাপাশি সেরা মা সম্ভব নয়।
এ কারণেই শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লেভিট। তিনি এটিকে জীবনের একটি কঠিন তবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করে মিশ্র অনুভূতির কথার প্রকাশ করেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার আগে থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল লেভিটের। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি জুনিয়র পদে কাজ করেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর অন্যতম বিশ্বস্ত মুখপাত্র হয়ে ওঠেন। প্রেসিডেন্ট ও তাঁর নীতির পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের কারণে লেভিটের আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়।
২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন লেভিট। রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হলেও সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাসের কাছে হেরে যান।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত লেভিটের বিদায়ে প্রেস টিমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। লেভিটের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা এখনো ঘোষণা করেননি তিনি।
উল্লেখ্য, লেভিটের বিদায় এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যে তাঁর জনসমর্থন কমেছে। অধিকাংশ আমেরিকান মনে করছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর প্রতি ট্রাম্প যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছেন না। এরই মধ্যে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিন মাসেরও কম সময় বাকি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: