infoamaderdin@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিক্ষোভ-সংঘর্ষের আশঙ্কা, বাংলাদেশ ভ্রমণে কানাডার উচ্চমাত্রার সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ১৩ আগষ্ট ২০২৬ ১৪:০৮ পিএম

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় উচ্চমাত্রার ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে কানাডা সরকার। দেশটির সরকারি ভ্রমণ পরামর্শে বাংলাদেশ ভ্রমণকারী নাগরিকদের উচ্চমাত্রায় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কানাডা সরকারের গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত হালনাগাদ ভ্রমণ পরামর্শে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো উচ্চমাত্রায়। বিচারিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের পূর্বসতর্কতা ছাড়াই নতুন করে বিক্ষোভ ও নাগরিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

কানাডার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সহিংস সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। সহিংসতা বাড়ার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। দেশটির সরকারি সতর্কতায় দেশীয়ভাবে তৈরি বিস্ফোরক বা ককটেল বিস্ফোরণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে অবস্থানরত কানাডীয় নাগরিকদের প্রধান শহরগুলোর কেন্দ্রস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এবং যান চলাচলে বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা তল্লাশিচৌকিতে পরিচয়পত্র দেখানো, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ এবং সব ধরনের বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক সমাবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কানাডার সতর্কবার্তায় ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন ও বাংলাদেশ সচিবালয়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুর, মতিঝিল, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, উত্তরা, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শাহবাগ ও কারওয়ান বাজার এলাকায় বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা ও সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে রাজনৈতিক সমাবেশ সহিংস রূপ নিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক গোষ্ঠী, বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের সময় বিস্ফোরক ডিভাইস ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে। হোটেল, সিনেমা হল, গণপরিবহন ও রেলস্টেশনের মতো জনবহুল স্থানেও ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস ব্যবহার করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেছে কানাডা।

এ ছাড়া বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের হুমকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেছে দেশটি। বিশেষ করে ঢাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে কানাডার ভ্রমণ পরামর্শে বলা হয়েছে, উগ্রপন্থীরা অতীতে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস ও আত্মঘাতী বোমারু ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে এবং পশ্চিমা নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ২০২০ সালের পর এ ধরনের হামলা কমলেও ছোট আকারের হামলা ও হামলার চেষ্টা এখনো ঘটছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সরকারি ভবন, উপাসনালয়, বিমানবন্দর ও পরিবহনকেন্দ্র, পর্যটনকেন্দ্র, রেস্তোরাঁ, কফিশপ, শপিং সেন্টার, বাজার, হোটেল, পুলিশ স্টেশন এবং বিদেশিদের যাতায়াত রয়েছে এমন জনসমাগমস্থলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কানাডার সতর্কতা আরও কঠোর। ওই অঞ্চলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতা, অপহরণ এবং বিচ্ছিন্ন জাতিগত সংঘর্ষের গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে কানাডীয় নাগরিকদের সেখানে সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অবরোধ ও হরতালের সময় ভ্রমণ না করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাদ্য, পানি ও জ্বালানি মজুত রাখার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সাধারণ ধর্মঘটের সময় ঢাকার বাইরে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছে কানাডা সরকার।

ভ্রমণ সতর্কতায় বাংলাদেশে সহিংস অপরাধ, অপহরণ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, ছোটখাটো অপরাধ, নারী ভ্রমণকারীদের হয়রানি এবং ক্রেডিট কার্ড ও এটিএম প্রতারণার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনিয়মিত বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং দুর্বল পর্যটন অবকাঠামোর বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সড়ক ও গণপরিবহন নিয়েও সতর্ক করেছে কানাডা। দেশটির ভ্রমণ পরামর্শে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সড়কের অবস্থা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল। শহরাঞ্চলে যান চলাচল বিশৃঙ্খল এবং সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হওয়ার ঘটনা সাধারণ। বাস, ট্রেন ও ফেরির নিরাপত্তার মানও দুর্বল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া উপকূলীয় জলসীমায় জলদস্যুদের হামলা এবং জাহাজে সশস্ত্র ডাকাতির ঝুঁকির কথাও কানাডার ভ্রমণ সতর্কতায় তুলে ধরা হয়েছে।

কানাডার এই হালনাগাদ ভ্রমণ পরামর্শের ফলে বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে দেশটির নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে আরও সতর্ক অবস্থান নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি, জনসমাগম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

 

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


বিক্ষোভ-সংঘর্ষের আশঙ্কা, বাংলাদেশ ভ্রমণে কানাডার উচ্চমাত্রার সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ আগষ্ট ২০২৬ ১৪:০৮ পিএম

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় উচ্চমাত্রার ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে কানাডা সরকার। দেশটির সরকারি ভ্রমণ পরামর্শে বাংলাদেশ ভ্রমণকারী নাগরিকদের উচ্চমাত্রায় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কানাডা সরকারের গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত হালনাগাদ ভ্রমণ পরামর্শে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো উচ্চমাত্রায়। বিচারিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের পূর্বসতর্কতা ছাড়াই নতুন করে বিক্ষোভ ও নাগরিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

কানাডার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সহিংস সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। সহিংসতা বাড়ার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। দেশটির সরকারি সতর্কতায় দেশীয়ভাবে তৈরি বিস্ফোরক বা ককটেল বিস্ফোরণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে অবস্থানরত কানাডীয় নাগরিকদের প্রধান শহরগুলোর কেন্দ্রস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এবং যান চলাচলে বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা তল্লাশিচৌকিতে পরিচয়পত্র দেখানো, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ এবং সব ধরনের বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক সমাবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কানাডার সতর্কবার্তায় ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন ও বাংলাদেশ সচিবালয়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুর, মতিঝিল, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, উত্তরা, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শাহবাগ ও কারওয়ান বাজার এলাকায় বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা ও সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে রাজনৈতিক সমাবেশ সহিংস রূপ নিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক গোষ্ঠী, বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের সময় বিস্ফোরক ডিভাইস ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে। হোটেল, সিনেমা হল, গণপরিবহন ও রেলস্টেশনের মতো জনবহুল স্থানেও ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস ব্যবহার করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেছে কানাডা।

এ ছাড়া বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের হুমকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেছে দেশটি। বিশেষ করে ঢাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে কানাডার ভ্রমণ পরামর্শে বলা হয়েছে, উগ্রপন্থীরা অতীতে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস ও আত্মঘাতী বোমারু ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে এবং পশ্চিমা নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ২০২০ সালের পর এ ধরনের হামলা কমলেও ছোট আকারের হামলা ও হামলার চেষ্টা এখনো ঘটছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সরকারি ভবন, উপাসনালয়, বিমানবন্দর ও পরিবহনকেন্দ্র, পর্যটনকেন্দ্র, রেস্তোরাঁ, কফিশপ, শপিং সেন্টার, বাজার, হোটেল, পুলিশ স্টেশন এবং বিদেশিদের যাতায়াত রয়েছে এমন জনসমাগমস্থলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কানাডার সতর্কতা আরও কঠোর। ওই অঞ্চলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতা, অপহরণ এবং বিচ্ছিন্ন জাতিগত সংঘর্ষের গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে কানাডীয় নাগরিকদের সেখানে সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অবরোধ ও হরতালের সময় ভ্রমণ না করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাদ্য, পানি ও জ্বালানি মজুত রাখার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সাধারণ ধর্মঘটের সময় ঢাকার বাইরে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছে কানাডা সরকার।

ভ্রমণ সতর্কতায় বাংলাদেশে সহিংস অপরাধ, অপহরণ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, ছোটখাটো অপরাধ, নারী ভ্রমণকারীদের হয়রানি এবং ক্রেডিট কার্ড ও এটিএম প্রতারণার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনিয়মিত বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং দুর্বল পর্যটন অবকাঠামোর বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সড়ক ও গণপরিবহন নিয়েও সতর্ক করেছে কানাডা। দেশটির ভ্রমণ পরামর্শে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সড়কের অবস্থা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল। শহরাঞ্চলে যান চলাচল বিশৃঙ্খল এবং সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হওয়ার ঘটনা সাধারণ। বাস, ট্রেন ও ফেরির নিরাপত্তার মানও দুর্বল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া উপকূলীয় জলসীমায় জলদস্যুদের হামলা এবং জাহাজে সশস্ত্র ডাকাতির ঝুঁকির কথাও কানাডার ভ্রমণ সতর্কতায় তুলে ধরা হয়েছে।

কানাডার এই হালনাগাদ ভ্রমণ পরামর্শের ফলে বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে দেশটির নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে আরও সতর্ক অবস্থান নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি, জনসমাগম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

 

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর